ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে কী কী কাগজ লাগে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটি নবায়ন করতে নির্ধারিত আবেদন, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। তবে অপেশাদার ও পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা এবং ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন লাগতে পারে। তাই আবেদন করার আগে কোন কোন কাগজ প্রয়োজন, কীভাবে আবেদন করবেন এবং ফি কীভাবে যাচাই করবেন—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের কাজ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সংস্থাটির নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে অথবা বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে প্রযোজ্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে আবেদনকারীর লাইসেন্সের ধরন ও সংশ্লিষ্ট সেবা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে যেসব কাগজপত্র লাগে
বিআরটিএর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, লাইসেন্স নবায়নের জন্য সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখতে হয়।
১. নির্ধারিত আবেদনপত্র: বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী পূরণ করা আবেদনপত্র অথবা অনলাইনে আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য।
২. জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বা স্ক্যান কপি।
৩. বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি: যে লাইসেন্সটি নবায়ন করা হবে, সেটির কপি বা স্ক্যান কপি।
৪. মেডিকেল সার্টিফিকেট: নিবন্ধিত চিকিৎসকের দেওয়া নির্ধারিত মেডিকেল সার্টিফিকেট। পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।
৫. ফি জমার প্রমাণ: নবায়নের জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধের রসিদ বা অনলাইন পেমেন্টের প্রমাণ।
৬. সাম্প্রতিক ছবি: সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রয়োজন হতে পারে। বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়ার সময় ডিজিটাল ছবিও তোলা হতে পারে।
৭. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: বিআরটিএর কিছু প্রকাশিত নির্দেশনায় শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কথাও উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসের চাহিদা অনুযায়ী এটি প্রস্তুত রাখা ভালো।
এ ছাড়া পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীর ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ঠিকানায় অমিল থাকলে বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিলের কপিও চাওয়া হতে পারে।
মনে রাখবেন: সব আবেদনকারীর জন্য প্রতিটি কাগজ একইভাবে বাধ্যতামূলক—এমন নয়। তাই আবেদন করার আগে বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসের সর্বশেষ নির্দেশনা মিলিয়ে নেওয়া উচিত।
অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের নিয়ম
ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর জন্য ব্যবহৃত অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে। এরপর বিআরটিএর নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে।
আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্র যাচাইয়ের পর প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ সার্কেল অফিসে উপস্থিত হতে হতে পারে। সেখানে ডিজিটাল ছবি, স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপের মতো বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হতে পারে।
কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে বা অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হলে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হতে দেরি হতে পারে। তাই আবেদনের আগে নাম, জন্মতারিখ ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কী কী লাগে
পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে আলাদা। এ ক্ষেত্রে বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হয়।
এ ছাড়া পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন চাওয়া হতে পারে। বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, পেশাদার চালকদের দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কত টাকা লাগে, দেরি হলে কত জরিমানা
স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ট্যাটাস দেখবেন যেভাবে
পরীক্ষা বা প্রশিক্ষণ প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী তা সম্পন্ন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নবায়নের আবেদন এগিয়ে নেওয়া যায়।
পেশাদার লাইসেন্সধারীদের জন্য পরীক্ষার তারিখ, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে আবেদন করার সময় বিআরটিএর নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করবেন যেভাবে
ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য বিআরটিএর সার্ভিস পোর্টাল ব্যবহার করা যায়। অনলাইনে আবেদন করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
প্রথম ধাপ: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: https://bsp.brta.gov.bd/
দ্বিতীয় ধাপ: নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধন করুন।
তৃতীয় ধাপ: ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রযোজ্য সেবা নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।
চতুর্থ ধাপ: পোর্টালে চাওয়া কাগজপত্রের স্ক্যান কপি বা ছবি নির্ধারিত নিয়মে সংযুক্ত করুন। পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো নথি প্রয়োজন কি না, সেটিও যাচাই করুন।
পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। নাম, জন্মতারিখ, লাইসেন্স নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যে ভুল থাকলে আবেদন প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ষষ্ঠ ধাপ: পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করুন। কোনো পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ বা সরাসরি উপস্থিতি প্রয়োজন হলে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
আবেদনের সময় অনলাইনে সব ধাপ সম্পন্ন করা গেলেও বায়োমেট্রিক তথ্য, পরীক্ষা বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য সরাসরি উপস্থিত হতে হতে পারে। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা ও মোবাইলে আসা বার্তা অনুসরণ করুন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ফি কত?
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ফি নির্ভর করে লাইসেন্সের ধরন, প্রযোজ্য সেবা এবং মেয়াদোত্তীর্ণের পর কত সময় পেরিয়েছে তার ওপর। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিলম্বে নবায়ন করলে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে।
বিআরটিএর বিভিন্ন ওয়েবপেজে ফি-সংক্রান্ত তথ্যে সময় ও সেবাভেদে পার্থক্য দেখা যায়। তাই পুরোনো কোনো তালিকা বা অনলাইন পোস্ট দেখে নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন করার সময় বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত প্রযোজ্য ফি যাচাই করে নিন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিস থেকেও নিশ্চিত হতে পারেন।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কি লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে?
ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নবায়নের জন্য আবেদন করা যায়। তবে মেয়াদোত্তীর্ণের পর কত সময় পেরিয়েছে, তার ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে। এ কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।
মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু নবায়নের আবেদন করেই নিশ্চিন্ত না থেকে লাইসেন্সের বৈধতা ও নবায়নের বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন
ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করতে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য মিলিয়ে নিন।
মেডিকেল সার্টিফিকেট নির্ধারিত নিয়মে সংগ্রহ করুন।
পেশাদার লাইসেন্স হলে ডোপ টেস্ট ও দক্ষতা যাচাইয়ের শর্ত সম্পর্কে জেনে নিন।
ফি পরিশোধের রসিদ বা অনলাইন পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
ঠিকানার তথ্য ভিন্ন হলে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন কি না যাচাই করুন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর বিআরটিএর নির্দেশনা, এসএমএস এবং পোর্টালের অবস্থা নিয়মিত দেখুন।
সব মিলিয়ে, ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং সর্বশেষ ফি ও প্রক্রিয়া যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে আবেদন জমা দেওয়ার সময় ভুল বা অসম্পূর্ণ নথির কারণে ভোগান্তি কমতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন ১: ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কোনগুলো?
উত্তর: সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং ফি পরিশোধের প্রমাণ লাগে। লাইসেন্সের ধরন ও সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন ২: পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে কি ডোপ টেস্ট লাগে?
উত্তর: পেশাদার লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনের আগে বিআরটিএর সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।
প্রশ্ন ৩: ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কি নবায়ন করা যায়?
উত্তর: মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নবায়নের আবেদন করা যায়। তবে বিলম্বের সময় অনুযায়ী অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রশ্ন ৪: অনলাইনে কি ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে লাইসেন্স-সংক্রান্ত সেবার আবেদন করা যায়। তবে বায়োমেট্রিক তথ্য, পরীক্ষা বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার জন্য সরাসরি উপস্থিত হতে হতে পারে।
প্রশ্ন ৫: ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ফি কত?
উত্তর: ফি লাইসেন্সের ধরন ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করে। মেয়াদোত্তীর্ণের পর বিলম্ব হলে অতিরিক্ত ফি বা জরিমানা লাগতে পারে। সঠিক অঙ্ক জানতে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করুন।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- জমি রেজিস্ট্রির সময় কী কী দেখে স্বাক্ষর করবেন? জেনে নিন
- ওয়ারিশের জমি নামজারি ও আলাদা খতিয়ান করার নিয়ম
- আজকের টাকার রেট কত:বেড়েছে২টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে কি না যাচাই করবেন যেভাবে
- OnePlus Turbo 7 Pro-তে ১৮৫Hz ডিসপ্লে, ১০,০০০mAh ব্যাটারি?
- জমির রেকর্ডে ভুল? সংশোধনের আবেদন করবেন যেখানে
- জমির দাগ, খতিয়ান ও নকশা যাচাইয়ের সহজ নিয়ম
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিনের ছুটি, তারিখ জেনে নিন
- আজকের মালয়েশিয়ান রিংগিত রেট কত (২৩ অক্টোবর ২০২৬)