ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাজেকে অবরোধ, এক রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল

সারাদেশ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১৯:৫২:০৫
সাজেকে অবরোধ, এক রিসোর্টের ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি। কিন্তু সড়কে নতুন করে অবরোধ ও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় সেই চিত্র পাল্টে গেছে। সাজেক থেকে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার পর সেখানে এখন আর কোনো পর্যটক নেই। একই সঙ্গে রিসোর্ট ও কটেজে আগে থেকে করা বুকিংও বাতিল করছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একটি রিসোর্টের প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হওয়ায় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বানে শুরু হওয়া অবরোধ শুক্রবারও চলেছে। এর ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৬টা থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

যদিও সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে সাজেকের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে অবরোধের কারণে পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় আবাসন ব্যবসায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

সাজেকে আহত শতাধিক, গুরুতর আটজন

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তাঁদের ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় প্রায় শতাধিক সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আটজন গুরুতর আহত।

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাধা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজয় কান্তি চাকমা। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে আহতদের অন্যত্র নেওয়া যাচ্ছে না। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবারের ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জানান, মামলা করা হবে। এ নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।

২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং ছিল, বাতিল শুরু বৃহস্পতিবার থেকে

সাজেকে পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করেছিল গত ১৬ অক্টোবর থেকে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক অবরোধের কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পর্যটকেরা সেখানে যাওয়া শুরু করেন এবং অনেকেই রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ আগাম বুকিং দেন।

তবে বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে ফের অবরোধ ও সংঘর্ষ দেখা দেওয়ায় পর্যটকদের সেই পরিকল্পনায় ছেদ পড়েছে। বুকিং বাতিলের বিষয়টি সামনে এসেছে রিসোর্ট ও কটেজ মালিকদের বক্তব্যেও।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির হিসাবে, এই পর্যটন এলাকায় প্রায় ১২০টি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। সব মিলিয়ে সেখানে একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা আছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হলেও নতুন করে অস্থিরতা শুরু হওয়ায় আগাম বুকিং ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, দুর্গাপূজার আগে থেকেই তাঁদের রিসোর্টের সব কক্ষ ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং দেওয়া ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবারের অবরোধ ও সংঘর্ষের পর শুক্রবার সকাল থেকেই বুকিং বাতিলের ঘটনা বাড়তে থাকে। তাঁর রিসোর্টে এ সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অবশিষ্ট বুকিংও বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মিশু দে।

পর্যটক না ফিরলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা

শুধু একটি রিসোর্ট নয়, সাজেকের অন্য আবাসন ব্যবসায়ীরাও বুকিং বাতিলের কথা জানিয়েছেন। সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এলাকার অনেক রিসোর্ট ও কটেজে ২৫, ২৮ ও ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কক্ষ বুকিং ছিল। অবরোধ ও অস্থিরতার কারণে পর্যটকেরা সেসব বুকিং বাতিল করছেন। শুক্রবারও অনেক বুকিং বাতিল হয়েছে।

মতিজয় ত্রিপুরার আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এবং পর্যটকেরা সাজেকে যেতে না পারলে স্থানীয় পর্যটন খাতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনীর পাহারায় সাজেক থেকে সব পর্যটককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর থেকে সেখানে আর কোনো পর্যটক অবস্থান করছেন না।

নিরাপত্তার দাবিতে কর্মসূচি

সাজেকের চলমান অবরোধের পেছনে স্থানীয় সংগঠনগুলোর নিরাপত্তাসংক্রান্ত দাবি রয়েছে। সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সংগঠনগুলো এই কর্মসূচি পালন করছে।

অবরোধ অব্যাহত থাকায় সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের আগাম বুকিং বাতিল হওয়ায় সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. সাজেক সড়কে অবরোধ কখন থেকে চলছে?

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অবরোধ পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

২. সাজেকের রিসোর্টে কত শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে?

সাজেক রুইলুই হলিডে রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মিশু দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর রিসোর্টের প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে।

৩. সাজেকে মোট কতটি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে?

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ১২০টি রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে তিন হাজারের বেশি পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা আছে।

৪. সাজেকে অবরোধের মূল দাবি কী?

স্থানীয় সংগঠনগুলো সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের প্রত্যাহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

৫. সাজেকে পর্যটকদের বুকিং কেন বাতিল হচ্ছে?

বৃহস্পতিবার থেকে সড়কে নতুন করে অবরোধ ও সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যটকেরা আগাম রিসোর্ট ও কটেজ বুকিং বাতিল করছেন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: