Md Razib Ali
Senior Reporter
রোজায় ইউরিন ইনফেকশন নিয়ে ভয়? মুক্তি পেতে পুষ্টিবিদের বিশেষ টিপস
সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র রমজান এখন শেষের দিকে। ভোরে সাহরি থেকে শুরু করে গোধূলিলগ্নে ইফতার পর্যন্ত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মুসলিম উম্মাহ রোজা পালন করছেন। তবে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকার এই দিনগুলোতে নারীদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা তথা ইউরিন ইনফেকশন বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের (ইউটিআই) ঝুঁকি লক্ষ্য করা যায়। এই সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদ।
কেন বাড়ছে সংক্রমণের প্রবণতা?
রাজধানীর ফরাজী হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান জান্নাতুল ফেরদৌস এ প্রসঙ্গে জানান, রোজার সময়ে রুটিন পরিবর্তনের কারণে অনেক নারীই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করেন না। তিনি বলেন, "দীর্ঘক্ষণ পানি পান না করা এবং বিশেষ করে প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাসের ফলে মূত্রনালিতে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটে। মূলত শরীরে পানির স্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবই এই সংক্রমণের মূল কারণ।"
লক্ষণ দেখে সতর্ক হোন
শরীরে ইনফেকশন দানা বাঁধলে কিছু উপসর্গ দেখা দেয় যা অবহেলা করা উচিত নয়। জান্নাতুল ফেরদৌসের মতে, যদি প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া হয়, ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয় কিংবা প্রস্রাবের রং ও গন্ধে পরিবর্তন আসে, তবে সতর্ক হতে হবে। এছাড়া তলপেটে ব্যথা এবং ক্ষেত্রবিশেষে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া বা জ্বর আসাও এই সমস্যার লক্ষণ।
প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা
ইউরিন ইনফেকশন থেকে দূরে থাকতে ইফতার ও সাহরির মধ্যবর্তী সময়ে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার দেওয়া বিশেষ টিপসগুলো হলো:
পানির ভারসাম্য রক্ষা: ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ২ থেকে ২.৫ লিটার পানি পান নিশ্চিত করুন। তবে একবারে বেশি পানি না খেয়ে কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে পান করা বেশি কার্যকর।
বর্জনীয় খাবার: চিনিযুক্ত পানীয় বা কোল্ড ড্রিংকস এড়িয়ে চলাই উত্তম। পরিবর্তে তাজা ফলের রস বা লেবুর শরবত বেছে নিন।
হাইজিন ও সতর্কতা: অলসতা বা কাজের চাপে কখনো প্রস্রাব চেপে রাখা যাবে না। পাশাপাশি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বা হাইজিন মেইনটেইন করার বিষয়ে আপসহীন থাকতে হবে।
পাতে রাখুন এই খাবারগুলো
রমজানের ইফতারে ভাজাপোড়া কমিয়ে পুষ্টিকর ও জলীয় খাবার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। খাদ্যতালিকায় সবুজ শাক-সবজি, রঙিন ফলমূল, ডাবের পানি, শসা ও তরমুজ রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া দেহের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে এবং সংক্রমণ রুখতে ‘প্রোবায়োটিক’ হিসেবে টক দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস।
বিশেষ সতর্কতা
পরিশেষে জান্নাতুল ফেরদৌস সতর্ক করে বলেন, ঘরোয়া সচেতনতার পরও যদি তীব্র ব্যথা বা জ্বর দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রমজানে শরীরের সঠিক আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত সতর্কতাই পারে এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি দিতে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- আপনার মাথায় কত টাকার সরকারি ঋণ? সংসদে মিলল সুনির্দিষ্ট হিসাব
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- তাপমাত্রা নিয়ে যা বলছে আবহাওয়া অফিস
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান
- সোনা ও রুপার গহনার নতুন দাম নির্ধারণ