ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদিতে কত টাকায় ব্যবসা করা যায়? জানুন বিস্তারিত

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৭ ০৪:২৮:১৮
সৌদিতে কত টাকায় ব্যবসা করা যায়? জানুন বিস্তারিত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব এখন শুধু চাকরির বাজার হিসেবেই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র হিসেবেও প্রবাসীদের কাছে ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা "ভিশন ২০৩০"-এর আওতায় বিদেশি ও প্রবাসীদের জন্য ব্যবসা শুরু করার পথ আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে। অনেকেই মনে করেন সৌদি আরবে ব্যবসা মানেই বিশাল অঙ্কের পুঁজি দরকার, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়—এখন অল্প পুঁজিতেও এখানে টেকসই ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব।

সরকারি নিয়মকানুন: কী কী প্রয়োজন

সৌদি আরবে বৈধভাবে ব্যবসা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন হয় কমার্শিয়াল রেজিস্ট্রেশন (CR)। বিদেশি বা প্রবাসীদের জন্য এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া সৌদি সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের (MISA, আগের নাম SAGIA) মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। এছাড়া ব্যবসার ধরন অনুযায়ী (যেমন খাদ্য, রিটেইল বা সার্ভিস খাত) আলাদা আলাদা পারমিটও নিতে হতে পারে। কফিল (স্পনসর) ছাড়া স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে চাইলে ইনভেস্টমেন্ট লাইসেন্স নিতে হয়, যেখানে সার্ভিস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও ট্রেডিংসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে জরিমানা এবং আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই এই ধাপ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন হলো, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সরকার প্রবাসীদের নিজের নামে সরাসরি বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগও তৈরি করেছে, যার ফলে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসীও এখন নিজ নামে বিনিয়োগ শুরু করতে পারছেন।

ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা লাগে

সৌদিতে ব্যবসা শুরুর খরচ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যবসার ধরন, স্কেল ও লোকেশনের উপর। মোটাদাগে কিছু ধারণা দেওয়া যায়:

  • অনলাইন ব্যবসা/স্টোর: মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার সৌদি রিয়াল দিয়েই শুরু করা সম্ভব
  • ছোট সার্ভিস ব্যবসা (লন্ড্রি, কার ওয়াশ): সাধারণত ২০ থেকে ৩০ হাজার রিয়ালের মধ্যে শুরু করা যায়
  • ছোট রেস্টুরেন্ট বা ক্যাফে: প্রাথমিক খরচ পড়তে পারে ৫০ থেকে ৭০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত

এর বাইরে দোকান ভাড়া বাবদ মাসে গড়ে ৫ থেকে ১৫ হাজার রিয়াল এবং সরঞ্জাম-ফার্নিচার কিনতে আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অর্থাৎ, ধারণার বাইরে গিয়ে বলা যায়—কোটি টাকার পুঁজি ছাড়াও সৌদিতে একটি টেকসই ব্যবসা শুরু করা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।

কোন ব্যবসায় সাফল্য বেশি

প্রবাসীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু খাতে সাফল্যের হার তুলনামূলক বেশি:

  • খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা: বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি প্রবাসীদের মধ্যে দেশীয় খাবারের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে বলে এই খাতে সাফল্যের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি
  • সার্ভিস ভিত্তিক ব্যবসা: কার ওয়াশ, লন্ড্রি ও ক্লিনিং সার্ভিসে পুঁজি কম লাগলেও চাহিদা নিয়মিত থাকে
  • অনলাইন ব্যবসা: পোশাক, কসমেটিক্স ও ইলেকট্রনিক্সের মতো পণ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে কম খরচেই ব্যবসা দাঁড় করানো যায়
  • প্রবাসী-কেন্দ্রিক ব্যবসা: গ্রোসারি শপ, মানি এক্সচেঞ্জ এজেন্সি ও কনসালটেন্সি সার্ভিসের মতো ব্যবসাগুলো নিজ দেশের প্রবাসী কমিউনিটির চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে বলে গ্রাহক ধরে রাখা তুলনামূলক সহজ হয়

সফলতার জন্য যা মাথায় রাখা জরুরি

বড় বিনিয়োগ দিয়ে শুরু করার চেয়ে ছোট পরিসরে শুরু করে ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করাই বেশি নিরাপদ কৌশল বলে মনে করেন অভিজ্ঞ উদ্যোক্তারা। এছাড়া বাজার গবেষণা না করে হুট করে ব্যবসায় নামা, আইন ও লাইসেন্স সংক্রান্ত বিষয়ে অবহেলা করা এবং শুরুতেই অতিরিক্ত খরচ করে ফেলা—এই তিনটি ভুল সবচেয়ে বেশি ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বাজার বুঝে, গ্রাহকসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সঠিক মার্কেটিং করলে অল্প পুঁজিতেও সৌদি আরবে টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ