ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

উৎপাদন দ্বিগুণ, বাড়ছে মুনাফা-নগদ প্রবাহ; সুখবরের অপেক্ষায়

শেয়ারনিউজ ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২০:৪৬:৪২
উৎপাদন দ্বিগুণ, বাড়ছে মুনাফা-নগদ প্রবাহ; সুখবরের অপেক্ষায়

একদিকে উৎপাদন ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ, অন্যদিকে আর্থিক সূচকে উন্নতি—এমন প্রেক্ষাপটে এনভয় টেক্সটাইলের পরবর্তী ডিভিডেন্ড সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের। ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় পরিচালনা পর্ষদের সভা করবে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানিটি। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগের বছর অর্থাৎ ৩০ জুন, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল এনভয় টেক্সটাইল। তবে উৎপাদন সম্প্রসারণসহ কোম্পানিটির সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইতিবাচক পরিকল্পনার কারণে এবার ডিভিডেন্ডের পরিমাণ বাড়তে পারে।

নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় ৫ টাকা ৮৯ পয়সা

ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্তের আগে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থার কয়েকটি সূচকেও উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত হিসাবে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৮৯ পয়সা।

একই সময়ে পরিচালন কার্যক্রম থেকে নগদ অর্থ আসার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। চলতি হিসাববছরের প্রথম নয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ ১৬ টাকা ৮৫ পয়সায় পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ২৭ পয়সা।

কোম্পানির সম্পদমূল্যের হিসাবেও ঊর্ধ্বমুখী পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬১ টাকা ২১ পয়সা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন এ মূল্য ছিল ৫৮ টাকা ৩২ পয়সা।

উৎপাদনের পরিধি বাড়ছে দুই দিকেই

এনভয় টেক্সটাইল শুধু আর্থিক সূচকের উন্নতিতে সীমাবদ্ধ নেই; উৎপাদন ব্যবস্থাতেও সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ এগিয়ে নিয়েছে। ডেনিম কাপড় উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা ৫ কোটি ২০ লাখ গজ থেকে বাড়িয়ে ৬ কোটি গজ করা হয়েছে।

১৪ জুলাই ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি অবহিত করা হয়। বাড়ানো সক্ষমতায় এরই মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।

কোম্পানির উৎপাদন ব্যবস্থার নির্দিষ্ট কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের সুবিধা উন্নত করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করেই এই সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের আগের ধাপের প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। ফলে পরবর্তী ধাপের বিদ্যমান সক্ষমতাও পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণের পাশাপাশি কোম্পানির সামগ্রিক পরিচালন দক্ষতাও উন্নত হয়েছে।

রোটর স্পিনিংয়ে দৈনিক উৎপাদন হবে দ্বিগুণ

ডেনিম উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সুতা উৎপাদনের সক্ষমতাও বড় পরিসরে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৬ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ২৫২তম সভায় বিদ্যমান কারখানায় ওপেন-এন্ড রোটর স্পিনিংয়ের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন থেকে বাড়িয়ে ৫০ মেট্রিক টনে উন্নীত করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন ব্যবস্থায় বিদ্যমান উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে পুনরুদ্ধার করা উপকরণ ব্যবহার করে সুতা উৎপাদন বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে কম ব্যবহার হওয়া উৎপাদন সক্ষমতাও কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এই প্রকল্পে উৎপাদিত সুতা কোম্পানির নিজস্ব ডেনিম উৎপাদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে উল্লম্ব সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে এবং পরিচালন দক্ষতা বাড়বে।

প্রকল্পে ব্যয় ১৭৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা

রোটর স্পিনিং সম্প্রসারণ প্রকল্পটির মোট আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৯ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এর অর্থায়নে ঋণ ও নিজস্ব মূলধনের অনুপাত হবে ৭০:৩০।

প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক ওপেন-এন্ড রোটর স্পিনিং সুতা উৎপাদন সুবিধা স্থাপন করা হবে।

কোম্পানির প্রাক্কলিত পরিচালন দক্ষতা এবং বর্তমান ব্যয় ও মূল্য নির্ধারণের ধারণার ভিত্তিতে প্রকল্পটি ৭ বছর মেয়াদি ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ তৈরি করতে সক্ষম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য পরিশোধকাল প্রায় ৪ দশমিক ৮ বছর। ১৫ বছরের প্রকল্প মেয়াদে ইক্যুইটির অভ্যন্তরীণ রিটার্ন হার ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ রিটার্ন হার ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ কারখানার জন্যও প্রস্তুতি

উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জায়গাও নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। ময়মনসিংহের ভালুকার জামিরদায় কোম্পানির বর্তমান কারখানার পাশের এলাকায় ৫০ দশমিক ৩৭ ডেসিমাল জমি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২৬ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিবন্ধন ও অন্যান্য ব্যয়সহ জমিটি কিনতে আনুমানিক ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ভবিষ্যতে কারখানা সম্প্রসারণের কাজে জমিটি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সক্ষমতা বাড়ানোর পেছনে একাধিক লক্ষ্য

কোম্পানির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অব্যবহৃত সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং কার্যক্রমে আরও দক্ষতা আনা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোটর স্পিনিংয়ের উৎপাদন দ্বিগুণ করার পাশাপাশি ডেনিম উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ কারখানা সম্প্রসারণের জন্য জমি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যবস্থা ও পরিচালন সক্ষমতা—দুই ক্ষেত্রেই পরিধি বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে এনভয় টেক্সটাইল।

এখন ২৭ সেপ্টেম্বরের বোর্ড সভায় ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কী ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ