ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Md Razib Ali

Senior Reporter

ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সান্ডারল্যান্ড: ৮ গোলের ম্যাচে শেষ হাসি কার?

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২১:১৭:১৮
ম্যানচেস্টার সিটি বনাম সান্ডারল্যান্ড: ৮ গোলের ম্যাচে শেষ হাসি কার?

প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির জয়রথ থামানোর মতো কাউকে এখনো পাওয়া যায়নি। ২০ সেপ্টেম্বর সান্ডারল্যান্ডকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে সিটি। আট গোলের উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচের পর পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দলটি তিন পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে।

এতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সান্ডারল্যান্ড বারবার পিছিয়ে পড়েও লড়াইয়ে ফিরেছে। ব্রায়ান ব্রোবির হ্যাটট্রিকের কারণে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে সিটিকে ম্যাচের শেষভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। স্বাগতিকদের হয়ে এনজো ফার্নান্দেজ, রায়ান শেরকি, আন্তোয়ান সেমেনিও এবং এরলিং হালান্ড গোল করেন।

এই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি ছিল হালান্ডের ৮১ মিনিটের গোল। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠলেও ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি বৈধ হয়।

পাঁচ ম্যাচেই নিখুঁত রেকর্ড

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় সিটির মৌসুমের প্রথম পাঁচ ম্যাচের পঞ্চম জয়। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পয়েন্ট টেবিলে সিটির সংগ্রহ ১৫। পাঁচ ম্যাচে তাদের গোল ১৩টি, হজম করেছে ৫টি; গোল ব্যবধান +৮।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আর্সেনালের পয়েন্ট ১২। পাঁচ ম্যাচে তাদের জয় চারটি এবং হার একটি। তৃতীয় স্থানে থাকা ব্রাইটনের পয়েন্ট ১০।

এই ফলের পর প্রথম পাঁচ ম্যাচে ১০০ শতাংশ জয় পাওয়া প্রিমিয়ার লিগের একমাত্র দল এখন ম্যানচেস্টার সিটি।

গোলের শুরু ফার্নান্দেজের পা থেকে

ম্যাচের নবম মিনিটেই স্কোরলাইন বদলে যায়। সান্ডারল্যান্ডের কর্নার থেকে আক্রমণ শুরু হলেও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় সিটি। ইলিমান এনদিয়ায়েকে থামাতে ডায়ান মেথালির ট্যাকলের পর সিটির সামনে ফ্রি-কিকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

সান্ডারল্যান্ডের রক্ষণ যখন বক্সে বল আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন এনজো ফার্নান্দেজ কাছের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। অপ্রত্যাশিত সেই প্রচেষ্টায় গোলরক্ষক রবিন রোফসকে পরাস্ত করে সিটি এগিয়ে যায়।

তবে তিন মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরে। এনজো লে ফিরের পাস থেকে বল পেয়ে ব্রায়ান ব্রোবি দোন্নারুম্মার ওপর দিয়ে বল তুলে দিয়ে জালে পাঠান।

শেরকির গোলের পরও স্বস্তি মেলেনি

দুই দলই তখন আক্রমণে ব্যস্ত। সিটির চাপ থেকে বল পুনরুদ্ধারের পর আন্তোয়ান সেমেনিওর কাছ থেকে বল পেয়ে রায়ান শেরকি কিছুটা সময় নিয়ে নিচু শট নেন। ভিড়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া সেই বল নিচের কোণায় গিয়ে থামে।

২৯ মিনিটে সিটি আবার এগিয়ে গেলেও চার মিনিটের বেশি ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি। থমাস মুনিয়েরের ক্রস থেকে ব্রোবি আবারও গোল করেন। অফসাইড নিয়ে দীর্ঘ ভিএআর যাচাইয়ের পর গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ফলে প্রথমার্ধের শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য আবারও সিটিকে এগোতে হয়।

বিরতির ঠিক আগে সেমেনিওর গোল

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে আবারও এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। মার্ক গুয়েহি পেছনের পোস্টে বল জেতার পর সেটি সেমেনিওর কাছে পৌঁছে যায়। সুযোগ পেয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি।

বিরতিতে সিটির লিড ছিল ৩-২। এর আগেই হালান্ডের একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল। অন্যদিকে ব্রোবির ডিফ্লেক্টেড শটও দোন্নারুম্মা ঠেকিয়ে দেন।

সেমেনিওর দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দুই

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সান্ডারল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুল থেকেই আবার সুযোগ পেয়ে যায় সিটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন সেমেনিও।

তখন মনে হচ্ছিল সিটি হয়তো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সান্ডারল্যান্ডের উত্তর আসতে সময় লাগে মাত্র দুই মিনিট।

অ্যাঙ্গুলোর হেড থেকে আসা বল কাছ থেকে জালে পাঠিয়ে নিজের তৃতীয় গোল করেন ব্রোবি। ৫৯ মিনিটের ওই গোলের পর ব্যবধান আবার এক গোলে নেমে আসে।

শেষ পর্যন্ত হালান্ডই পার্থক্য গড়ে দেন

ম্যাচের শেষদিকে সান্ডারল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও ৮১ মিনিটে সিটির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন হালান্ড।

জোস্কো গভার্দিওলের ক্রস থেকে বল পেয়ে তা জালে পাঠান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে অফসাইডের পতাকা উঠেছিল। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, গভার্দিওল অনসাইডে ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত বদলে গোলটি অনুমোদন করা হয়।

এরপর আর গোল না হওয়ায় ৫-৩ ব্যবধানেই ম্যাচ শেষ হয়। নিকো ও'রেইলি সিটির ষষ্ঠ গোল করার সুযোগ পেলেও রোফস তাঁকে আটকে দেন। শেষদিকে ড্যান বলার্ডের শট পোস্টে লাগায় সান্ডারল্যান্ডও আরেকটি গোলের সুযোগ হারায়।

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষেও গোল করলেন হালান্ড

এই ম্যাচের ৮১ মিনিটের গোলটি শুধু জয় নিশ্চিত করেনি, হালান্ডের ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নতুন সংযোজন করেছে।

প্রিমিয়ার লিগে যে ২৫টি দলের বিপক্ষে হালান্ড খেলেছেন, তাদের প্রত্যেকটির বিপক্ষেই এখন তাঁর গোল রয়েছে। সান্ডারল্যান্ড গত মৌসুমে তাঁকে দুইবার গোল করতে দেয়নি। এবার সেই দলের বিপক্ষেও গোলের তালিকা পূর্ণ করলেন তিনি।

চলতি মৌসুমে সাত ম্যাচে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটি। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি সুযোগ নষ্ট করার পর শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকেই আসে ম্যাচের অষ্টম গোল।

মারেসকারও বিশেষ অর্জন

সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এনজো মারেসকার জন্যও একটি মাইলফলক তৈরি করেছে। নতুন ক্লাবের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের প্রথম পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেই জয় পাওয়া ম্যানেজারদের তালিকায় তিনি এখন ষষ্ঠ।

এই তালিকায় তাঁর পূর্বসূরি পেপ গার্দিওলাও রয়েছেন।

ম্যাচের এক নজরে

ম্যানচেস্টার সিটি ৫-৩ সান্ডারল্যান্ড

সিটির গোল: এনজো ফার্নান্দেজ ৯', রায়ান শেরকি ২৯', আন্তোয়ান সেমেনিও ৪৩', ৫৭', এরলিং হালান্ড ৮১'

সান্ডারল্যান্ডের গোল: ব্রায়ান ব্রোবি ১২', ৩৩', ৫৯'

স্টেডিয়াম: এতিহাদ স্টেডিয়াম

দর্শক: ৬০,৩১২

তারিখ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সময়: ১৬:০০

দুই দলের একাদশ

ম্যানচেস্টার সিটি: দোন্নারুম্মা, নুনেস, দিয়াস (অধিনায়ক), গুয়েহি, গভার্দিওল, অ্যান্ডারসন, ফার্নান্দেজ, এনদিয়ায়ে, শেরকি (ও'রেইলি ৮৫'), সেমেনিও (ডোকু ৭৫'), হালান্ড।

ব্যবহার না করা বদলি: রুলি, কোভাচিচ, আইত-নুরি, বুয়াদ্দি, অ্যালান, খুসানভ, লুইস।

সান্ডারল্যান্ড: রোফস, মুনিয়ের (হিউম ৭৯'), মুকিয়েলে, বলার্ড, দানসো, মেথালি, জাকা (অধিনায়ক), সাদিকি (ইসিদোর ৬৮'), লে ফি, অ্যাঙ্গুলো (ফোফানা ৬০'), ব্রোবি।

ব্যবহার না করা বদলি: এলবর্গ, ও'নিয়েন, আলদারেতে, তালবি, আহোকা, রিগ।

সামনে সিটির ব্যস্ত সূচি

আন্তর্জাতিক বিরতির কারণে সিটির খেলোয়াড়দের বড় একটি অংশ নিজ নিজ দেশের হয়ে দায়িত্ব পালন করতে যাবেন। বিরতির পর প্রিমিয়ার লিগে সিটির পরবর্তী ম্যাচ ১১ অক্টোবর রোববার।

সেদিন ১৬:৩০ (ইউকে সময়) অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে খেলবে সিটি।

এরপর ১৪ অক্টোবর বুধবার এতিহাদে ফিরবে তারা। সেদিন ২০:০০ (ইউকে সময়) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ