ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

এনআইডি সংশোধনের ফি কত? প্রথমবার ও পরের আবেদনের হিসাব

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৩:০৫:১৫
এনআইডি সংশোধনের ফি কত? প্রথমবার ও পরের আবেদনের হিসাব

জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয়। তবে সব ধরনের সংশোধনের ফি এক নয়। নির্বাচন কমিশনের ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জানানো নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, এনআইডির দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনে প্রথমবার আবেদন করতে ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩৪৫ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবার ৪৬০ টাকা লাগে। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে প্রথমবার ১১৫ টাকা, দ্বিতীয়বার ২৩০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবার ৩৪৫ টাকা দিতে হয়। ফলে আবেদন করার আগে নিজের সংশোধনের ধরন বুঝে নেওয়া জরুরি।

এনআইডি সংশোধনের নতুন ফি কত?

নির্বাচন কমিশনের নতুন ফি-সংক্রান্ত নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনের ধরন ও আবেদনের ক্রম অনুসারে ফি নির্ধারিত হয়েছে। নিচে ভ্যাটসহ ফি দেওয়া হলো। সূত্র: ঢাকা পোস্ট, আমার সিলেট

১. এনআইডির দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনের ফি

আবেদনের ক্রমসংশোধন ফি
প্রথমবার ২৩০ টাকা
দ্বিতীয়বার ৩৪৫ টাকা
পরবর্তী আবেদন ৪৬০ টাকা

এনআইডি কার্ডে সরাসরি দেখা যায় এমন তথ্য—যেমন নিজের নাম, বাবা বা মায়ের নাম কিংবা জন্মতারিখ—সংশোধনের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য হতে পারে। সংশোধনের নির্দিষ্ট ধরন অনুযায়ী পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করে নেওয়া উচিত।

২. এনআইডির অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের ফি

আবেদনের ক্রমসংশোধন ফি
প্রথমবার ১১৫ টাকা
দ্বিতীয়বার ২৩০ টাকা
পরবর্তী আবেদন ৩৪৫ টাকা

অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত বলতে এনআইডি কার্ডে সরাসরি মুদ্রিত নয়, এমন নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য বোঝানো হতে পারে। কোন তথ্য কোন শ্রেণিতে পড়বে, তা আবেদন করার সময় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।

মনে রাখবেন: উপরের ফি সংশোধনের আবেদনসংক্রান্ত। হারানো বা নষ্ট হওয়া এনআইডি পুনরায় তোলার ফি আলাদা। নতুন ফি কাঠামো কার্যকর থাকলেও নির্দিষ্ট আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত অর্থের পরিমাণ মিলিয়ে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

কোন তথ্য সংশোধনে কোন ফি লাগবে?

এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে ভুলের ধরন অনুযায়ী আবেদন করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ—

নিজের নাম বা নামের বানান: কার্ডে প্রদর্শিত তথ্য সংশোধনের আবেদন হতে পারে।

জন্মতারিখ: সংশোধনের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিতে হয়।

বাবা বা মায়ের নাম: সংশ্লিষ্ট তথ্যের সমর্থনে জন্মনিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য দলিল লাগতে পারে।

পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অন্য নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য: সংশোধনের ধরন অনুযায়ী আলাদা শ্রেণি প্রযোজ্য হতে পারে।

একাধিক তথ্য একসঙ্গে সংশোধন: একাধিক সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি কীভাবে গণনা হবে, তা আবেদনপত্রে প্রদর্শিত হিসাব ও সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেখে নিশ্চিত করতে হবে।

শুধু তথ্যের নাম দেখে ফি নির্ধারণ না করে আবেদনপোর্টালে সংশোধনের সঠিক বিভাগ নির্বাচন করুন। ভুল বিভাগ নির্বাচন করলে আবেদন বা অর্থ জমার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এনআইডি সংশোধনের আবেদন করবেন যেভাবে

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন অনলাইনে করা যায়। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।

ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পোর্টাল থেকে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন বা অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

ধাপ ২: সংশোধনের আবেদন নির্বাচন করুন

নিজের এনআইডির তথ্য যাচাই করে যে তথ্যটি ভুল, সেটি সংশোধনের জন্য নির্ধারিত অপশন নির্বাচন করুন। নাম, জন্মতারিখ বা বাবা-মায়ের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করুন

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী জন্মনিবন্ধন সনদ, এসএসসি বা সমমানের সনদ, পাসপোর্ট, বাবা-মায়ের এনআইডি, বিবাহসংক্রান্ত নথি কিংবা অন্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র দিতে হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর এসএসসি বা সমমানের সনদ থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন—এনআইডি সংশোধন

ধাপ ৪: নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন

আবেদনের ধরন অনুযায়ী পোর্টালে প্রদর্শিত ফি পরিশোধ করুন। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এনআইডির ফি জমা দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রসিদ বা লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।

ধাপ ৫: আবেদন জমা দিয়ে অবস্থা যাচাই করুন

সব তথ্য ও সংযুক্ত নথি পরীক্ষা করে আবেদন জমা দিন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। আবেদন জমা দিলেই সংশোধন অনুমোদিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই; কর্তৃপক্ষ নথি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবে।

এনআইডি সংশোধনে কী কী কাগজপত্র লাগতে পারে?

সব সংশোধনের জন্য একই কাগজ লাগে না। সাধারণভাবে নিচের নথিগুলো প্রাসঙ্গিক হতে পারে—

জন্মনিবন্ধন সনদ;

এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ;

বাবা-মায়ের এনআইডির কপি;

পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে;

বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদসংক্রান্ত নথি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে;

সংশোধিত তথ্যের পক্ষে অন্য গ্রহণযোগ্য সরকারি দলিল।

নিজের নাম বা জন্মতারিখের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনে শক্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশনায় নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য কী কী নথি চাওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন।

এনআইডি সংশোধনে টাকা দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন

প্রথমত, আবেদন করার আগে ভুল তথ্যটি কোন শ্রেণির মধ্যে পড়ছে, তা নিশ্চিত করুন। দ্বিতীয়ত, ফি জমা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত অঙ্কের সঙ্গে নির্ধারিত ফি মিলিয়ে নিন। তৃতীয়ত, পেমেন্টের রসিদ ও আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।

কোনো ব্যক্তি বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান দ্রুত সংশোধন করে দেওয়ার নামে সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। সংশোধনের অনুমোদন নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে; অতিরিক্ত অর্থ দিলেই আবেদন অনুমোদিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

২০২৬ সালের নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, এনআইডির দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনে প্রথমবার ২৩০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩৪৫ টাকা এবং পরবর্তী প্রতিবার ৪৬০ টাকা দিতে হয়। অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনের ক্ষেত্রে ফি যথাক্রমে ১১৫, ২৩০ ও ৩৪৫ টাকা। তবে কোন সংশোধন কোন শ্রেণিতে পড়বে, তা আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে যাচাই করা জরুরি। সঠিক তথ্য, গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র ও নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. এনআইডি সংশোধনে প্রথমবার কত টাকা লাগে?

২০২৬ সালের নতুন ফি কাঠামো অনুযায়ী, দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনে প্রথমবার ভ্যাটসহ ২৩০ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে ১১৫ টাকা লাগে।

২. দ্বিতীয়বার এনআইডি সংশোধনে কত টাকা দিতে হয়?

দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনে দ্বিতীয়বার ৩৪৫ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে ২৩০ টাকা দিতে হয়। আবেদন করার আগে পোর্টালে প্রদর্শিত ফি যাচাই করুন।

৩. তৃতীয়বার বা পরবর্তীবার এনআইডি সংশোধনে কত টাকা লাগে?

দৃশ্যমান তথ্য সংশোধনে পরবর্তী প্রতিবার ৪৬০ টাকা এবং অভ্যন্তরীণ তথ্য-উপাত্ত সংশোধনে ৩৪৫ টাকা লাগে।

৪. এনআইডি সংশোধনের ফি কি অনলাইনে দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সেবা পোর্টাল ও অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে ফি দেওয়া যায়। পেমেন্টের আগে পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করুন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।

৫. এনআইডি সংশোধনে আবেদন করলেই কি তথ্য পরিবর্তন হবে?

না। আবেদন ও প্রমাণপত্র যাচাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। ভুল তথ্যের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র বা যাচাই প্রয়োজন হতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: