জন্মনিবন্ধন ও এনআইডিতে জন্মতারিখ আলাদা, কোনটি ঠিক করবেন?
জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখের অমিল থাকলে কোন নথিটি আগে সংশোধন করতে হবে, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন। এ ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। প্রকৃত জন্মতারিখের পক্ষে কোন নথিতে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে এবং কোন নথিতে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করেই সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিদের এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত সনদ বিশেষ গুরুত্ব পায়।
জন্মতারিখের এই অসংগতি রেখে দিলে বিভিন্ন সরকারি ও দাপ্তরিক কাজে তথ্য যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই একটি নথির তথ্যের সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুসরণ করা জরুরি।
জন্মনিবন্ধন নাকি এনআইডি—কোনটি আগে সংশোধন করবেন?
প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে, আপনার প্রকৃত জন্মতারিখ কোনটি। এরপর জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্টসহ প্রাসঙ্গিক নথিতে থাকা তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে।
যদি নির্ভরযোগ্য প্রমাণে দেখা যায় জন্মনিবন্ধনে ভুল রয়েছে, অথচ এনআইডি ও অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথিতে সঠিক জন্মতারিখ আছে, তাহলে জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদন করতে হবে। বিপরীতে, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণের সঙ্গে এনআইডির জন্মতারিখ না মিললে এনআইডি সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
তবে শুধু জন্মনিবন্ধনে লেখা আছে বলেই সেটিকে সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একইভাবে এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখও ভুল হতে পারে। মূল বিষয় হলো, সংশোধনের দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ে তা সমর্থিত হতে হবে।
এসএসসি সনদ থাকলে কোন নথি বেশি গুরুত্ব পাবে?
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সংশোধনবিষয়ক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারী এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাগত সনদ অগ্রাধিকার পায়। তাই এনআইডিতে জন্মতারিখের অমিল থাকলে এসএসসি বা সমমানের সনদে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অন্যান্য নথির তথ্য মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাগত সনদে জন্মতারিখ সঠিক থাকলেও এনআইডিতে ভিন্ন তারিখ থাকলে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সনদ ও অন্যান্য প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। আবেদন অনুমোদন হবে কি না, তা কর্তৃপক্ষের যাচাই ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।
২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত সনদের ভিত্তিতে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের কিছু আবেদন মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে অন্যান্য প্রমাণপত্র গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
এসএসসি সনদ না থাকলে কী করবেন?
সবার কাছে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ থাকে না। এমন ক্ষেত্রে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য জন্মনিবন্ধনসহ সঠিক বয়সের পক্ষে গ্রহণযোগ্য অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় জন্মনিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, চাকরির সার্ভিস বুক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিয়ে বা বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত নথির মতো দলিলের কথা উল্লেখ রয়েছে। কোন নথি প্রয়োজন হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতি ও সংশোধনের ধরনের ওপর নির্ভর করে।
শুধু একটি নথি দেখিয়ে সব ক্ষেত্রে সংশোধন হয়ে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজপত্র, সাক্ষাৎকার বা তদন্তের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
জন্মনিবন্ধনের জন্মতারিখ ভুল হলে সংশোধন করবেন যেভাবে
জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি অনলাইন সেবায় আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে। আবেদন করার আগে জন্মনিবন্ধন নম্বর, বর্তমান নিবন্ধিত তথ্য এবং যে তথ্য সংশোধন করতে চান, তা যাচাই করে নিতে হবে।
সাধারণভাবে করণীয় হলো—
১. জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে সংশোধনসংক্রান্ত সেবা নির্বাচন করুন।
২. জন্মনিবন্ধন নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধনের তথ্য শনাক্ত করুন।
৩. যে তথ্য সংশোধন করতে হবে, তা নির্ধারণ করে সংশোধনের কারণ উল্লেখ করুন।
৪. জন্মতারিখের পক্ষে প্রযোজ্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং আবেদনপ্রক্রিয়ায় চাওয়া নথি সংযুক্ত করুন।
৫. আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করুন।
জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদন করলেই তা অনুমোদিত হবে, এমন নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন ও প্রমাণপত্র যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। তাই আবেদনে প্রকৃত তথ্য দিতে হবে এবং কোনো ভুয়া বা পরিবর্তিত নথি ব্যবহার করা যাবে না।
এনআইডির জন্মতারিখ ভুল হলে সংশোধনের নিয়ম
জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবার মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনকারীর পরিচয়, সংশোধনের কারণ এবং দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়।
আবেদনের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—
এসএসসি বা সমমানের সনদ থাকলে সেটির জন্মতারিখ যাচাই করুন।
জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথির তথ্য মিলিয়ে দেখুন।
সংশোধনের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
কর্তৃপক্ষ যে অতিরিক্ত নথি চাইবে, তা সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস বা এনআইডি সেবার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
জন্মতারিখে বড় ধরনের পরিবর্তন থাকলে বা তথ্যের মধ্যে অসংগতি দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত যাচাই করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সব নথির তথ্য একসঙ্গে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।
জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি—দুটিতেই ভুল থাকলে কী করবেন?
যদি জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি—দুটিতেই ভুল জন্মতারিখ থাকে, তাহলে প্রথমে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত জন্মতারিখ নির্ধারণের প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নথি সংশোধনের আবেদন করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে এক নথির তথ্য আরেকটিতে বসিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। শিক্ষাগত সনদ, পাসপোর্ট বা অন্য নথিতেও যদি ভিন্ন জন্মতারিখ থাকে, তাহলে কোন তথ্য সঠিক, তার পক্ষে প্রমাণ প্রস্তুত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সংশোধনের আবেদন করার সময় সব নথিতে একই তারিখ দেখানোর জন্য তথ্য পরিবর্তন না করে, প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনসম্মতভাবে সংশোধন করতে হবে।
সংশোধনের আগে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করার আগে কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রথমত, কেবল সুবিধা পাওয়ার জন্য বয়স বাড়ানো বা কমানোর চেষ্টা করবেন না। দ্বিতীয়ত, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক নথি সংশোধনের আবেদন করবেন না। তৃতীয়ত, জাল সনদ বা অসত্য তথ্য জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। চতুর্থত, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের হালনাগাদ নির্দেশনা দেখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিশ্চিত করুন।
মনে রাখতে হবে, জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির জন্মতারিখের অমিলের সমাধান হলো প্রকৃত জন্মতারিখের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে যে নথিতে ভুল রয়েছে, সেটি সংশোধন করা। কোনো একটি নথিকে যাচাই ছাড়াই সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
১. জন্মনিবন্ধন ও এনআইডিতে জন্মতারিখ আলাদা হলে কোনটি আগে সংশোধন করব?
যে নথিতে ভুল রয়েছে, সেটিই সংশোধন করতে হবে। আগে প্রকৃত জন্মতারিখের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ যাচাই করুন। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করুন।
২. এসএসসি সনদে জন্মতারিখ এক রকম, এনআইডিতে অন্য রকম হলে কী করব?
এসএসসি বা সমমানের সনদ এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পায়। সনদে থাকা তথ্য সঠিক হলে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। অনুমোদন নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর।
৩. এসএসসি সনদ না থাকলে কি এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধন করা যায়?
আবেদন করা যেতে পারে। তবে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রযোজ্য অন্যান্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে সঠিক জন্মতারিখের পক্ষে প্রমাণ দিতে হতে পারে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনভেদে আলাদা হতে পারে।
৪. জন্মনিবন্ধন সংশোধন করলেই কি এনআইডির জন্মতারিখ বদলে যাবে?
না। জন্মনিবন্ধন ও এনআইডি পৃথক সেবার আওতাভুক্ত। জন্মনিবন্ধন সংশোধন হলে এনআইডির তথ্যও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন হবে—এমন ধরে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন হলে এনআইডি সংশোধনের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।
৫. জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন অনুমোদন না হলে কী করব?
আবেদনের অবস্থা ও প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধক কার্যালয় বা নির্বাচন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এরপর ঘাটতি থাকা নথি বা প্রমাণপত্র প্রস্তুত করে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমি রেজিস্ট্রির সময় কী কী দেখে স্বাক্ষর করবেন? জেনে নিন
- OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?
- আজকের টাকার রেট কত:বেড়েছে২টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজ প্রতি ভরি ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- ওয়ারিশের জমি নামজারি ও আলাদা খতিয়ান করার নিয়ম
- জমির রেকর্ডে ভুল? সংশোধনের আবেদন করবেন যেখানে
- ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কত টাকা লাগে, দেরি হলে কত জরিমানা
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিনের ছুটি, তারিখ জেনে নিন