কিডনিতে পাথর রুখতে কী খাবেন, কী খাবেন না?
বর্তমান পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ কিডনিতে পাথরের সমস্যায় জর্জরিত। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ভুল খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরে পানির স্বল্পতা এই রোগের পথ প্রশস্ত করে। সচেতনতার অভাব এবং নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা অনেক সময় সাধারণ সমস্যাকে জটিল পর্যায়ে নিয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমেই এই যন্ত্রণাদায়ক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কিডনির কার্যকারিতা সচল রাখতে এবং পাথর জমার প্রক্রিয়া রুখে দিতে ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কিডনি সুরক্ষিত রাখতে আপনার পাতে কী রাখা জরুরি এবং কোন অভ্যাসগুলো এখনই ত্যাগ করা প্রয়োজন।
পাথর প্রতিরোধে যা রাখা চাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়
কিডনিতে পাথর তৈরির উপাদানগুলো যাতে জমাট বাঁধতে না পারে, সেটিই হওয়া উচিত আপনার খাবারের মূল লক্ষ্য। এই লড়াইয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারে নিচের খাবারগুলো:
ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য: অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে ক্যালসিয়াম কিডনির জন্য ক্ষতিকর। আদতে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা জরুরি। দুধ বা দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবার অন্ত্রের ভেতর থাকা অক্সালেটকে শুষে নেয়, ফলে সেটি প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হতে পারে না এবং পাথর তৈরির সুযোগ পায় না।
প্রাকৃতিক সাইট্রেট ও পটাশিয়াম: সবুজ শাক-সবজি এবং টাটকা ফলমূল পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের বড় উৎস। এগুলো প্রস্রাবে সাইট্রেটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা ক্যালসিয়ামকে ক্রিস্টাল বা দানা বাঁধতে বাধা দিয়ে পাথর হওয়া রুখে দেয়।
লেবুর জাদুকরী গুণ: সাইট্রাস জাতীয় ফল, বিশেষ করে পাতি লেবুর রস কিডনির জন্য অত্যন্ত হিতকর। এতে থাকা সাইট্রেট উপাদানটি পাথর সৃষ্টিকারী যৌগগুলোর গঠন ভেঙে দেয়।
উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার: কিডনির সার্বিক সুস্থতায় হোল গ্রেইন বা আস্ত শস্যদানা এবং উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত খাবারগুলো মূত্রনালীর পরিবেশ উন্নত রাখতে দারুণ কাজ করে।
সাবধান! কিডনির শত্রু যখন আপনার প্রিয় খাবার
কিছু খাবারের উপাদান সরাসরি আমাদের প্রস্রাবের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট করে পাথরের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গবেষণার নিরিখে এমন কিছু ক্ষতিকর উপাদানের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার: জার্নাল অফ ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড প্রাইমারি কেয়ার-এর তথ্য অনুযায়ী, যারা দিনে ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি সোডিয়াম বা লবণ গ্রহণ করেন, তাদের প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অবস্থাই মূলত ক্যালসিয়াম-ভিত্তিক পাথর তৈরির প্রধান কারণ।
চিনি ও ফ্রুক্টোজের প্রভাব: মিষ্টিজাতীয় খাবার বা অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ রক্তে ও প্রস্রাবে অক্সালেট এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনির জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রাণিজ প্রোটিনের বাড়াবাড়ি: লাল মাংস (গরু, খাসি) বা প্রক্রিয়াজাত মাংস শরীরে অম্লের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং সাইট্রেটের মাত্রা কমিয়ে ফেলে। এটি পাথর তৈরির সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
কোলা পানীয়র ঝুঁকি: বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে, নিয়মিত কোলা জাতীয় পানীয় পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার শঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। এর কারণ হলো এসব পানীয়র ফসফরিক অ্যাসিড।
কিডনি পাথর নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ করাই উত্তম। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় লবণের পরিমাণ কমিয়ে লেবু ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করার মাধ্যমে আপনি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারেন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সুস্থ থাকার অন্যতম মূলমন্ত্র।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আপনার নামে কত জমি আছে, কোথায় কোথায় আছে—অনলাইনে জানবেন যেভাবে
- জমির নামজারি করতে কী কী লাগে, খরচ কত ও সময় কত দিন?
- Honor Magic9 Pro Max: ৮৮০০mAh ব্যাটারি ও ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরা
- ৬ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণা
- ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমি নামজারি করবেন যেভাবে, জানুন নিয়ম
- আজকের সোনার দাম: ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন দর
- আজকের সোনার দাম: প্রতি ভরি ১৮, ২১, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত
- জিকিউ বলপেনের ১২.৫০% নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা
- iQOO Neo 12: ১৮৫Hz ডিসপ্লে ও ৯০০০mAh ব্যাটারির চমক
- আজকের সোনার দাম কত? ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটের নতুন দর
- Infinix Smart 20E: ১২০Hz ডিসপ্লে ও বড় ব্যাটারি?
- অনলাইনে জমির নামজারি করবেন যেভাবে, খরচ ১১৭০ টাকা