ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

সৌদির মদিনায় বিশাল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, কী পরিকল্পনা সৌদির?

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ১০:৩৬:৫৬
সৌদির মদিনায় বিশাল ইউরেনিয়ামের সন্ধান, কী পরিকল্পনা সৌদির?

তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে নতুন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের ভিত্তি গড়ার চেষ্টার মধ্যেই বড় এক আবিষ্কারের খবর দিল সৌদি আরব। দেশটির মদিনা অঞ্চলের জাবাল সায়িদ প্রকল্প এলাকায় প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক জরিপের সময় এই আকরিকের সন্ধান মিলেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে মন্ত্রীর বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করা হয়।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব শুধু আকরিকের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নয়। সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আকরিকের মধ্যে ভারী বিরল খনিজ পদার্থের ঘনত্বও বেশি। এর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির কথাও জানানো হয়েছে।

ভিশন ২০৩০-এ নতুন মাত্রা

সৌদি আরবের অর্থনীতির বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে তেলনির্ভর। সেই নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যেই দেশটি বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধানের দাবি সেই বৃহত্তর পরিবর্তন পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচিতে ইউরেনিয়াম উত্তোলন এবং বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ রয়েছে। ফলে নতুন এই আবিষ্কার সৌদি আরবের জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝেই সৌদির ইউরেনিয়াম ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এই ঘোষণাকে আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। আবার সৌদি ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে দেশটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচিত হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সামুদ্রিক যোগাযোগ চাপের মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মনে করে, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তেহরান অবশ্য এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যভিত্তিক বলে দাবি করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতার পর নতুন ঘোষণা

মদিনার আবিষ্কারের খবরটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

গত জুলাইয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়। একই সময়ে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির বিষয়েও একটি চুক্তি করা হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করার সুযোগ পাবে।

চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজ ভূখণ্ডে সরাসরি মার্কিন তদারকি ছাড়াই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগও পাবে।

১১ কোটি টনের সবটাই ইউরেনিয়াম নয়

তবে মদিনায় পাওয়া আকরিকের ঘোষিত পরিমাণকে সরাসরি ইউরেনিয়ামের মজুদ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রায় ১১ কোটি টন আকরিকের মধ্যে প্রকৃত ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কত, সেটি এখনো বিস্তারিতভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

একইভাবে এই আকরিক থেকে বাণিজ্যিকভাবে কতটা ইউরেনিয়াম উত্তোলন করা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও এখনো চূড়ান্ত নয়। আরও অনুসন্ধান এবং মূল্যায়ন শেষ হলেই এর প্রকৃত ইউরেনিয়াম সম্পদ ও বাণিজ্যিক উত্তোলনের সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ