Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
ফ্যাটি লিভারের চেয়েও ভয়ংকর সিরোসিস! ৫ লক্ষণে বিপদ চিনুন
যকৃৎ বা লিভারের অসুখ মানেই নিরাময় অসম্ভব—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু হলে লিভারের গুরুতর সমস্যাও সারিয়ে তোলা সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদী অবহেলা এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দেয়, যা ফ্যাটি লিভারের চেয়েও মারাত্মক—এই রোগটির নাম 'লিভার সিরোসিস'।
দীর্ঘদিন ধরে লিভারের কোনও অসুস্থতা থাকলে, কিংবা বারবার জন্ডিস হলে, অথবা মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান চলতে থাকলে যকৃতে ক্রমাগত ক্ষতের সৃষ্টি হয়। কালক্রমে এই ক্ষত যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়, তখনই তাকে ‘লিভার সিরোসিস’ বলা হয়।
সিরোসিস: মদ্যপান ছাড়াও অন্য যে কারণে ঝুঁকি বাড়ে
যদিও সাধারণভাবে অতিরিক্ত মদ্যপানের সঙ্গে সিরোসিসের একটি যোগসূত্র টানা হয়, কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি একমাত্র কারণ নয়। দৈনন্দিন জীবনে কিছু ভুল অভ্যাসের পাশাপাশি শারীরিক কিছু কারণেও এই অসুখ আক্রমণ করতে পারে।
ওষুধের ভূমিকা: জন্মগত কোনও ত্রুটি বা রোগের পাশাপাশি কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও লিভারের ক্ষতি করতে পারে। পেটের যন্ত্রণা কমানোর জন্য বা মদ্যপানের রাশ টানতে যে ওষুধগুলি অনেকে সেবন করেন, সেগুলি সাময়িক উপশম দিলেও স্থায়ীভাবে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।
অত্যন্তিক পরিণাম: এই ধরনের স্থায়ী ক্ষতের পরিমাণ বহুগুণে বৃদ্ধি পেলে তার চূড়ান্ত পরিণতি হতে পারে লিভার ক্যানসার।
ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস হওয়ার প্রক্রিয়া
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ (National Institute of Health) এবং আমেরিকান লিভার ফাইন্ডেশনের (American Liver Foundation) গবেষণা অনুযায়ী, লিভারের কাজ হলো মেদ বা ফ্যাট তৈরি করা, যা রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পেশিতে পৌঁছায়।
যখন লিভার যতটা মেদ তৈরি করছে এবং যতটুকু মেদ শরীর খরচ করছে—এই দু’য়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মেদ উদ্বৃত্ত বা অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন সেই ফ্যাট লিভারের কোষে জমতে শুরু করে। এটিই হলো ফ্যাটি লিভার। সঠিক ডায়েট ও শরীরচর্চার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
তবে অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ও অ্যালকোহলের প্রভাবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে থাকে। এর ফলস্বরূপ, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের মতো সমস্যা সৃষ্টি হয়, যা ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ নামে পরিচিত। এই সিনড্রোমই ধীরে ধীরে সিরোসিসের জন্ম দিতে পারে।
দ্রুত সতর্কতা: যে লক্ষণগুলি উপেক্ষা করা উচিত নয়
লিভারের ভিতরে ক্ষত তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে তার কিছু আগাম লক্ষণ শরীরেই প্রকাশ পায়। বিপদ এড়াতে এই সতর্কতা সংকেতগুলি নজরে রাখা আবশ্যিক:
হজম প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হওয়া: ঘনঘন পাতলা পায়খানা (ডায়েরিয়া), পেট ফুলে থাকা (ব্লোটিং) এবং বুক জ্বালা বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা ভোগাতে পারে।
অ্যালবুমিন স্বল্পতা জনিত জ্বালা: যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করলে রক্তে অ্যালবুমিন নামক প্রোটিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে পা ও গোড়ালির অংশে এক ধরণের অস্বস্তিকর জ্বালা অনুভব হতে পারে।
জন্ডিসের উপস্থিতি: লিভারের ক্ষতি হলে বিলিরুবিন নামক পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে যায়, যা থেকে জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সহজেই কালশিটে পড়া: শরীরে বারবার কোনো আঘাত ছাড়াই কালশিটে দেখা গেলে সাবধান হোন। লিভারের ক্ষতি হলে এটি প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে না, যার ফলে সামান্য চাপেই ত্বক কালচে হয়ে যেতে পারে।
পেটে তরল জমা ও ওজন হ্রাস: দীর্ঘ দিনের লিভারের অসুখে পেটের তলদেশে তরল জমা হয়ে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বা ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। একইসঙ্গে খিদে কমে যাওয়া এবং দ্রুত ওজন কমতে থাকা সিরোসিসের অন্যতম বিপজ্জনক লক্ষণ। এই সব ক্ষেত্রে কালবিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সিদ্ধান্তে শেয়ার বাজারে বড় পতন
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ ইঙ্গিত দিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফিরছে বাংলাদেশ!
- ভারত থেকে সরে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ!
- ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ, কার লাভ, কার লোকসান
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ:বাংলাদেশকে নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিল আইসিসি
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ
- বিনিয়োগকারীদের চাহিদার শীর্ষে ৯ কোম্পানির শেয়ার
- দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল নাহী অ্যালুমিনিয়াম
- সোনার দামে ইতিহাস, ভাঙল সব রেকর্ড
- আজকের স্বর্ণের দাম: (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬)
- ডিএসই-সিএসই বিলুপ্ত হচ্ছে, গঠিত হবে একক স্টক এক্সচেঞ্জ
- উসমানিয়া গ্লাসের EPS প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দারুন সুখবর: নীতিমালা জারি
- বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধের পথে ৬ এনবিএফআই, ৩টিকে সময় দিলো