ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদিতে সুইটি-নজরুলের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন সুইটির বাবা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ১৬:২৫:৩১
সৌদিতে সুইটি-নজরুলের ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন সুইটির বাবা

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ঘিরে বাংলাদেশি নাগরিক সুইটি আক্তারকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। অন্যদিকে, সুইটির সঙ্গে একই ঘটনায় আলোচনায় আসা নজরুল ইসলামকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছেন নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির। তাঁর দাবি, ছেলে বিয়ে করেননি; সুইটি আক্তারের সঙ্গেও তাঁদের পরিবারের পরিচয় ছিল না।

কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। দুই ব্যক্তিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে পরিচয়ের কথা ছড়িয়েছে, নজরুলের বাবার বক্তব্য তার সঙ্গে মিলছে না। একই সঙ্গে সুইটির মৃত্যুর খবরও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

নজরুলের সঙ্গে সুইটির সম্পর্ক নিয়ে বাবার বক্তব্য

ছেলের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আব্দুল বাছিরের বক্তব্য, নজরুলের কোনো বিয়ে হয়নি। ফলে সুইটি আক্তার তাঁর ছেলের স্ত্রী—এমন দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে দুজন একই জায়গায় কাজ করতেন বলে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গণমাধ্যমকে আব্দুল বাছির বলেন, কলেজে পড়ার সময় পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য নজরুলকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে সুইটির সঙ্গে ছেলের সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য উঠে আসেনি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, সুইটিকে তাঁদের পরিবার চেনে না।

কারাগারে থেকেও বাবাকে জানাননি সমস্যার বিস্তারিত

নজরুলের সৌদি আরবের জীবন নিয়ে পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পৌঁছানোর প্রায় এক মাস পর তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পান। কিন্তু চাকরি শুরুর সাত-আট মাস পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে কারাগার থেকে ফোন করে নজরুল পরিবারকে জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত কিছু জানাননি।

আব্দুল বাছিরের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কারাগারে প্রায় তিন বছর তিন মাস কাটিয়েছিলেন তাঁর ছেলে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের মধ্যে শেষবার ফোনে কথা হয়। সেই সময় নজরুল জানিয়েছিলেন, তিনি সমস্যায় পড়েছেন। কিন্তু সমস্যার ধরন কিংবা পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

শেষবার কথা হওয়ার কয়েক দিন পর গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন বলে জানিয়েছেন আব্দুল বাছির।

বাংলাদেশ কনস্যুলেটের যোগাযোগ নিয়েও প্রশ্ন

কারাগারে থাকা অবস্থায় নজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ যোগাযোগ করেছিলেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন তাঁর বাবা।

আব্দুল বাছিরের দাবি, এ বিষয়ে ছেলের কাছে জানতে চাইলে নজরুল বলেছিলেন, কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। কারাগারে থাকার সময় পরিবারের সঙ্গে কথোপকথনে নজরুল তাঁর আটক হওয়ার কারণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেননি।

নথির তথ্য দিয়ে শনাক্ত সুইটি, কিন্তু মৃত্যুর নিশ্চয়তা নেই

সুইটি আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর পরিচয় শনাক্ত হলেও সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরটি পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। সুইটির বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।

তাঁদের বক্তব্য, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা চান তাঁরা।

ছবি দেখে সুইটিকে শনাক্ত করেছেন বোনের স্বামী

সুইটি আক্তারের পরিচয় সম্পর্কে আরেকটি তথ্য পাওয়া গেছে তাঁর বোনের স্বামী আবদুল বারেকের কাছ থেকে। তিনি আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তাঁকে ডেকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটির ছবি দেখানো হয়। ছবির নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন তিনি।

তবে ছবির মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করতে পারলেও সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিশ্চিত করতে পারেননি আবদুল বারেক।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের কাছেও নিশ্চিত তথ্য নেই

সুইটির মৃত্যুর বিষয়ে মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।

একই কথা জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পায়নি।

সুইটির পরিণতি নিয়ে অপেক্ষা পরিবারের

সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁর বাবা-মা, বোনের স্বামী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানায়নি। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর এবং তাঁর মরদেহ দেশে ফেরত আনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

অন্যদিকে, নজরুলের বাবা ছেলের বিয়ে না করার দাবি জানিয়েছেন এবং সুইটি তাঁদের পরিবারের পরিচিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন। দুই ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পরিচয়ের সঙ্গে এই বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে।

সুইটির মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে তাঁর পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

FAQ

১. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সুইটি আক্তারের সম্পর্ক কী ছিল?

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে বিয়ে করেননি এবং সুইটি তাঁর স্ত্রী নন। তবে দুজন একই জায়গায় কাজ করতেন বলে তিনি শুনেছেন।

২. নজরুল ইসলাম কোথায় কাজ করতেন?

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় এক মাস পর তিনি মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ পান।

৩. নজরুল কত দিন কারাগারে ছিলেন?

তাঁর বাবা আব্দুল বাছিরের ভাষ্য অনুযায়ী, নজরুল প্রায় তিন বছর তিন মাস সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন।

৪. সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি কি নিশ্চিত?

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মির্জাপুর থানার ওসি কেউই মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার কথা জানাননি।

৫. সুইটির পরিবার সরকারের কাছে কী সহযোগিতা চেয়েছে?

সুইটির বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম জানিয়েছেন, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে তাঁরা সরকারের সহযোগিতা চান।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: