ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

কিডনি বাঁচান: ভুল খাদ্যাভ্যাস বর্জন করুন, জরুরি সতর্কতা

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ নভেম্বর ২৮ ১৬:৩৪:৫২
কিডনি বাঁচান: ভুল খাদ্যাভ্যাস বর্জন করুন, জরুরি সতর্কতা

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, ঠিক সময়ে খাবার না খাওয়া এবং অতিরিক্ত বাইরের খাবারের অভ্যাস—এসব কারণে কিডনির নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এই রোগ যেকোনো বয়সেই ধরা পড়তে পারে। একবার কিডনির সমস্যা নিশ্চিত হলে খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। পরিস্থিতি অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি (AKI) না কি ক্রনিক কিডনি ফেলিয়োর (CKF) তা পুষ্টিবিদের পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারণ করে রোজকার ডায়েট স্থির করতে হবে।

রোগ চিহ্নিতকরণ ও প্রোটিনের মাপকাঠি

কিডনির জটিলতা দেখা দিলেই জরুরি ভিত্তিতে প্রস্রাব এবং রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া আবশ্যক। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রোটিন, ক্রিয়েটিনিন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস ও শর্করার মাত্রা দেখে নেওয়া হয়।

রোগের ধরন (AKI বা CKF) জানা ভীষণ প্রয়োজন। সেই অনুযায়ী ডায়েট পরিকল্পনা করা হয়।

প্রোটিন: অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরির রোগীদের প্রোটিন গ্রহণে খুব বেশি কঠোরতা থাকে না। তবে ক্রনিক কিডনি ডিজ়িজ় (CKD) হলে প্রোটিনের একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। আবার ডায়ালিসিস চলাকালীন প্রোটিনের মাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়ে থাকে।

রোগের জটিলতা কমাতে যে ৫ ধরনের ভুল খাদ্যাভ্যাস কঠোরভাবে বর্জন করতে হবে, তা জেনে নিন:

১. তরল গ্রহণের কড়াকড়ি ও ক্ষতিকর পানীয়

কিডনি রোগীদের সর্বপ্রথম জানতে হবে দৈনিক কতটা জল বা তরল তারা গ্রহণ করতে পারবেন। চিকিৎসকের নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি জল বা তরল কখনোই পান করা উচিত নয়। যে কোনো নরম পানীয়, অ্যালকোহল-যুক্ত ড্রিঙ্ক বা এনার্জি ড্রিঙ্ক খাওয়াও সম্পূর্ণরূপে নিষেধ।

২. উচ্চ পটাশিয়াম ও ফসফরাসের ফাঁদ

কিডনি রোগীদের শরীরের জন্য পটাশিয়াম আর ফসফরাস—এই দুই খনিজ খুবই ক্ষতিকারক। তাই এগুলিতে ভরপুর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

ফল ও সবজি: কলা, আম, খেজুর, কমলালেবুর মতো উচ্চমাত্রায় পটাশিয়ামযুক্ত ফল খাওয়া চলবে না। সবজির মধ্যে আলু ও টম্যাটোও বাদ দিতে হবে।

শাকসবজি গ্রহণের নিয়ম: কিডনি রোগীদের জন্য সবুজ শাকসবজি সাধারণত না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে—প্রথমে শাক কেটে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে, সেই জল ফেলে দিয়ে গরম জলে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে। শেষে গরম জল ছেঁকে ফেলে দিয়ে তবেই রান্না করা দরকার।

৩. দুগ্ধজাত ও ডাল-বীজজাতীয় খাদ্যে সতর্কতা

পনির, ছানা, দই-এর মতো দুগ্ধজাত খাবার এবং ডাল বা বীজ জাতীয় খাদ্যে ফসফরাসের উপস্থিতি ভালো পরিমাণে থাকে। তাই কিডনি রোগীদের এসব খাবার এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।

৪. প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম

রোগীদের কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রান্নার নুন পরিমাণমতো দেওয়ার পাশাপাশি সস্, আচার, চিপ্‌স বা চিজ়-এর মতো প্রিজ়ারভেটিভযুক্ত প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার একেবারেই খাওয়া চলবে না।

৫. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ

মাথা বা পায়ে ব্যথা হলে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছ বেদনানাশক ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। এই অভ্যাস কিডনির রোগীদের জন্য মোটেও ভালো নয়। ব্যথার ওষুধ কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

জরুরি সতর্কতা: এই প্রতিবেদনটি কেবল সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন, কিডনি রোগীদের ডায়েট প্রত্যেকের শারীরিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। পুষ্টিবিদ কিংবা নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ ছাড়া কিডনি রোগীদের খাদ্যতালিকায় কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা উচিত নয়।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ