ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় বেতন আটকে রাখলে বা মালিক খারাপ ব্যবহার করলে যা করবেন

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ১৭:২৪:০৭
মালয়েশিয়ায় বেতন আটকে রাখলে বা মালিক খারাপ ব্যবহার করলে যা করবেন

মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ প্রতিনিয়ত এক সমস্যায় পড়েন — নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়া, কম বেতন দেওয়া, কিংবা নিয়োগকর্তার অসদাচরণ। অনেকেই জানেন না যে এসব সমস্যার জন্য মালয়েশিয়ার আইনেই নির্দিষ্ট প্রতিকারের ব্যবস্থা রাখা আছে, যা বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের শ্রমিকই ব্যবহার করতে পারেন।

আইন অনুযায়ী, একটি মাসের বেতন পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করা নিয়োগকর্তার আইনি বাধ্যবাধকতা। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে তা "বিলম্বিত বেতন" হিসেবে গণ্য হয়, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার অধিকার শ্রমিকের রয়েছে। এছাড়া মালয়েশিয়ায় জাতীয়তা নির্বিশেষে ন্যূনতম মজুরি আইন প্রযোজ্য — বর্তমানে যা মাসে ১৭০০ রিঙ্গিত, অর্থাৎ কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি শ্রমিককেও এর কম বেতন দিতে পারবেন না।

প্রথম ধাপ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রথমে নিয়োগকর্তা বা এইচআর-এর সঙ্গে লিখিতভাবে (হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইল বা মেসেজে) যোগাযোগ করে সমস্যাটি জানানো। এতে কাজ না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হলো শ্রম দপ্তরে (Jabatan Tenaga Kerja - JTK) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা। অভিযোগ সরাসরি অফিসে গিয়ে, ইমেইলে, অথবা অনলাইন মাধ্যমে (e-Aduan সিস্টেম বা Working for Workers অ্যাপ) দাখিল করা যায়। জাতীয় হটলাইন নম্বর ১-৮০০-৮৮-৫৮৮৫-এ কল করেও প্রাথমিক তথ্য জানা সম্ভব।

অভিযোগ দাখিলের সময় সঙ্গে রাখা উচিত কাজের চুক্তিপত্র, বেতনের স্লিপ (যদি থাকে), ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে হওয়া সব যোগাযোগের প্রমাণ। শ্রম দপ্তর অভিযোগ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে ডেকে মধ্যস্থতার চেষ্টা করে; সমাধান না হলে বিষয়টি লেবার কোর্টে গড়ায়, যেখানে দোষী প্রমাণিত হলে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে প্রতি অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

আইনত এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে, বৈধ অভিযোগ দাখিলের কারণে কোনো শ্রমিককে চাকরিচ্যুত বা হয়রানি করা নিয়োগকর্তার জন্য নিষিদ্ধ। তবে শুধু নিজে অভিযোগ করাই যথেষ্ট মনে না হলে, বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কল্যাণ উইং-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করা যেতে পারে — তারা প্রয়োজনে সরাসরি মালয়েশিয়ার শ্রম দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা দিয়ে থাকে।

যেসব ক্ষেত্রে বিষয়টি শুধু বেতনের সীমার মধ্যে না থেকে বড় পরিসরে যায় (যেমন কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাওয়া), সেক্ষেত্রে নিয়োজিত লিকুইডেটরের কাছে পাওনার প্রমাণপত্র (Proof of Debt) জমা দেওয়ার সুযোগও থাকে।

সাব্বির/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ