ঢাকা, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

খামেনির মরদেহ চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করল ইরান? জানালেন বিশেষজ্ঞ

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ০৩ ১৪:৪০:২৯
খামেনির মরদেহ চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করল ইরান? জানালেন বিশেষজ্ঞ

আলী খামেনির মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করে রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তিনি নিহত হওয়ার পর থেকে তার মরদেহ ইরানের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এতদিন ধরে কীভাবে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেটিই এখন আলোচনার প্রধান বিষয়।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফন সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ কারণে মরদেহ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ বা মমি করে রাখার বিষয়টি সাধারণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

এ বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাউন্টার টেররিজম বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, ইসলামে মমি করার অনুমতি না থাকায় খামেনির মরদেহ সম্ভবত বিশেষ রেফ্রিজারেটেড কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়েছে। তার ধারণা, মরদেহ সংরক্ষণে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি।

তার ভাষ্য, শিয়া আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে দাফনে বিলম্ব এবং হিমায়িত অবস্থায় মরদেহ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে একজন সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়াও তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

ড. মোহাম্মদ ওমর আরও বলেন, ইরানের ফরেনসিক মর্গে বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহ সংরক্ষণের নজির রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় চার মাস হিমাগারে মরদেহ রাখা অস্বাভাবিক নয়। ধর্মীয় ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় তেহরানে অবস্থিত খামেনির কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলাতেই তিনি নিহত হন।

খামেনির মরদেহের বর্তমান অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেছেন ড. মোহাম্মদ ওমর। তার মতে, সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সম্পূর্ণ অক্ষত মরদেহ থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, বাঙ্কার-বাস্টার বোমার আঘাতে নিহত হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে তার এবং অন্য নিহতদের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, যদি সরকার অক্ষত মরদেহ উদ্ধার করতে পারত, তাহলে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান বাতিল করা বা দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তনের প্রয়োজন হতো না। তার মতে, যে দেহাবশেষ সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে, সেটিকেই এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার সকালে আলী খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে মরদেহটি গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রধান প্রার্থনা কক্ষে রাখা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব সেখানে উপস্থিত হয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

শাকিল আহমেদ/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এলপিজির দামে বড় স্বস্তি, জানুন নতুন মূল্য তালিকা

এলপিজির দামে বড় স্বস্তি, জানুন নতুন মূল্য তালিকা

দেশের এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি... বিস্তারিত