ভিসা বাতিলের অভিযোগে প্রবাসীদের দুশ্চিন্তা
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) বসবাসরত কিছু প্রবাসীর ভিসা হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকের দাবি, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও তারা ভিসা বাতিলের তথ্য জানতে পারছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ নিরসনে কূটনৈতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অজান্তে ভিসা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি কেউ কেউ দেশটির বাইরে অবস্থানকালে ভিসা বাতিলের তথ্য জানতে পারছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা এবং নতুন করে ভিসা পাওয়ার জটিলতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তারা।
তবে ভিসা বাতিলের বিষয়টি সবার ক্ষেত্রে একই কারণে হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভিসা বাতিলের পেছনে স্পনসর বা নিয়োগকর্তার পদক্ষেপ, প্রতিষ্ঠানের স্ট্যাটাস, দীর্ঘ সময় UAE-এর বাইরে থাকা, ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয় কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির ভিসা বাতিল হলেই সেটিকে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এদিকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে UAE-তে থাকা প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের ভিসা পুনরায় চালু করা এবং ব্যবসা ও ট্রানজিট ভিসা সহজ করার অনুরোধও জানিয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য UAE ভিসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে—এমন খবরও বিভিন্ন সময়ে ছড়িয়েছে। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশিদের জন্য জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সাধারণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কোনো ঘোষণা UAE কর্তৃপক্ষ দেয়নি। দূতাবাস এ ধরনের ভিত্তিহীন খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।
তবে বাস্তবে বাংলাদেশিদের জন্য UAE-এর বিভিন্ন ধরনের ভিসা পাওয়া ও নবায়নে জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রম, পর্যটন ও ট্রানজিট ভিসা ইস্যুতে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও ধীরগতির অভিযোগ ছিল। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে UAE-তে থাকা প্রবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, ভিসা বাতিল বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো গুজবে কান না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিজেদের ভিসার বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে। কোনো ব্যক্তির ভিসা বাতিল হয়ে থাকলে তার কারণ জানতে স্পনসর, নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে এবং বৈধভাবে UAE-তে বসবাস ও কাজ করা প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান হবে।
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- সৌদিতে ইকামা নবায়নে বড় পরিবর্তন, জানুন নতুন নিয়ম
- শেয়ারবাজারে আতঙ্কের মধ্যেই যা বললেনবিএসইসি চেয়ারম্যান
- সপ্তাহের শুরুতেই ফের পতন শেয়ারবাজারে, কারণ যা জানা গেল
- তিন বিমা কোম্পানির লাফ, বোর্ড সভা থেকে আর্থিক ফলাফল একনজরে
- সূচক পড়লেও যে ১০ শেয়ারে ক্রেতার হুড়োহুড়ি
- ১ম আর্ধের শেষদিকে দুর্দান্ত গোল নেইমারের, লাইভ দেখুন এখানে
- ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলল ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক
- এক ক্যাচেই বেঁচে গেল আফ্রিদির ৩০ বছরের রেকর্ড
- বিশ্বকাপের পর প্রথম মাঠে নেইমার,লাইভ দেখুন এখানে
- পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় চাঙ্গা জুলাই, এগিয়ে যে ব্যাংক
- সূর্যবংশীর ঝড়ে রানের পাহাড় গড়ল ভারত
- ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- মেসির অবসর নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন পারেদেস
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (২৬ জুলাই ২০২৬): সকল দেশের রেট