ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বদলি আবেদনে বড় সুযোগ চান এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

শিক্ষা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৯:৫২:১৮
বদলি আবেদনে বড় সুযোগ চান এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনলাইন বদলি প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেলেও তা সংশোধনের সুযোগ না থাকায় সমস্যায় পড়েছেন অনেক শিক্ষক। শূন্যপদের পরিবর্তন, প্রতিষ্ঠান তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং এনটিআরসিএর রি-সুপারিশের মতো কারণে আগের আবেদন আর কার্যকর রাখতে না চাওয়া শিক্ষকদের জন্য নতুন করে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে বদলি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবেদন ডিলেট ও এডিটের সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। একই সঙ্গে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, পছন্দক্রম সংশোধন এবং সফটওয়্যারে থাকা শূন্যপদের তথ্য ঠিক করার সুযোগও চাওয়া হয়েছে।

এ দাবিতে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) বরাবর আবেদন জমা দেওয়া হয়। ৩০ জন শিক্ষক যৌথভাবে আবেদনটি জমা দিয়েছেন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর বদলে গেছে অনেক হিসাব

শিক্ষকদের আবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য অনলাইন বদলি ব্যবস্থা চালু হওয়াকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু আবেদন শেষ করার পর বিভিন্ন বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে শূন্যপদের সংখ্যা বা অবস্থান বদলেছে, কোথাও প্রতিষ্ঠান তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি এনটিআরসিএর রি-সুপারিশ এবং সফটওয়্যারসংক্রান্ত সমস্যার কারণে আগের আবেদন বহাল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য।

তাদের দাবি, বদলি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীদের অনিচ্ছাকৃত সিদ্ধান্তের মধ্যে পড়তে হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আবেদন সংশোধন বা বাতিলের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

যে শিক্ষকের আবেদন আর রাখতে চান না

বর্তমান আবেদন বহাল রাখতে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের জন্য সরাসরি ডিলেট করে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব শিক্ষক আবেদন করার পর নিজেদের নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে সেখানে যেতে চান না বা আবেদনটি সংশোধন করতে চান, তাদের জন্য নতুন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়ার সুযোগও চাওয়া হয়েছে।

জাতীয়করণ কিংবা অন্য কোনো কারণে আবেদন তালিকা থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান বাদ পড়লে তার পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষকদের আরেকটি দাবি হলো, অনলাইন ব্যবস্থায় যেসব শূন্যপদ দেখানো হচ্ছে সেগুলোর তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন শূন্যপদ যুক্ত করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

রি-সুপারিশের প্রভাব পড়া শিক্ষকদের জন্য দাবি

আবেদনে এনটিআরসিএর ১৯৫ জন শিক্ষককে রি-সুপারিশের বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এই রি-সুপারিশের ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে আগের তুলনায় শূন্যপদ কমে গেছে।

এমন প্রতিষ্ঠানে আগে যারা বদলির আবেদন করেছিলেন, তাদের বর্তমান প্রকৃত শূন্যপদের ভিত্তিতে নতুন প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি পরে পরিবর্তিত হলে সেই পরিবর্তন অনুযায়ী পছন্দ সংশোধনের সুযোগ চেয়েছেন তারা।

ভুল ও সফটওয়্যার সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ সুযোগ

আবেদনকারীরা অনিচ্ছাকৃত ভুল কিংবা সফটওয়্যারের ত্রুটির বিষয়টিও সামনে এনেছেন। এসব কারণে যারা সমস্যায় পড়েছেন, তাদের জন্য পুনরায় আবেদন অথবা প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষকদের মতে, শুধু নতুন আবেদন করার সুযোগ নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আগের আবেদন প্রত্যাহার, তথ্য ঠিক করা এবং পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুবিধাও থাকা দরকার।

চূড়ান্ত বদলির আগে আরও একটি অপশন চাওয়া হয়েছে

আবেদনকারীরা বদলি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নিয়েও একটি পৃথক সুবিধা চালুর দাবি করেছেন। তাদের দাবি, চূড়ান্ত বদলির আগে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের বিষয়ে শিক্ষক সম্মত কি না, তা জানানোর জন্য আলাদা অপশন রাখা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। তবে আবেদন চূড়ান্ত করার আগে ভুল সংশোধন ও পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনার সুযোগ না থাকলে অনেক আবেদনকারী সমস্যায় পড়তে পারেন।

এ কারণে তাদের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—প্রথমে সমস্যাগ্রস্ত আবেদনকারীদের জন্য ডিলেট সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, এডিট অপশন পুনরায় চালু করা, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিষ্ঠান ও পছন্দক্রম নির্বাচনের সুযোগ রাখা এবং চূড়ান্ত বদলির আগে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের বিষয়ে সম্মতি বা অনিচ্ছা জানানোর পৃথক ব্যবস্থা চালু করা।

আল-সাদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ