ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ নাম, আলোচনায় যারা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৪ ১৫:১২:১৫
মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ নাম, আলোচনায় যারা

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা আপাতত কম থাকলেও সরকারের কাজের গতি বাড়াতে এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এই মূল্যায়নের পরপরই মন্ত্রিসভা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া বা বড় ধরনের দপ্তর পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সরকারের দায়িত্বশীল একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমান মন্ত্রিসভার কাঠামো মোটামুটি অপরিবর্তিত রেখে নতুন চারজনকে যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এবং তিনি প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য চারজনের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপিকে মন্ত্রী হিসেবে যুক্ত করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকন এমপির নামও আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমান সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রীর হাতে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্বের চাপ তুলনামূলক বেশি।

এ কারণে প্রশাসনিক কাজের চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে মন্ত্রীদের আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। অর্থাৎ বড় ধরনের ‘রদবদল’-এর পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়াই হতে পারে সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ।

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপাতত কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জমা দেওয়া প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। এর বাইরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে আলোচনায় থাকা চারজন শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় যুক্ত হবেন কি না, তা প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ