ঢাকা, শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সৌদিতে বাংলাদেশিদের আকামা নবায়নে বদলে গেল নিয়ম

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৯:২৪:১১
সৌদিতে বাংলাদেশিদের আকামা নবায়নে বদলে গেল নিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আকামা নবায়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে সৌদি আরব থেকে। এখন থেকে কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মূল নিয়োগকর্তা (কফিল) যদি আকামা নবায়ন না করেন, তাহলে তিনি দ্রুত অন্য কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়ন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা থাকবে না বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানান সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৌশলী ওয়ালিদ আব্দুল করিম আল-খুরেইজি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত তিনটি শ্রমবিষয়ক চুক্তির মধ্যে ডোমেস্টিক কর্মী এবং এসভিপি (SVP) চুক্তি নবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন কর্মী নিয়োগ চুক্তিটি দ্রুত সৌদি সরকারের অনুমোদনের অনুরোধ জানানো হয়। কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যৌথ টেকনিক্যাল কমিশনের বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাবও দেয় বাংলাদেশ।

এ সময় বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে 'সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়। এর মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আরবি ভাষা শিক্ষা, সৌদি আইন, সংস্কৃতি ও রীতিনীতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ এবং প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন আরও কার্যকরভাবে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ, উচ্চদক্ষ ও পেশাদার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ সহজ করতে কারিগরি ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতির একটি কাঠামো তৈরির প্রস্তাবও দেয় বাংলাদেশ।

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সময়মতো ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা ইস্যু এবং নবায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিটের বাড়তি ফি দেখিয়ে কিছু নিয়োগকর্তা যে বিলম্ব করছে, তা দূর করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীরা যেমন সৌদি আরবের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তেমনি দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখছেন।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আরবি ভাষায় দক্ষ হওয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালের সৌদি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সৌদিতে কর্মরত বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ রমজান ও ঈদ উপলক্ষে সৌদির বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশের প্রস্তাবের জবাবে সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা জানান, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে সৌদি আরব আগ্রহী। তিনি বলেন, কর্মীদের অধিকার রক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম (WPS) ও বীমা সুবিধা চালু রয়েছে। এছাড়া সৌদি কারাগারে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য কূটনৈতিক মাধ্যমে পাঠানো হলে তাদের সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

মুসআব/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ