ব্যাংকে জমানো টাকায় হজ? ইসলামের বিধান ও আলেমদের অভিমত
ইসলাম ধর্মের পঞ্চ ভিত্তির অন্যতম পবিত্র হজব্রত পালন। কিন্তু এই মহৎ ইবাদত সম্পাদনের জন্য অনেকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্টে অর্থ সঞ্চয় করেন। প্রশ্ন হলো— এই সঞ্চিত তহবিল দিয়ে হজ সম্পন্ন করা কি শরীয়তসম্মত?
সঞ্চিত অর্থ দিয়ে হজের বৈধতা
ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, এর উত্তর সুস্পষ্টভাবে 'হ্যাঁ'। ব্যাংকে টাকা জমিয়ে সেই তহবিল দিয়ে হজব্রত পালন করা সম্পূর্ণরূপে বৈধ এবং আদায় হবে।
যদি উপার্জিত সম্পদ হালাল পন্থায় অর্জিত হয় এবং এই সঞ্চয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি যখন আর্থিক সামর্থ্য অর্জন করেন, তখন এই অর্থ দ্বারা হজ সম্পন্ন করা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। সক্ষমতা অর্জনের এই মাপকাঠি পূরণ হলেই হজ জায়েজ।
সামর্থ্যের সংজ্ঞা ও শরীয়তের মূল চেতনা
তবে, ইসলামী আইনশাস্ত্র এই প্রসঙ্গে একটি গভীর নির্দেশনা দেয়। আল্লাহ তাআলা কোনো ব্যক্তিকে হজ পালনের জন্য কৃত্রিমভাবে কিংবা কষ্টসাধ্য উপায়ে অর্থ জমা করতে বাধ্য করেননি। শরীয়তের মূল নির্দেশনা হলো— যখন মানুষের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে এবং হজ পালনের দৈহিক সামর্থ্য তৈরি হবে, তখনই তা আদায় করা অবশ্য কর্তব্য।
আর্থিক সক্ষমতা (ইস্তিত্বা'আ):
রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনোই হজ করার অভিপ্রায়ে ধারাবাহিকভাবে ও অতিরিক্ত পরিশ্রম করে অর্থ সঞ্চয়ের তাগিদ দেননি। বরং তিনি আর্থিকভাবে ও শারীরিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের উপরই এই গুরুদায়িত্ব অর্পণের কথা বলেছেন।
এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন:
وَ لِلّٰهِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡهِ سَبِیۡلًا‘আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশে ওই ঘরের হজ করা তার জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৯৭)
আত্ম-আরোপণের (Self-Imposition) ক্ষেত্রে সতর্কবার্তা
হজের জন্য অতিরিক্ত কষ্ট স্বীকার করে সম্পদ জমানোর এই মানসিকতা শরীয়তের মূল কাঙ্ক্ষিত চেতনা নয়। মূলনীতি হলো: আপনার যদি স্বাভাবিকভাবে আর্থিক প্রাচুর্য থাকে, তবে আপনি হজ পালন করবেন; নতুবা নয়। যে ব্যক্তির সামর্থ্য নেই, আল্লাহ তার জন্য এই বিধানকে সহজ করে দিয়েছেন। তাই, নিজের ওপর হজকে ‘ফরজ’ করে নেওয়ার অভিপ্রায়ে কষ্টসাধ্য সঞ্চয় করা উচিত নয়।
এর বিপরীতে, যদি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে আপনার কাছে সেই পরিমাণ সম্পদ এসে যায়, তবেই কেবল হজ সম্পাদন করা বাঞ্ছনীয়।
ব্যক্তিগত আবেগ ও কষ্টের সঞ্চয়
তবে, যদি কেউ ব্যক্তিগত আবেগ বা প্রবল আন্তরিক তাড়নায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্থ সঞ্চয় করেন এবং এরপর সেই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে হজ করেন, তবে এই ধরনের সঞ্চয়কে নিষিদ্ধ বলা যাবে না। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর এই হজ পালন অবশ্যই একটি উত্তম কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তিনি এটি করতে পারবেন।
হজ-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি মাসআলা
হজ পালনের উদ্দেশ্যে অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে আরও কিছু ব্যবহারিক বিধান বা ফিকহি মাসআলা প্রযোজ্য:
১. জাকাতের বাধ্যবাধকতা: হজের জন্য গচ্ছিত রাখা টাকার ওপর অবশ্যই জাকাত দিতে হবে, যদি সেই সম্পদ নির্দিষ্ট পরিমাণ (নিসাব) অতিক্রম করে এবং এক বছর (হাওল) পূর্ণ হয়।
২. সক্ষমতা অর্জন: হজ ফরজ হওয়ার মূল শর্তই হলো শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া। ব্যাংকে অর্থ জমানোর উদ্দেশ্য যদি এই সক্ষমতা অর্জন করা হয়, তবে তা শরীয়তসম্মত।
৩. বদলি হজের জমা: কেউ যদি বদলি হজ (অন্যের পক্ষে হজ) করানোর উদ্দেশ্যে অর্থ জমা করেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজে হজ করার মতো আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য অর্জন করেন, তবে তাকে অবশ্যই প্রথমে নিজের ফরজ হজ আদায় করতে হবে।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের সোনার দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট সোনার দাম কত
- আজ ব্যালন ডি’অর ২০২৬, কার হাতে উঠবে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার?
- মালয়েশিয়া মেডিকেল কবে শুরু হবে ২০২৬, সর্বশেষ খবর
- Ballon d’Or 2026 Rankings: শীর্ষে ইয়ামাল, সেরা ১০ কারা?
- OPPO Find X10 Ultra: ২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরায় কী থাকছে?
- এইচএসসি রেজাল্ট ২০২৬: রোল নম্বর দিয়ে ফল দেখবেন যেভাবে
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮, ২১ ও ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম