৯ মাসে সরকারি ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ২৪.১৩ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে।
তবে একই সময়ে চারটি বড় সরকারি ব্যাংকে আমানত বেড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। এই উভমুখী প্রবণতা স্পষ্টভাবে দেখায়, উচ্চ খেলাপি ঋণের ঝুঁকির মধ্যেও গ্রাহকরা এখনো সরকারি ব্যাংকগুলোকেই সঞ্চয়ের জন্য নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছেন।
সরকারি ব্যাংকে স্থিতিশীলতা বাড়ছে
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল বাশার বলেন, “সঠিক দিকনির্দেশনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। এতে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার হচ্ছে।”
অর্থাৎ, অতীতের চেয়ে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং তদারকির জোরদারকরণ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কর্মদক্ষতা বাড়াতে টার্গেট-ভিত্তিক মূল্যায়ন
জনতা ব্যাংক পিএলসি আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চালু করতে যাচ্ছে টার্গেট-ভিত্তিক কর্মী মূল্যায়ন ব্যবস্থা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান বলেন, “যেসব কর্মকর্তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ডিপোজিট সংগ্রহে সফল হবেন, তাঁদের জন্য ইনসেনটিভ পয়েন্ট বরাদ্দ থাকবে। এই পয়েন্ট কর্মীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রেও মূল্যায়িত হবে।”
ব্যাংক পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির এই ধরনের উদ্যোগ ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব ও ফলাফলভিত্তিক সংস্কৃতি চালুর দিকে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেসরকারি ব্যাংকে বিপরীত চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়কালে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আমানত কমেছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এটি ইঙ্গিত দেয়, কিছু বেসরকারি ব্যাংক পরিচালনায় কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ও আস্থার ঘাটতি রয়েছে।
অপরদিকে, মার্চ শেষে দেশে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্লেষণ
অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, “ব্যাংক খাতে নীতিগত শৃঙ্খলা কিছুটা ফিরেছে। আগের মতো রাজনৈতিক চাপ বা অসংগঠিতভাবে ঋণ অনুমোদনের প্রবণতা কমছে। সুশাসন বজায় থাকলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারবে।”
যদিও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ বাড়ছে, তবুও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে আমানত প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি প্রমাণ করে—সুশাসন ও পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা গেলে গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠিত হয়। এ প্রবণতা ধরে রাখতে হলে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহি, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মো: রাজিব আলী/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে একসঙ্গে ৭ অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রত্যাহার
- মেঘনা কনডেন্সডের শেয়ার নিয়ে ডিএসইর ‘বাই-ইন’ ঘোষণা
- মাত্র ১ পয়সা ডিভিডেন্ড, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
- তাপস পালের নেতৃত্বে মার্কেন্টাইল ব্যাংকে ১২০০ কোটি টাকা আত্মসাত
- পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বড় খবর, যে কারণে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
- বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ! কারা পাবেন, কীভাবে নিতে হবে
- বদলে গেল পরিস্থিতি, বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ব্যবস্থা ভারতে
- কোল্ড ড্রিংকস খেলে অ্যাসিডিটি কমে, নাকি বাড়ে? জানুন সত্য
- সংযোগ নেই, মিটারও নেই—তবুও হাতে বিদ্যুৎ বিল!
- আবারও বাড়ল সোনার দাম, আজকের বাজারদর জেনে নিন
- মূল আমানত ফেরত দেবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, জেনে নিন নিয়ম
- দেশের বাজারে আজকের সোনার দাম
- গোসল ফরজ হলে দুধ পান করানো নিয়ে ইসলামের বিধান