ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউসিবির রাইট শেয়ার: বিনিয়োগকারীদের যা জানা জরুরি

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১২:৪৭:৪৬
ইউসিবির রাইট শেয়ার: বিনিয়োগকারীদের যা জানা জরুরি

দুই বছর ডিভিডেন্ড না দেওয়ার পর মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে রাইট শেয়ার ছাড়ছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। একই সময়ে ব্যাংকটির ২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। রাইট শেয়ারের মাধ্যমে ৭৭৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪৯০ টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) শেষ হচ্ছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট থেকে ইউসিবির রাইট শেয়ারের সাবস্ক্রিপশন কার্যক্রম চলছে। রাইট ইস্যুর জন্য এর আগে ৪ আগস্ট রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

কীভাবে দেওয়া হচ্ছে রাইট শেয়ার

ইউসিবির বিদ্যমান শেয়ারধারীদের জন্য রাইট শেয়ার ইস্যুর অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি দুটি শেয়ারের বিপরীতে একটি। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই শেয়ারের মোট সংখ্যা ৭৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৭ হাজার ৯৪৯টি।

এই শেয়ার ইস্যু করে পাওয়া অর্থ সরাসরি ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছে ইউসিবি।

ছয় মাসে ইপিএস বেড়েছে

ব্যাংকটির সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ অর্থ বছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২২ পয়সা। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১২ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ শেষে ইউসিবির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৮৪ পয়সা।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস ছিল ২৫ টাকা ৭১ পয়সা। ওই অর্থ বছরে ইউসিবির ইপিএস হয়েছে ১৫ পয়সা, যেখানে আগের অর্থ বছরে ছিল ৫ পয়সা। তবে ২০২৫ অর্থ বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ কোনো ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেনি।

২০২৪ অর্থ বছরেও বিনিয়োগকারীদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি ব্যাংকটি। সে বছর ইপিএস ছিল ৫ পয়সা এবং এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছিল ২৬ টাকা ৪২ পয়সায়। এর আগের অর্থ বছরে পুনর্মূল্যায়িত হিসাবে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৪৫ পয়সা।

এর আগে কেমন ছিল ডিভিডেন্ড

ডিভিডেন্ডের হিসাবে ২০২৩ অর্থ বছরে ইউসিবির পক্ষ থেকে মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছিল। এর অর্ধেক, অর্থাৎ ৫ শতাংশ ছিল ক্যাশ এবং বাকি ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড। ওই বছরে ব্যাংকটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫২ পয়সা এবং এনএভিপিএস ২৮ টাকা ৮১ পয়সা।

২০২২ অর্থ বছরেও মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়। সেখানেও ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ছিল। ওই অর্থ বছরে ইউসিবির ইপিএস ছিল ২ টাকা ৩৫ পয়সা এবং এনএভিপিএস ২৮ টাকা ৫৭ পয়সা।

এর আগের ধারাবাহিকতায় ২০২১ অর্থ বছরে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ অর্থ বছরে বিনিয়োগকারীরা পেয়েছিলেন ৫ শতাংশ ক্যাশ ও ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড। ২০১৯ অর্থ বছরেও ব্যাংকটি মোট ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

শেয়ার কার হাতে কত

ইউসিবির শেয়ার মালিকানার কাঠামোতেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ উল্লেখযোগ্য। ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৫২ দশমিক ০৩ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের মালিকানায় আছে ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ শেয়ার। সরকারের অংশ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ব্যাংকটির মূলধন ও রিজার্ভ

১৯৮৬ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইউসিবির অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ২ হাজার ৩২৫ কোটি ৫৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

ব্যাংকটির রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ২৯০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার রয়েছে ২৩২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার ৮৪৭টি।

সর্বশেষ ঋণমান

ইউসিবির সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএ মাইনাস’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থ বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং ঋণমান ঘোষণার দিন পর্যন্ত পাওয়া প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল) এই ঋণমান নির্ধারণ করেছে।

রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যাংকটির সাম্প্রতিক আর্থিক হিসাব, ডিভিডেন্ডের ইতিহাস, শেয়ার মালিকানার কাঠামো এবং মূলধনের চিত্র—সব মিলিয়ে ইউসিবির বর্তমান অবস্থার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ