Alamin Islam
Senior Reporter
শাবান মাসে রাসুল (সা.)-এর রোজা ও শবে বরাতের আমলের সঠিক বিধান
শাবান মাস শুরু হলেই মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ১৫ তারিখের রাত ও দিন তথা শবে বরাত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এই সময়টিতে বিশেষ ইবাদত, নফল নামাজ ও রোজার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল আগ্রহ দেখা যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের মাপকাঠিতে এসব আমলের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আলেম ও গবেষকগণ।
নির্দিষ্ট আমলের ধর্মীয় ভিত্তি
ইসলামি শাস্ত্র অনুযায়ী, শাবান মাসের ১৫ তারিখকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো পদ্ধতির নামাজ, নির্দিষ্ট সংখ্যার রোজা বা ধরাবাঁধা কোনো ইবাদতের বাধ্যবাধকতা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়। প্রচলিত অনেক ক্ষেত্রে শবে বরাতের নির্দিষ্ট কিছু আমলকে সুন্নাহ বা ফজিলতপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হলেও, গবেষণায় এর সপক্ষে জোরালো কোনো দলিল পাওয়া যায় না।
শাবান মাসে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ
১৫ তারিখের নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা আমল না থাকলেও, পুরো শাবান মাস জুড়েই বেশি বেশি নফল রোজা রাখা সুন্নাহ সমর্থিত। সহিহ বুখারির তথ্যমতে, মহানবী (সা.) শাবান মাসের অধিকাংশ দিনই রোজা রাখতেন।
হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) যখন নবীজিকে এই মাসে অধিক রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন রাসুল (সা.) এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান যে, রজব ও রমজানের মধ্যবর্তী এই মাসটি নিয়ে মানুষ সাধারণত উদাসীন থাকে। অথচ এই মাসেই বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই রাসুল (সা.) চেয়েছিলেন, তাঁর আমল যখন আল্লাহর কাছে পেশ করা হবে, তখন যেন তিনি রোজা অবস্থায় থাকেন।
নফল রোজা ও ‘আইয়ামে বীজ’
আলেমদের মতে, শাবান মাসে নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, তবে বিরতিহীনভাবে পুরো মাস রোজা রাখা শরিয়তসম্মত নয়। যারা ১৫ শাবানে রোজা রাখতে চান, তারা ‘আইয়ামে বীজ’ বা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজার ধারাবাহিকতায় এটি পালন করতে পারেন।
হজরত আবু যার (রা.) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুল (সা.) মাসের এই তিন দিন রোজা রাখার গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই হিসেবে শবে বরাতের পরের দিন আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত একটি নফল রোজা হিসেবে গণ্য হতে পারে।
নামাজের নিয়ম ও প্রচলিত ভুল ধারণা
শবে বরাতে নফল নামাজ পড়ার জন্য শরিয়তে আলাদা কোনো নিয়ম, রাকাত সংখ্যা বা বিশেষ কোনো নিয়ত নির্ধারণ করা হয়নি। অন্য যেকোনো সময়ের নফল নামাজের মতো স্বাভাবিক নিয়মেই এই রাতে ইবাদত করা যাবে।
তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, যদি কেউ এই রাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নামাজের নিয়ম বা নিয়ত উদ্ভাবন করেন, তবে তা ‘বিদয়াত’ বা দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে। কারণ রাসুল (সা.) এই রাতের জন্য বিশেষ কোনো নামাজের রূপরেখা দিয়ে যাননি।
রমজানের প্রস্তুতি ও দোয়া
শাবান মাসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সামনের রমজান মাসের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেওয়া। এই সময়ে আল্লাহর কাছে নিজের সুস্থতা কামনা করা এবং যাতে সুন্দরভাবে রমজানের রোজা ও ইবাদত পালন করা যায়, সেই তৌফিক চেয়ে দোয়া করার প্রতি আলেমরা বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।
সারসংক্ষেপ: শাবান মাসের ১৫ তারিখকে ঘিরে অতিরঞ্জিত আমল বর্জন করে হাদিস সমর্থিত নফল ইবাদত, তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির খোঁজ করাই হলো মুমিনের সঠিক পন্থা।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- মুনাফার ধারাবাহিকতার পর বিএসআরএম স্টিলে আসছে বড় সিদ্ধান্ত
- Vivo V80 কেনার আগে জেনে নিন এর ভালো-মন্দ, কার জন্য সেরা
- Vivo V80: ৭,২০০mAh ব্যাটারি ও ZEISS ক্যামেরার চমক
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ কখন, কোথায় কীভাবে লাইভ দেখবেন
- OPPO F35 Pro 5G: ৮,০০০mAh ব্যাটারি ও ১৪৪Hz AMOLED
- আর্জেন্টিনা বনাম বেনিন ম্যাচ: সময়, একাদশ ও লাইভ দেখার উপায়
- ডোমিনেজ স্টিলে মালিকানা বদল, এবার পর্ষদেও বড় রদবদল
- আয়-সম্পদে বড় উত্থান অ্যাপেক্স ফুডসের, ডিভিডেন্ড কেন একই?