ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

শেয়ারবাজারে ফিরছে গতি, বাড়ল লেনদেন ও অধিকাংশ শেয়ারের দর

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৭:১৭:২৭
শেয়ারবাজারে ফিরছে গতি, বাড়ল লেনদেন ও অধিকাংশ শেয়ারের দর

সপ্তাহের প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬২টির শেয়ারদর বেড়েছে। একই দিনে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের চেয়ে প্রায় ৯১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বেড়ে ৭৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় উঠেছে।

অর্থাৎ দিনটিতে শুধু সূচক নয়, বাজারের লেনদেন ও শেয়ারের দর—দুই ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। ডিএসইর অপর ৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে এবং ৪৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

তিন সূচকেই উত্থান

লেনদেনের এই চিত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষে ডিএসইর তিনটি প্রধান সূচকই আগের অবস্থানের চেয়ে ওপরে উঠে এসেছে।

প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬০.০৪ পয়েন্ট যোগ করে ৫ হাজার ৫৯২.২০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ১১.৮৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮.৭৪ পয়েন্টে। আর নির্বাচিত কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ ২০.০২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১২১.১৮ পয়েন্টে।

লেনদেনের দিক থেকেও দিনের বাজার আগের কার্যদিবসকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের দিন ডিএসইতে প্রায় ৬৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল। রোববার সেই অঙ্ক বেড়ে হয়েছে প্রায় ৭৪৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

সিএসইতে কমেছে লেনদেন, বেড়েছে সূচক

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অবশ্য লেনদেনের পরিমাণ ডিএসইর মতো বাড়েনি। রোববার এই বাজারে শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা।

তবে লেনদেন কমলেও সিএসইতে শেয়ারের দর বাড়ার প্রবণতা ছিল বেশি। মোট ১৯২টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ৪১টির কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৮.৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৮৫৬.১৯ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। এর আগের কার্যদিবসেও সিএএসপিআই ৬৩ পয়েন্ট বেড়েছিল।

ধারাবাহিক উত্থানেই নজর বিনিয়োগকারীদের

বাজারের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ধারাবাহিক দরবৃদ্ধির ফলে শেয়ারবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থাকা আশঙ্কা কিছুটা কমছে। এর সঙ্গে ধীরে ধীরে আস্থাও ফিরতে শুরু করেছে।

তবে বাজারের বর্তমান প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়, সেটি দেখার জন্য এখনো অনেক বিনিয়োগকারী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাদের মতে, সামনে উত্থানের ধারা অব্যাহত থাকলে সূচক ও লেনদেন নতুন রেকর্ডের দিকে যেতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে বাজারে আবার প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থিতিশীলতার জন্য নজরদারি ও সংস্কারের তাগিদ

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল সূচক ও লেনদেন বাড়লেই ইতিবাচক ধারা স্থায়ী হবে না। এই গতি ধরে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে সম্ভাব্য পতন ঠেকাতে বাজারের ওপর নজরদারি আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।

তাদের মতে, ইতিবাচক ও কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাজার সংস্কারও করতে হবে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

রোববারের লেনদেনে ডিএসইর সূচক, লেনদেনের পরিমাণ এবং অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরের ঊর্ধ্বগতি বাজারের সাম্প্রতিক ইতিবাচক ধারাকেই সামনে এনেছে। এখন এই প্রবণতা পরবর্তী কার্যদিবসগুলোতেও কতটা বজায় থাকে, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ