ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

Alamin Islam

Senior Reporter

৫টি সহজ টেস্টে কিডনির বিপদ ধরা পড়বে, খরচ কত?

লাইফ স্টাইল ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৫ নভেম্বর ৩০ ১০:২৭:১৫
৫টি সহজ টেস্টে কিডনির বিপদ ধরা পড়বে, খরচ কত?

আমরা অনেকেই হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বা শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করাই নিয়মিত। তবে, যত দিন না গুরুতর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তত দিন কিডনির কার্যকারিতা যাচাই করার কথা ভাবা হয় না বললেই চলে। অথচ, এই মুহূর্তে কিডনির জটিলতা ঘরে ঘরে মহামারী আকারে ছড়াচ্ছে। তাই বড় ধরনের বিপদ এড়াতে কোন কোন স্বাস্থ্য পরীক্ষা আবশ্যিক, তা জেনে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

উদ্বেগজনক তথ্য: কম বয়সীদের মধ্যে বাড়ছে ক্রনিক রোগ

কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগ (ক্রনিক অসুখ) এখন কমবয়সী ব্যক্তিদেরও কাবু করছে। কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা তো বটেই, পাশাপাশি সংক্রমণ বা পলিসিস্টিক কিডনির মতো অসুখে আক্রান্তের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো। কিডনির স্বাস্থ্য ঠিক আছে কি না, তা নিয়ে বেশিরভাগেরই মাথাব্যথা নেই। রক্ত, হৃদযন্ত্র এমনকি ক্যানসারের স্ক্রিনিং হলেও, কিডনি-সম্পর্কিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করেছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা ১১.১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যার মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। জটিল পরিস্থিতিতে পড়ার আগে, নিচে দেওয়া পাঁচটি পরীক্ষা করিয়ে রাখা অত্যাবশ্যক।

কিডনির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৫টি আবশ্যিক পরীক্ষা

কিডনির অবস্থা এবং কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষাগুলো গুরুত্বপূর্ণ:

১. সিরাম ক্রিয়েটিনিন টেস্ট

পরীক্ষা পদ্ধতি: এই পরীক্ষাটি রক্ত বা মূত্রের নমুনা ব্যবহার করে তাতে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ মাপে। ক্রিয়েটিনিন হলো একটি রেচন পদার্থ, যা ছাঁকার মাধ্যমে কিডনি শরীর থেকে প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়।

ফলাফলের ইঙ্গিত: এই বর্জ্যের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তা কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাসের দিকে ইঙ্গিত করে। পুরুষের ক্ষেত্রে ০.৭-১.৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ০.৬-১.১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের চেয়ে বেশি পরিমাণ ক্রিয়েটিনিন দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের লক্ষণ।

ব্যয়: সাধারণত ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।

২. সিস্ট্যানিন সি পরীক্ষা

কী যাচাই করা হয়: এটি দেহকোষ থেকে উৎপন্ন একটি প্রোটিন। এর স্বাভাবিক মাত্রা গড়ে ০.৬ থেকে ১.১ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের আশেপাশে থাকা উচিত (বয়স ও লিঙ্গভেদে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে)।

ফলাফলের ইঙ্গিত: এই প্রোটিনের মাত্রায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি গুরুতরভাবে কিডনি ফেলিওরের সংকেত দেয়। যারা পেশি তৈরির জন্য অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট (যেমন প্রোটিন বা ক্রিয়েটিনিন) অথবা স্টেরয়েড গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিমাপ ওঠানামা করতে পারে এবং অত্যধিক সাপ্লিমেন্টের কারণেও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

ব্যয়: ল্যাবরেটরিভেদে ১৩০০ থেকে ২৫০০ টাকা।

৩. ইউরিন ডিপস্টিক টেস্ট (মূত্র পরীক্ষা)

পরীক্ষা পদ্ধতি: মূত্রের নমুনা পরীক্ষার একটি সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতি হলো ডিপস্টিক টেস্ট। রাসায়নিকযুক্ত একটি বিশেষ স্ট্রিপ প্রস্রাবে ডোবালে রঙের পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি ও মাত্রা জানা যায়।

রোগ শনাক্তকরণ: রঙের তীব্রতা পদার্থটির পরিমাণ বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ:

রক্তের উপস্থিতি: কিডনি সংক্রমণ।

অ্যালবুমিন প্রোটিন বেশি: কিডনির ক্রনিক রোগ।

বিলিরুবিন: লিভারের অসুস্থতা।

কিটোন: ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের ইঙ্গিত।

ব্যয়: সাধারণত ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মতো।

৪. ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন (BUN)

কী যাচাই করা হয়: এটি একটি রক্ত পরীক্ষা, যা ইউরিয়া নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারণ করে। প্রোটিন হজমের (বিপাকের) ফলে সৃষ্ট একটি বর্জ্য পদার্থ হলো এই ইউরিয়া নাইট্রোজেন।

ফলাফলের ইঙ্গিত: একটি সুস্থ কিডনি এটিকে রক্ত থেকে আলাদা করে মূত্রের মাধ্যমে নির্গত করে। এই বর্জ্যের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তা কিডনি রোগের দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

ব্যয়: ২০০ থেকে ৪০০ টাকার কাছাকাছি।

৫. রেনাল আলট্রাসাউন্ড (Renal Ultrasound)

পরীক্ষা পদ্ধতি: এই ইমেজিং পরীক্ষাটি শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে করা হয়, যার মাধ্যমে কিডনির আকার, আকৃতি এবং অবস্থান সরাসরি দেখা সম্ভব।

রোগ শনাক্তকরণ: আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার ফল কিডনিতে পাথর, সিস্ট অথবা টিউমারের মতো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

ব্যয়: ল্যাবরেটরি ও পরীক্ষার স্থান ভেদে ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ