ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

ডিভি লটারি ২০২৭: ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন শুরুর নির্দেশ

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ২০:৩৬:৪০
ডিভি লটারি ২০২৭: ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন শুরুর নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে আগ্রহীদের জন্য ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কর্মসূচি ঘিরে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৭ সালের এই কর্মসূচির নিবন্ধন কার্যক্রম আবার চালুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। নির্দেশনায় ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করার কথা বলা হয়েছে। তবে নতুন করে আবেদন নেওয়া শুরু হলে বাংলাদেশের নাগরিকেরা এতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ নির্দেশ দেন। আদালতের সিদ্ধান্তে নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন পর্যন্ত চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে। ফলে আবেদন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। আবেদন শুরুর নির্দিষ্ট সময়, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদন জমা দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য ওই ঘোষণার মাধ্যমেই জানা যাবে।

ডিভি লটারি নিয়ে আদালতে মামলা কেন

কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর দাবিতে মামলা করেছিল রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত ডিভি লটারি কর্মসূচি স্থগিত রেখেছিল।

আদালতে প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করে, এই বিলম্বের কারণে সম্ভাব্য আবেদনকারীদের ক্ষতির পাশাপাশি ডিভি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিতে আদালত নির্দেশ দেন।

ডিভি লটারিতে কী সুযোগ পাওয়া যায়

ডিভি লটারি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড লটারি হিসেবেও পরিচিত। এর মাধ্যমে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দেশ থেকে তুলনামূলকভাবে কম মানুষ অভিবাসন করেন, সেসব দেশের যোগ্য নাগরিকদের জন্য এই সুযোগ রাখা হয়েছে।

লটারিতে নির্বাচিত ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে পারেন। তবে শুধু লটারিতে নাম উঠলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয় এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব কিংবা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না। এ দিক থেকে এটি কর্মভিত্তিক অভিবাসনের অনেক প্রক্রিয়া থেকে আলাদা।

কারা ডিভি লটারির জন্য যোগ্য হতে পারেন

ডিভি লটারিতে আবেদনের যোগ্যতা অর্জনের সাধারণ শর্তগুলোর একটি হলো উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা এর সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা। তবে বিকল্প পথও রয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে এমন কোনো পেশায় কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।

কারা আবেদন করতে পারবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দেখা জরুরি। বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণের যোগ্যতা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই আবেদন শুরুর সম্ভাব্য তারিখের পাশাপাশি দেশের যোগ্যতা-সংক্রান্ত ঘোষণাটিও আগ্রহীদের নজরে রাখতে হবে।

কেন চালু করা হয়েছিল এই কর্মসূচি

ডিভি লটারির সূচনা হয় ১৯৯০ সালে। ওই বছর ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। অভিবাসন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈষম্য কমানো ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

১৯৬৫ সালের পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবারভিত্তিক বা পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগের বাইরে থাকা এবং তুলনামূলকভাবে কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অভিবাসনের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেও কর্মসূচিটি চালু করা হয়।

এই লটারির ভিসা বরাদ্দে মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য বরাদ্দ ভিসাও হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে।

আবেদন শুরুর আগে কোন বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া দরকার

আদালতের নির্দেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু। নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন পর্যন্ত চালু রাখার কথাও রয়েছে।

তবে এসব নির্দেশের পাশাপাশি আবেদনকারীদের যোগ্যতা, আবেদন জমা দেওয়ার নিয়ম এবং বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিকেরা আবেদন করতে পারবেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সুতরাং, ডিভি লটারি ২০২৭-এ অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সরকারি নির্দেশনার দিকে নজর রাখা। আবেদন শুরুর সময়সীমা জানার পাশাপাশি বাংলাদেশ অংশগ্রহণের যোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হতে হবে।

পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)

১. ডিভি লটারি ২০২৭-এর আবেদন কখন শুরু হওয়ার কথা?

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। তবে চূড়ান্ত সময়সূচি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে।

২. নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশের শেষ সময় কবে?

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ করতে হবে।

৩. বাংলাদেশিরা কি ডিভি লটারি ২০২৭-এ অংশ নিতে পারবেন?

এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য নেই। বাংলাদেশের নাগরিকদের যোগ্যতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন।

৪. ডিভি লটারিতে প্রতিবছর কতটি ভিসা দেওয়া হয়?

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

৫. লটারিতে নির্বাচিত হলে কি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায়?

না। নির্বাচিত হওয়ার পরও যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ