MD Zamirul Islam
Senior Reporter
হাড় মজবুত করতে ভিটামিন ডি খাচ্ছেন? জানুন ৩টি সঠিক নিয়ম
বর্তমান যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় হাড়ের ক্ষয় বা পেশির দুর্বলতা ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, অধিকাংশ ভারতীয় নাগরিকই ভিটামিন ডি-র তীব্র ঘাটতিতে ভুগছেন। আর এই ঘাটতি পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অনেকে বাজারচলতি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, নির্দিষ্ট বিধি না মেনে এই সাপ্লিমেন্ট সেবন করলে শরীরের উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।
কেন শরীরে ভিটামিন ডি অপরিহার্য?
আমাদের শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণের প্রধান চাবিকাঠি হলো ভিটামিন ডি। যদি শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি তৈরি হয়, তবে পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম গ্রহণ করলেও তা হাড়ের কাজে লাগে না। ফলে হাড় ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং পেশির কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়, ভিটামিন ডি-র অভাবে মানসিক অবসাদ বা বিষণ্ণতাও গ্রাস করতে পারে। শরীরের বিভিন্ন গিঁটে বা অঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণার অন্যতম প্রধান কারণও হতে পারে এই ভিটামিনের অভাব।
খাবার ও সূর্যালোক কি যথেষ্ট নয়?
সাধারণত মনে করা হয় সূর্যের আলো এবং পুষ্টিকর খাবার থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব। তবে আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল এই দুই উৎসের ওপর নির্ভর করে ঘাটতি মেটানো প্রায় অসম্ভব। সুস্থ থাকার জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৪০-৬০ ন্যানোগ্রাম ভিটামিন ডি থাকা জরুরি। আর এই মাত্রা বজায় রাখতে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
সাপ্লিমেন্ট সেবনের তিনটি সুবর্ণ নিয়ম:
ভিটামিন ডি-র পূর্ণ সুবিধা পেতে এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি:
১. সহায়ক উপাদানের প্রয়োজনীয়তা: ভিটামিন ডি শরীরে একা কাজ করতে পারে না। এর সক্রিয়তার জন্য পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম এবং ভিটামিন কে-২ (K2) প্রয়োজন। বিশেষ করে কে-২ ছাড়া ভিটামিন ডি ও ক্যালশিয়াম গ্রহণ করলে তা রক্তবাহী নালিতে বা হৃদযন্ত্রে জমে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই হার্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সমন্বয় জরুরি।
২. সেবনের সঠিক পদ্ধতি ও বিরতি: সাপ্লিমেন্ট মানেই প্রতিদিন খেতে হবে এমনটি নয়। বয়স ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী এর ডোজ ভিন্ন হয়। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সপ্তাহে একটি করে ১২ সপ্তাহ খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এরপর অবশ্যই বিরতি নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘকাল একটানা এটি চালিয়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৩. সময়ের গুরুত্ব: ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের শ্রেষ্ঠ সময় হলো দিনের বেলা। সূর্য ডোবার পর বা সন্ধ্যার পর এটি সেবন করলে শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এর কার্যকারিতাও অনেকটা কমে যায়।
শরীরের অভ্যন্তরীণ কাঠামো মজবুত রাখতে ভিটামিন ডি-র ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান এবং নিয়ম মেনে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
আল-মামুন/