সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা: খরচ, কাগজপত্র ও আবেদনের নিয়ম
সিঙ্গাপুরে চাকরি করতে যেতে চাইলে বাংলাদেশিদের প্রথমে বৈধ নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেতে হবে। এরপর কাজের ধরন ও যোগ্যতা অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (MOM) থেকে ওয়ার্ক পারমিট বা উপযুক্ত ওয়ার্ক পাসের অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদন ছাড়া শুধু ভ্রমণ ভিসা নিয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়ে কাজ শুরু করা বৈধ নয়।
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সিঙ্গাপুরে নির্মাণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নির্দিষ্ট কিছু অন্যান্য খাতে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে সব খাতে সব ধরনের কাজের জন্য বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া যায় না। নিয়োগকর্তার যোগ্যতা, কর্মীর বয়স, কাজের ধরন, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং সিঙ্গাপুরের প্রচলিত নিয়মের ওপর অনুমোদন নির্ভর করে।
তাই সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা পাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব যাচাই, ওয়ার্ক পাসের আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে কর্মী হিসেবে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের জন্য কোন ধরনের ওয়ার্ক পাস রয়েছে?
সিঙ্গাপুরে বিদেশি কর্মীদের জন্য একাধিক ধরনের ওয়ার্ক পাস রয়েছে। কর্মীর কাজ, দক্ষতা, বেতন ও যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত পাস নির্ধারণ করা হয়।
১. Work Permit
নির্মাণ, উৎপাদন, সামুদ্রিক শিপইয়ার্ড, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং নির্দিষ্ট সেবা খাতের বিভিন্ন কাজে বিদেশি কর্মীদের Work Permit দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের অনুমোদিত উৎসদেশগুলোর একটি।
তবে খাতভেদে নিয়ম আলাদা। যেমন, নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, উৎপাদন ও সেবা খাতে বাংলাদেশিদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পেশার তালিকা এবং অতিরিক্ত শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
সিঙ্গাপুরের MOM-এর নিয়ম অনুযায়ী, Work Permit-এর জন্য সাধারণভাবে আবেদন করার সময় কর্মীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ৬২ বছরের নিচে হতে হয়। তবে সংশ্লিষ্ট খাত ও কর্মসূচির সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।
২. S Pass
S Pass মূলত দক্ষ কারিগরি কর্মী ও সহযোগী পেশাজীবীদের জন্য। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরে চাকরির প্রস্তাব, বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম বেতন এবং অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। নিয়োগকর্তার জন্য কোটা ও লেভির শর্তও রয়েছে।
২০২৬ সালে অধিকাংশ খাতে S Pass-এর ন্যূনতম যোগ্যতামূলক মাসিক বেতন ৩ হাজার ৩০০ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে শুরু। বয়স বাড়ার সঙ্গে প্রয়োজনীয় বেতনও বাড়ে। আর্থিক সেবা খাতে সীমা আরও বেশি। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ খাতে এই ন্যূনতম সীমা ৩ হাজার ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার হবে।
৩. Employment Pass (EP)
Employment Pass সাধারণত বিদেশি পেশাজীবী, ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পর্যায়ের কর্মীদের জন্য। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেতন ছাড়াও প্রযোজ্য যোগ্যতা ও COMPASS মূল্যায়ন পদ্ধতির শর্ত পূরণ করতে হয়।
২০২৬ সালে আর্থিক সেবা খাতের বাইরে EP-এর ন্যূনতম যোগ্যতামূলক মাসিক বেতন ৫ হাজার ৬০০ সিঙ্গাপুর ডলার থেকে শুরু। বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বেতন বাড়ে। আর্থিক সেবা খাতে ন্যূনতম সীমা ৬ হাজার ২০০ সিঙ্গাপুর ডলার। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অধিকাংশ খাতে EP-এর ন্যূনতম বেতন ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার হবে।
মনে রাখবেন: Work Permit, S Pass ও Employment Pass এক ধরনের অনুমতি নয়। নিজের কাজ, দক্ষতা ও বেতনের সঙ্গে কোন পাসটি প্রযোজ্য, তা নিয়োগকর্তা ও সিঙ্গাপুরের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের কোন কোন কাজে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে?
বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কাজের সুযোগ নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট খাতের অনুমোদিত পেশা এবং নিয়োগকর্তার শর্তের ওপর।
নির্মাণ খাত: নির্মাণশ্রমিক ও বিভিন্ন দক্ষ কারিগরি পেশায় বাংলাদেশি কর্মীদের Work Permit দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কাজের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতার সনদ বা নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ লাগতে পারে।
উৎপাদন খাত: নির্দিষ্ট পেশায় কর্মী নেওয়া হয়। অনুমোদিত তালিকায় অ্যাসেম্বলার, মেশিন অপারেটর, ওয়েল্ডার এবং কিছু কারিগরি কাজের মতো পেশা রয়েছে। তবে নিয়োগকর্তা ও পেশাকে সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
সেবা খাত: নির্দিষ্ট পেশায় বিদেশি কর্মী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনুমোদিত তালিকায় কিছু খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্যসেবা-সংক্রান্ত কাজ, হোটেলের হাউসকিপিং এবং কিছু অন্যান্য পেশা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ও অন্যান্য শর্তও প্রযোজ্য।
সিঙ্গাপুরের অনুমোদিত পেশার তালিকা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো এজেন্সি নির্দিষ্ট কাজের কথা বললে সেটি বর্তমান সরকারি তালিকায় রয়েছে কি না, আগে যাচাই করুন।
সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা পাওয়ার ধাপগুলো কী?
বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে বৈধভাবে কাজ করতে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
ধাপ ১: বৈধ চাকরি খুঁজুন
প্রথমে সিঙ্গাপুরের কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেতে হবে। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) অথবা বৈধ ও অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সুযোগ খোঁজা যেতে পারে।
চাকরির প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানের নাম, কাজের ধরন, বেতন, কর্মঘণ্টা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য শর্ত স্পষ্টভাবে জেনে নিন।
ধাপ ২: নিয়োগকর্তা ও চাকরির তথ্য যাচাই করুন
কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারী চাকরির প্রস্তাব দিলে শুধু মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করবেন না। নিয়োগকর্তার পরিচয়, কাজের স্থান, চুক্তির শর্ত এবং ওয়ার্ক পাসের ধরন যাচাই করুন।
চাকরির চুক্তিতে বেতন, ওভারটাইম, ছুটি, আবাসন, খাবার, চিকিৎসা এবং অন্যান্য সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে, তা বুঝে নিন। যে শর্তে সম্মত হয়েছেন, সেগুলো লিখিত নথিতে আছে কি না নিশ্চিত করুন।
ধাপ ৩: নিয়োগকর্তা Work Permit-এর আবেদন করবেন
সিঙ্গাপুরে সাধারণ Work Permit-এর আবেদন কর্মী নিজে সরাসরি করেন না। নিয়োগকর্তা অথবা তাঁর নিয়োগ করা অনুমোদিত কর্মসংস্থান এজেন্ট MOM-এর অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করেন।
MOM-এর প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, বেশির ভাগ Work Permit আবেদনের প্রক্রিয়াকরণে এক সপ্তাহের মধ্যে সময় লাগতে পারে। তবে অতিরিক্ত তথ্য বা নথির প্রয়োজন হলে আরও সময় লাগতে পারে। এটি আবেদন অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়।
আবেদন অনুমোদিত হলে নিয়োগকর্তা In-Principle Approval (IPA) চিঠি পেতে পারেন। এই চিঠিতে থাকা কর্মীর নাম, পাসপোর্টের তথ্য এবং অন্যান্য বিবরণ ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
সরকারি তথ্য: https://www.mom.gov.sg/passes-and-permits/work-permit-for-foreign-worker/apply-for-work-permit
ধাপ ৪: IPA ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করুন
IPA হলো ওয়ার্ক পাস ইস্যুর আগে দেওয়া নীতিগত অনুমোদন। এটি চূড়ান্ত Work Permit কার্ডের সমান নয়। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে অনুমোদনের শর্ত এবং প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা জরুরি।
MOM-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, IPA-তে নামের বানান বা পাসপোর্টের তথ্য ভুল থাকলে তা সংশোধন করতে হয়। ভুল তথ্য নিয়ে যাত্রা করলে সিঙ্গাপুরে প্রবেশে সমস্যা হতে পারে।
ধাপ ৫: মেডিকেল পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিন
কর্মীর ধরন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল পরীক্ষা, বীমা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ বা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা প্রয়োজন হতে পারে। কোন পরীক্ষা কোথায় করতে হবে, তা নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন।
সব ক্ষেত্রে একই মেডিকেল পরীক্ষা বা একই ধরনের প্রশিক্ষণ লাগবে—এমন নয়। কাজের খাত ও কর্মীর অবস্থার ওপর প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।
ধাপ ৬: বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করুন
সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক পাসের অনুমোদন পাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। কর্মীর ধরন ও নিয়োগের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে BMET-সংক্রান্ত নিবন্ধন, বহির্গমন ছাড়পত্র এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা প্রযোজ্য হতে পারে।
এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অথবা বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে নিজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা জেনে নিন।
BMET: https://bmet.gov.bd/
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়: https://probashi.gov.bd/
ধাপ ৭: সিঙ্গাপুরে পৌঁছে Work Permit ইস্যু সম্পন্ন করুন
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পরও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাকি থাকতে পারে। কর্মীকে প্রযোজ্য মেডিকেল পরীক্ষা, নিবন্ধন, ছবি ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার মতো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হতে পারে। এরপর Work Permit ইস্যু করা হয়।
তাই শুধু IPA চিঠি হাতে পাওয়াকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার সমান ভাববেন না। নিয়োগকর্তার নির্দেশনা এবং MOM-এর নিয়ম অনুসরণ করুন।
সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা করতে কত টাকা লাগে?
সিঙ্গাপুরে কাজের জন্য বাংলাদেশি কর্মীদের মোট কত টাকা খরচ হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। চাকরির ধরন, নিয়োগের পদ্ধতি, সরকারি প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ, মেডিকেল, ভ্রমণ এবং অন্যান্য অনুমোদিত খরচের ওপর ব্যয় নির্ভর করতে পারে।
সিঙ্গাপুরের MOM Work Permit আবেদনের জন্য নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত এজেন্টের কাছ থেকে প্রতি আবেদনে ৩৫ সিঙ্গাপুর ডলার ফি নেয়। তবে এটি নিয়োগকর্তার আবেদনের ফি—বাংলাদেশি কর্মীর বিদেশে যাওয়ার সব খরচের মোট হিসাব নয়।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী হিসেবে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ককে সবার জন্য সরকারি নির্ধারিত মোট খরচ বলা ঠিক হবে না। টাকা দেওয়ার আগে লিখিত খরচের তালিকা, রসিদ এবং কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে তা জেনে নিন। বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হলে সতর্ক থাকুন।
সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা পেতে কত দিন লাগে?
ওয়ার্ক পাসের আবেদন, বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র, মেডিকেল পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং যাত্রার প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে মোট কত দিন লাগবে, তার একক নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
MOM বলছে, বেশির ভাগ Work Permit আবেদনের প্রক্রিয়াকরণে এক সপ্তাহের মধ্যে সময় লাগতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হলে সময় বাড়তে পারে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে যাত্রার আগের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার সময়ও আলাদা হতে পারে।
তাই কোনো এজেন্সি নির্দিষ্ট কয়েক দিনের মধ্যে ভিসা নিশ্চিত করার দাবি করলে তার লিখিত ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন।
প্রতারণা এড়াতে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
বিদেশে চাকরির আশায় অনেকেই মধ্যস্থতাকারীর কথায় বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে থাকেন। ঝুঁকি কমাতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি।
নিয়োগকর্তা ও রিক্রুটিং এজেন্সির পরিচয় যাচাই করুন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট সরকারি তালিকায় এজেন্সির তথ্য দেখুন।
লিখিত চাকরির চুক্তি ও বেতনের শর্ত বুঝে নিন।
IPA চিঠির তথ্য পাসপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
টাকা দিলে রসিদ ও লিখিত হিসাব রাখুন।
পর্যটক বা ভ্রমণ ভিসাকে কাজের অনুমতি বলে প্রচার করা হলে সতর্ক হোন।
সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি না দেখে ‘নিশ্চিত ভিসা’ বা ‘নিশ্চিত চাকরি’র দাবিতে টাকা দেবেন না।
সিঙ্গাপুরে কাজের জন্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেখতে BOESL-এর সরকারি পোর্টালও ব্যবহার করা যায়:
https://brms.boesl.gov.bd/jobs
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের কাজের ভিসা পাওয়ার মূল প্রক্রিয়া হলো—বৈধ চাকরি খোঁজা, নিয়োগকর্তার মাধ্যমে উপযুক্ত ওয়ার্ক পাসের আবেদন, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা। সব খাতে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়, তাই কাজের ধরন অনুযায়ী সিঙ্গাপুরের MOM ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. বাংলাদেশিরা কি সিঙ্গাপুরে Work Permit পেতে পারেন?
হ্যাঁ। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের অনুমোদিত উৎসদেশগুলোর একটি। তবে কাজের খাত, পেশা, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
২. সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসার আবেদন কে করেন?
সাধারণ Work Permit-এর আবেদন সিঙ্গাপুরের নিয়োগকর্তা অথবা তাঁর নিযুক্ত অনুমোদিত কর্মসংস্থান এজেন্ট করেন। কর্মীকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সম্মতি দিতে হয়।
৩. সিঙ্গাপুরে কাজের ভিসা পেতে কত টাকা লাগে?
সবার জন্য একই মোট খরচ নেই। সরকারি আবেদন ফি ছাড়াও প্রযোজ্য প্রশিক্ষণ, মেডিকেল, ভ্রমণ ও অন্যান্য অনুমোদিত খরচ থাকতে পারে। টাকা দেওয়ার আগে লিখিত খরচের হিসাব ও রসিদ নিন।
৪. সিঙ্গাপুরে Work Permit পেতে কত দিন লাগে?
MOM-এর তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ Work Permit আবেদনের প্রক্রিয়াকরণে এক সপ্তাহের মধ্যে সময় লাগতে পারে। তবে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন হলে সময় বাড়তে পারে। বাংলাদেশ থেকে যাত্রার অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার সময় এর বাইরে।
৫. পর্যটক ভিসায় সিঙ্গাপুরে গিয়ে কি কাজ করা যায়?
না। পর্যটক বা সামাজিক ভ্রমণের ভিসা কাজের অনুমতি নয়। বৈধভাবে কাজ করতে উপযুক্ত Work Permit বা অন্য প্রযোজ্য Work Pass-এর অনুমোদন প্রয়োজন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- একই জমির মালিক দুইজন? সত্যতা যাচাই করবেন যেভাবে
- জমির খতিয়ান অনলাইনে দেখার নিয়ম ও কপি পাওয়ার পদ্ধতি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- জমির দলিল তুলতে কত টাকা লাগে? জেনে নিন খরচের হিসাব
- আজ ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম কত
- দলিল ও খতিয়ানে জমির পরিমাণ আলাদা? জেনে নিন করণীয়
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৭টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- OPPO Reno 17 Pro: লঞ্চ কবে, দাম কত ও কী থাকছে নতুন ফিচারে?
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ৪টি দেশের টাকার বিনিময় হার
- আজকের টাকার রেট কত: বেড়েছে ১৮টি দেশের টাকার মান
- আজকের সোনার দাম কত: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনা ও রুপার দাম
- Pulsar F250-এ ২০ হাজার টাকা ছাড়, N160 ও 150-এ উপহার