MD. Razib Ali
Senior Reporter
ফ্যাটি লিভারে রোজা: উপকার না কি ঝুঁকি? জানুন চিকিৎসকের পরামর্শ
পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ বিপাকীয় পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—রোজা রাখা কি তাদের লিভারের জন্য স্বস্তিদায়ক না কি উদ্বেগের? চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যানুযায়ী, বিষয়টি মূলত নির্ভর করে রোগীর শারীরিক জটিলতার মাত্রা এবং জীবনযাত্রার ওপর।
লিভারে চর্বি জমা বা ফ্যাটি লিভারের গতিপ্রকৃতি
লিভারের কোষে যখন প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি পুঞ্জীভূত হয়, তখন তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ফ্যাটি লিভার' বলা হয়। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে এই সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি তেমন কোনো শারীরিক অস্বস্তি না দিলেও, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে তা লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে সিরোসিসের মতো ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
লিভারের সুস্থতায় রোজা কখন সহায়ক?
যাদের লিভারের সমস্যা প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং কার্যক্ষমতা এখনো অটুট, তাদের জন্য রোজা অত্যন্ত ফলদায়ক হতে পারে।
মেদ হ্রাসের প্রক্রিয়া: দীর্ঘক্ষণ অভুক্ত থাকার ফলে শরীর শক্তির জন্য জমা থাকা চর্বি খরচ করতে শুরু করে। এতে লিভারে জমে থাকা মেদ কমতে থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে, যা ফ্যাটি লিভার নিরাময়ের প্রধান শর্ত।
খাবারের নিয়ম: রোজার সময় ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত তেল-মসলা ও শর্করা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চললে লিভারের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
সতর্কবার্তা: কাদের জন্য রোজা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে?
ফ্যাটি লিভারের সব পর্যায়ে রোজা রাখা নিরাপদ নয়। লিভারে যাদের মারাত্মক প্রদাহ (Inflammation) রয়েছে কিংবা এনজাইমের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের জন্য দীর্ঘক্ষণ পানাহার বন্ধ রাখা হিতে বিপরীত হতে পারে। বিশেষ করে লিভার সিরোসিসের রোগীদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া রোজা রেখে যারা চরম দুর্বলতা কিংবা বমি বমি ভাবে ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা নিরাপদ নাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের গাইডলাইন
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা নিজে শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়; বরং ভুল খাদ্যাভ্যাসই লিভারের শত্রু। অনেক সময় সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে একসাথে প্রচুর খাবার খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
লিভার রোগীদের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
১. রোজা শুরুর আগেই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শারীরিক অবস্থা যাচাই (লিভার ফাংশন টেস্ট) করে নিন।
২. নিয়মিত সেবন করা ওষুধের সময় ও ডোজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের দিকনির্দেশনা মেনে চলুন। নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা বিপদ ডেকে আনতে পারে।
জটিলতার রেড সিগন্যাল: কখন রোজা ভাঙা জরুরি?
রোজা রাখা অবস্থায় যদি কোনো রোগীর শরীরে নিচের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:
তীব্র শারীরিক দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা।
জন্ডিসের লক্ষণ বা চোখ ও শরীরের চামড়া হলদেটে হয়ে যাওয়া।
পেটে প্রচণ্ড ব্যথা কিংবা বমির সাথে রক্ত দেখা দেওয়া।
অস্বাভাবিক তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব বা অসংলগ্ন আচরণ।
পরিশেষে, ফ্যাটি লিভারের রোগীদের জন্য রোজা রাখা একটি সুযোগ হতে পারে ওজন কমিয়ে লিভারকে পুনরায় কর্মক্ষম করার। তবে জটিল রোগাক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। সচেতন জীবনযাপনই পারে লিভারকে সুস্থ রাখতে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ওয়ানডে: সরাসরি দেখুন Live
- চলছে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচ: ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, দেখুন Live
- একলাফে কমলো স্বর্ণের দাম
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড: নাহিদের গতির ঝড়, দেখুন Live
- সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি
- নাহিদ রানার ফাইফার, অল-আউট নিউজিল্যান্ড
- একলাফে বাড়লো তেলের দাম
- সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও দ্বিমুখিভাবের কারণে বাংলাদেশের তেলের জাহাজ ফিরিয়ে দিচ্ছে ইরান