Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
সাবধান! অল্প বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি: বাঁচতে মানুন ৫ নিয়ম
একটা সময় মনে করা হতো স্ট্রোক কেবল বয়স্কদের রোগ। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক উপাত্ত এই ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছে। বর্তমানে ৫০ বছর বয়স হওয়ার আগেই অনেক যুবক-যুবতী এই প্রাণঘাতী রোগের শিকার হচ্ছেন। মূলত প্রাত্যহিক অভ্যাসের নেতিবাচক পরিবর্তন এবং খাদ্যাভ্যাসের বিশৃঙ্খলা তরুণ সমাজকে স্ট্রোকের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কেন যুবসমাজের মধ্যে বাড়ছে স্ট্রোকের প্রকোপ?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রার বেশ কিছু ক্ষতিকর দিক তরুণদের এই মরণঝুঁকির প্রধান কারণ:
স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপের বিস্তার: অতিরিক্ত শারীরিক ওজন এবং উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এখন অল্প বয়সীদের মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের একটি বিশাল অংশ এখন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, যা স্ট্রোকের পথ প্রশস্ত করছে।
অসচেতন খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক শ্রমের অনীহা: ফাস্ট ফুড এবং প্রসেসড ফুডের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি শরীরের ক্ষতি করছে। এর সাথে শারীরিক ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের অভাব হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে।
মাদক ও ধূমপানের প্রভাব: নিয়মিত ধূমপান ও মদ্যপানের ফলে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে রক্তে জমাট বাঁধার (Blood Clot) প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
মানসিক অস্থিরতা ও উদ্বেগ: ক্যারিয়ার বা ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং দুশ্চিন্তা পরোক্ষভাবে এই রোগের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
অন্যান্য শারীরিক জটিলতা: জন্মগতভাবে হার্টে কোনো ছিদ্র বা ত্রুটি থাকা এবং গর্ভাবস্থায় কিংবা প্রসব-পরবর্তী নানা শারীরিক সমস্যাও অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রোকের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সাইলেন্ট স্ট্রোক শনাক্তকরণ: আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির উৎকর্ষে এখন এমআরআই-এর মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র বা ‘সাইলেন্ট স্ট্রোক’ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে অজানাই থেকে যেত।
ঝুঁকি কমাতে জীবনযাত্রায় আনুন ৫টি পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতাই হতে পারে এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচার মূল চাবিকাঠি। সুস্থ থাকতে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
১. পুষ্টিকর খাবারের তালিকা: পাতে রাখুন পর্যাপ্ত সবুজ শাকসবজি ও তাজা ফলমূল। এড়িয়ে চলুন অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং চর্বিযুক্ত খাবার।
২. সক্রিয় থাকা: অলসতা ত্যাগ করে প্রতিদিন অন্তত আধঘণ্টা দ্রুত হাঁটা অথবা হালকা শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. মানসিক প্রশান্তি ও ঘুম: স্ট্রেস বা চাপ কমাতে নিয়মিত ধ্যান (Meditation) বা যোগব্যায়াম করুন। শরীরের অভ্যন্তরীণ মেরামতের জন্য দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৪. নেশা বর্জন: শরীরকে বিষমুক্ত রাখতে ধূমপান ও মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। এটি রক্তনালীর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
৫. নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ: শরীরের অবস্থা বুঝতে মাঝে মাঝেই রক্তচাপ, সুগার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
জরুরি সতর্কবার্তা
স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত অতি মূল্যবান। যদি হুট করে শরীরের কোনো এক দিক অবশ হয়ে আসে, কথা বলতে সমস্যা হয়, মুখ একদিকে বেঁকে যায় কিংবা প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হয়—তবে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে সেবা নিন। সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তই পারে একটি প্রাণ বাঁচাতে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ৮ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনার ধুম
- আপনার ফান্ডের কী হবে? বিএসইসির বড় সিদ্ধান্ত
- শেয়ারবাজারে আসছে বড় পরিবর্তন
- ৫ কোম্পানির বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা: আসছে ডিভিডেন্ড ও ইপিএস
- বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিএসই সতর্কবার্তা
- ধেয়ে আসছে ‘সুপার এল নিনো’: ১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার আশঙ্কা
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন
- সময় বাড়ানোর আগে ব্রোকারদের ‘আমলনামা’ চায় বিএসইসি
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬)
- আবহাওয়ার খবর: তীব্র গরমে বড় সুখবর, ৪ বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস
- দলে ফিরলেন সাব্বির-সৌম্য
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট (১৩এপ্রিল ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:পেশোয়ার বনাম মুলতান
- আর্জেন্টিনার কপালে চিন্তার ভাঁজ: ৩ তারকার চোট!
- আজকের খেলার সময়সূচি:অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা