MD. Razib Ali
Senior Reporter
লিভারের চরম ক্ষতি: ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস হয় যেভাবে
আমাদের যকৃৎ বা লিভারের অসুখ মানেই নিরাময় অসম্ভব—এই ভুল ধারণাটি অনেকের মধ্যেই প্রচলিত। তবে চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু হলে লিভারের অনেক জটিল অসুখও সারিয়ে তোলা সম্ভব। কিন্তু যদি লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে থাকে, যেমন দীর্ঘদিনের কোনও অসুখ, ঘনঘন জন্ডিস কিংবা মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান, তবে সেই ক্ষত একসময় চরম অবস্থায় পৌঁছোয়। এই পরিস্থিতিকেই চিকিৎসার ভাষায় বলা হয় ‘লিভার সিরোসিস’, যা ফ্যাটি লিভারের চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর।
লিভারের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত থেকে এই অসুখ জন্ম নেয় এবং এর প্রভাবে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। লিভারের এই নীরব ক্ষতি শুরু হলে তার লক্ষণগুলি শরীর আগে থেকেই প্রকাশ করে, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকেই উপেক্ষা করে যান।
ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিসে উত্তরণের প্রক্রিয়া
লিভারের চরম ক্ষতি ঠিক কীভাবে শুরু হয়, তার একটি স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ এবং আমেরিকান লিভার ফাইন্ডেশন।
আসলে, লিভার মেদ তৈরি করে এবং রক্তের মাধ্যমে সেই মেদ পেশিতে পৌঁছায়। যখন লিভারের তৈরি করা মেদ ও খরচ করা মেদের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হয়, অর্থাৎ মেদ উদ্বৃত্ত হয়ে যায়, তখন সেই ফ্যাট লিভারের কোষে জমতে শুরু করে। এই অবস্থাই হল ফ্যাটি লিভার।
ফ্যাটি লিভারকে সঠিক ডায়েট ও শরীরচর্চার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও, অতিরিক্ত তেলমশলাদার খাবার ও অ্যালকোহল এই বিপদকে বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে, যা ট্রাইগ্লিসারাইড ও ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের সমস্যা তৈরি করে। এই সম্মিলিত অবস্থাকে বলা হয় ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’। মূলত এই সিনড্রোমই ধীরে ধীরে লিভারের অভ্যন্তরে ক্ষতের সৃষ্টি করে সিরোসিসের জন্ম দেয়।
শুধু মদ্যপান নয়, লিভারের ক্ষতির জন্য দায়ী আরও যা
অনেকের ধারণা, কেবল অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেই সিরোসিস হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, জীবনযাত্রার বেশ কিছু ভুল অভ্যাস এবং অন্যান্য কারণও এই জটিল রোগের জন্য দায়ী:
ওষুধের কুপ্রভাব: জন্মগত কোনও ত্রুটি ছাড়াও কিছু কিছু ওষুধের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশেষত, পেটের ব্যথা কমাতে বা মদ্যপানে রাশ টানতে অনেকে যে ওষুধগুলি সেবন করেন, সেগুলি সাময়িক উপশম দিলেও পাকাপাকিভাবে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।
চূড়ান্ত পরিণতি: এভাবে লিভারের ক্ষত বহুগুণে বেড়ে যেতে থাকলে তার অন্তিমপরিণতি হতে পারে লিভার ক্যানসার।
সিরোসিসের ৫টি আগাম লক্ষণ, যা এড়ানো উচিত নয়
লিভারে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হলে তার কিছু সুস্পষ্ট লক্ষণ শরীরে প্রকাশ পায়। এই লক্ষণগুলি দেখা গেলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি:
হজমের সমস্যা: ঘন ঘন পেট খারাপ হওয়া, পেট ফাঁপা এবং অম্বলের মতো সমস্যা নিয়মিত ভোগাবে।
পায়ে জ্বালাভাব: লিভারের ক্ষয় হলে রক্তে অ্যালবুমিন প্রোটিনের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে পা ও গোড়ালিতে জ্বালাভাব অনুভূত হতে পারে।
জন্ডিসের ইঙ্গিত: লিভারের ক্ষত বাড়লে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার থেকে জন্ডিস হতে পারে।
সহজে কালশিটে পড়া: যদি প্রায়শই শরীরে ঘন ঘন কালশিটে পড়তে দেখেন, তবে তা সতর্ক হওয়ার বিষয়। লিভারের ক্ষতি হলে এটি প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে পারে না, ফলে সহজেই রক্তক্ষরণ হয়ে কালশিটে পড়ে।
পেট ফোলা ও ওজন হ্রাস: দীর্ঘ দিনের লিভারের অসুখে পেটের তলদেশে তরল জমা হয়ে পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকার বা ফাঁপার সমস্যা দেখা দেয়। একইসঙ্গে খিদে কমে যাওয়া এবং ওজন কমতে শুরু করা এই রোগের মারাত্মক লক্ষণ।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- Redmi Note 17 Pro 5G: বড় ব্যাটারি ও আকর্ষণীয় ফিচার
- আপনার নামে কত জমি আছে? মোবাইলেই জানুন অনলাইনে
- আজকের আবহাওয়ার খবর: কোথায় গরম, কোথায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৮টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- জমির খতিয়ান অনলাইনে বের করার নিয়ম, ঘরে বসেই দেখুন
- OPPO Find X10 Pro Max: স্পেসিফিকেশন, দাম ও লঞ্চের তারিখ
- মোবাইলেই নিজের জমির দাগ নম্বর বের করার নিয়ম