ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২

MD. Razib Ali

Senior Reporter

দোয়া কবুলের বিশেষ ৩টি সময়: যা জানলে বদলে যাবে আপনার ভাগ্য

ধর্ম ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৯ ১৬:৫৩:০৯
দোয়া কবুলের বিশেষ ৩টি সময়: যা জানলে বদলে যাবে আপনার ভাগ্য

মানুষের জীবনের প্রতিটি চাওয়া-পাওয়া আর সংকট থেকে মুক্তির মূল চাবিকাঠি হলো দোয়া। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের আকুতি পেশ করার মাধ্যমেই বান্দা লাভ করে পরম প্রশান্তি। ইসলামি জীবনদর্শনে দোয়ার গুরুত্ব এতটাই যে, একে ইবাদতের নির্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক সময় আমরা অভিযোগ করি দোয়া কবুল না হওয়া নিয়ে, অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু সুনির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছেন, যখন প্রার্থনা করলে তা সরাসরি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে?

ভাগ্যের লিখন বা তাকদির মানুষের নাগালের বাইরে হলেও তা পরিবর্তনের একটিই পথ রয়েছে—আর সেটি হলো দোয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "সৎকাজ ছাড়া অন্য কিছু আয়ু বৃদ্ধি করতে পারে না এবং দোয়া ছাড়া অন্য কোনো কিছু তাকদির বা ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে না।" (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪০২২)

আরও পড়ুন:

শাবান মাসে রাসুল (সা.)-এর রোজা ও শবে বরাতের আমলের সঠিক বিধান

শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ ও সময়সূচি

আল্লাহ তায়ালা নিজেই পবিত্র কোরআনে বান্দার ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সূরা বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, "আহ্বানকারী যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথের দিশা পায়।"

নিচে হাদিসের আলোকে দোয়া কবুলের বিশেষ তিনটি সময় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—

১. শেষ রাতের নিভৃত প্রার্থনা

যখন পুরো পৃথিবী গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন মহান রবের দরবারে হাত তোলা দোয়া কবুলের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, "প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে (প্রথম আসমান) নেমে আসেন। এরপর ঘোষণা করতে থাকেন—কে আছ, যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছ, যে আমার কাছে কিছু চাইবে আর আমি তাকে তা দান করবো? কে আছ, যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আর আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো?" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)

২. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী মুহূর্ত

মসজিদ থেকে আজান হওয়ার পর এবং জামাত শুরু হওয়ার আগে অর্থাৎ ইকামতের মধ্যবর্তী সময়টি অত্যন্ত বরকতময়। এই সময়ে বান্দার করা কোনো আরজিই বৃথা যায় না। আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে করা দোয়া কখনো প্রত্যাখ্যান করা হয় না।" (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৫২১)

৩. ফরজ নামাজ পরবর্তী সময়

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পর মোনাজাত বা প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে সাহাবীরা জানতে চেয়েছিলেন, "হে আল্লাহর রাসুল! কোন সময়ের দোয়া সবচেয়ে বেশি শোনা হয় (কবুল হয়)?" উত্তরে নবীজি (সা.) দুটি সময়ের কথা উল্লেখ করেন; একটি হলো রাতের শেষ প্রহর এবং অন্যটি হলো প্রত্যেক ফরজ নামাজের পরবর্তী সময়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৯৯)

জীবনকে সাফল্যমণ্ডিত করতে এবং বিপদ থেকে সুরক্ষা পেতে এই তিন সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। মুমিন মুসলমান হিসেবে আমাদের উচিত হাদিসে বর্ণিত এই বিশেষ মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে একনিষ্ঠভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ