ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

৫০ বছরে প্রথমবার এমন হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১০:৫৯:৪৯
৫০ বছরে প্রথমবার এমন হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুই গোলের ব্যবধান ধরে রেখেও ম্যাচ হারল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ব্রাইটনের বিপক্ষে কারাবাও কাপের ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে রেড ডেভিলদের। এই হারের সঙ্গে ৫০ বছরের পুরোনো এক অস্বস্তিকর রেকর্ডও ফিরে এসেছে। ঘরের মাঠে দুই গোলে এগিয়ে থাকার পর কোনো ম্যাচ হারের ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১৯৭৬ সালে টটেনহ্যামের বিপক্ষে।

প্রিমিয়ার লিগ যুগ শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে সব প্রতিযোগিতা হিসাব করলেও এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল ইউনাইটেডের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ ঘরের মাঠে দুই গোলের সুবিধা নিয়েও হার—এই অভিজ্ঞতা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হলো প্রায় পাঁচ দশক পর।

দুই গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত পরাজয়

কারাবাও কাপে ব্রাইটনের বিপক্ষে শুরুটা ছিল ইউনাইটেডের পক্ষে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই তারা ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি ক্যারিকের দল।

একাডেমি থেকে উঠে আসা শিয়া লেসি শুরুর একাদশে প্রথমবার সুযোগ পেয়েই দলকে এগিয়ে দেন। গোল করার পর ইউনাইটেডের ব্যাজে চুমু দেন তিনি।

এরপর ১০ মিনিটের মাথায় ব্যবধান আরও বাড়ান মেসন মাউন্ট। তখন ম্যাচটি ইউনাইটেডের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজেদের ভুলে ব্রাইটনকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয় স্বাগতিকরা।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে চারালামপোস কোস্তুলাস ব্রাইটনের হয়ে একটি গোল শোধ করেন। ফলে বিরতিতে ইউনাইটেডের দুই গোলের সুবিধা নেমে আসে এক গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র

বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই ব্রাইটনের হাতে চলে যায়। ‘সিগালস’দের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে ইউনাইটেড কার্যকর কোনো উত্তর খুঁজে পায়নি।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরে ব্রাইটন। পাসকাল গ্রস ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে স্কোর ২-২ করেন।

এরপর ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন বদলি হিসেবে নামা ম্যাক্সিম দে কুইপার। তার গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাইটন।

ব্রাইটনের তৃতীয় গোলের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পরিবেশও বদলে যায়। নিজেদের মাঠে দুই গোলের লিড হারিয়ে পিছিয়ে পড়ায় ইউনাইটেড সমর্থকদের কাছ থেকে শুরু হয় তীব্র দুয়ো।

শেষ বাঁশি বাজার পর সেই ক্ষোভ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

টানা ব্যর্থতায় বাড়ছে ক্যারিকের চাপ

ব্রাইটনের কাছে এই হারকে আরও হতাশাজনক করে তুলেছে এর ঠিক আগের ম্যাচের ফল। মাত্র তিন দিন আগে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ১০ জনের ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বিতর্কিত এক গোলে হেরেছিল ইউনাইটেড। সেই ম্যাচের যন্ত্রণা নিয়েই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফিরেছিল তারা।

কিন্তু ঘরের মাঠেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। নিজেদের ভুলের কারণেই ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।

এর প্রভাব পড়ছে কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপরও। একের পর এক পরাজয়ে তার ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও খুব স্বস্তিতে নেই তার দল। চার ম্যাচে এখন পর্যন্ত একটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ১৩তম স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড।

কারাবাও কাপে আবারও বিব্রতকর বিদায়

কারাবাও কাপ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য নতুন করে হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াল। গত মৌসুমে গ্রিমসবির কাছে হেরে এই প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার ব্রাইটনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে সেই হতাশারই আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হলো।

তবে এবারের বিদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বিব্রতকর একটি পরিসংখ্যান। ঘরের মাঠে দুই গোলের ব্যবধান ধরে রাখার পরও ম্যাচ হারার ঘটনা ইউনাইটেডের ক্ষেত্রে ৫০ বছর পর আবার ঘটল।

১৯৭৬ সালে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারের পর এবার ব্রাইটনের কাছে একই ব্যবধানে পরাজয়। আর প্রিমিয়ার লিগ যুগে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে সব প্রতিযোগিতা বিবেচনায় এটি ঘরের মাঠে দুই গোলের লিড নষ্ট করে ইউনাইটেডের প্রথম হার।

মাঠের বাইরেও আলোচনায় ইউনাইটেডের তরুণরা

ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচে শিয়া লেসির গোলের ঘটনাটি আলাদাভাবে নজর কেড়েছে। প্রথমবার শুরুর একাদশে জায়গা পেয়েই গোল করেন একাডেমির এই খেলোয়াড়। গোলের পর ক্লাবের ব্যাজে চুমু দিয়ে উদযাপন করেন তিনি।

এর ঠিক আগের দিন ১৫ বছর বয়সী প্রতিভা জেজে গ্যাব্রিয়েল ক্লাব ছাড়ার অনুরোধ করেছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।

সব মিলিয়ে ব্রাইটনের বিপক্ষে ম্যাচটি ইউনাইটেডের জন্য ছিল দুই গোলের লিড থেকে ৩-২ ব্যবধানে পরাজয়ের এক হতাশাজনক রাত। একই সঙ্গে এই হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসে ৫০ বছর পর ফিরে আসা একটি বিব্রতকর রেকর্ডও সামনে নিয়ে এসেছে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ