Md. Mithon Sheikh
Senior Reporter
২০২৬ সালে সেরা ওয়াশিং মেশিন কেনার ৫ কৌশল: টাকা বাঁচবে নিশ্চিত!
প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতোই দ্রুত পরিবর্তন আসছে দৈনন্দিন ব্যবহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতে। এই তালিকার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র হলো ওয়াশিং মেশিন। দিন দিন এই যন্ত্রগুলো আরও আধুনিক ও স্মার্ট হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আপনি যদি একটি নতুন ওয়াশিং মেশিন কেনার কথা ভাবেন, তবে পুরনো দিনের প্রযুক্তি বেছে নেওয়া হবে স্রেফ টাকার অপচয়।
মেশিন কেনার আগে আপনার প্রয়োজন এবং আধুনিক ফিচারের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। কাপড় কাচার যন্ত্র বা ওয়াশিং মেশিন কেনার সময় কোন ৫টি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন, তা দেখে নিন এক নজরে:
১. মেশিনের ধারণ ক্ষমতা (Capacity):
ওয়াশিং মেশিন কেনার আগে প্রথম বিবেচ্য বিষয় হলো এর ধারণ ক্ষমতা। অর্থাৎ একবারে আপনি কতটুকু কাপড় ধুতে পারবেন। সাধারণত এটি 'কিলোগ্রাম' (কেজি)-এ মাপা হয়। পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এটি নির্বাচন করুন। ১-২ জনের ছোট সংসারে ৬-৭ কেজির মেশিন যথেষ্ট। ৪-৫ জনের পরিবারের জন্য ৭-৮ কেজি এবং এর চেয়ে বড় পরিবারের জন্য ৮-১০ কেজির মেশিন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
২. মোটরের ধরন ও ইনভার্টার প্রযুক্তি:
মেশিন কতদিন টিকবে এবং কেমন পারফরম্যান্স দেবে, তা নির্ভর করে এর মোটরের ওপর। বর্তমান সময়ে ইনভার্টার মোটরযুক্ত ওয়াশিং মেশিন সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই মোটর ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো এটি বিদ্যুৎ খরচ অনেক কমিয়ে দেয় এবং শব্দও কম হয়। এছাড়া ইনভার্টার মোটরের স্থায়িত্ব বা মেয়াদও সাধারণ মোটরের তুলনায় অনেক বেশি।
৩. শব্দ কমানোর প্রযুক্তি (Noise Level):
আজকাল আধুনিক ফ্ল্যাট বা বাড়িতে জায়গা স্বল্পতার কারণে ওয়াশিং মেশিন অনেক সময় ডাইনিং রুম, রান্নাঘর বা বাথরুমের পাশে রাখা হয়। সেক্ষেত্রে মেশিন ঘোরার বিকট শব্দ বিরক্তির কারণ হতে পারে। তাই কেনার সময় এমন মডেল বেছে নিন, যেটিতে শব্দ তুলনামূলক কম হয়। এতে আপনার দৈনন্দিন কাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।
৪. আধুনিক ও স্মার্ট ফিচার:
ফোন বা ল্যাপটপের মতো ওয়াশিং মেশিনেও এখন যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। নতুন মডেলের মেশিনগুলো আপনি আপনার স্মার্টফোন বা ঘরের ওয়াইফাইয়ের সাথে যুক্ত করতে পারবেন। এমনকি কাপড়ের পরিমাণ অনুযায়ী কতটুকু ডিটারজেন্ট প্রয়োজন, তা মেশিন নিজেই নির্ধারণ করে দেয়। এছাড়া সেলফ-ক্লিনিং প্রযুক্তি বা মেশিন নিজে পরিষ্কার করার সুবিধা আছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি।
৫. ধোয়ার বিভিন্ন মোড (Wash Programs):
একেক ধরনের কাপড়ের জন্য একেক রকম যত্নের প্রয়োজন হয়। তাই কেনার আগে দেখে নিন মেশিনে বিভিন্ন মোড আছে কি না। যেমন—দ্রুত ধোয়ার জন্য ৪৫ মিনিটের কুইক ওয়াশ, জিনস বা ভারী কাপড়ের জন্য আলাদা মোড, এবং দামি বা পাতলা কাপড়ের জন্য বিশেষ ফিচার। এছাড়া জেদি দাগ তোলা বা গরম পানির ভাপের (Steam Wash) প্রয়োজন আছে কি না, তাও যাচাই করে নিন।
সতর্কবার্তা:
মনে রাখবেন, মেশিনে অনেক আকর্ষণীয় ফিচার থাকলেও সবগুলো আপনার কাজে নাও লাগতে পারে। তাই আধুনিক প্রযুক্তির মোহে পড়ে প্রয়োজনহীন ফিচারের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করবেন না। আপনার যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকু ফিচার সমৃদ্ধ মেশিন কিনলেই তা সাশ্রয়ী এবং কার্যকর হবে।
ওয়াশিং মেশিন কেনা নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন ১: পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী কত কেজির ওয়াশিং মেশিন কেনা উচিত?
উত্তর: পরিবারের সদস্য ১-২ জন হলে ৬-৭ কেজির মেশিন যথেষ্ট। ৪-৫ সদস্যের পরিবারের জন্য ৭-৮ কেজির মেশিন ভালো। তবে এর চেয়ে বড় পরিবার হলে ৮-১০ কেজির ড্রাম সংবলিত মেশিন কেনা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রশ্ন ২: ইনভার্টার মোটরযুক্ত ওয়াশিং মেশিন কেনা কি আসলেই সাশ্রয়ী?
উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। ইনভার্টার মোটর বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে খরচ অনেক কমিয়ে আনে। এছাড়া এই মোটরে ঘর্ষণ কম হওয়ায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং কাজ করার সময় শব্দ অনেক কম তৈরি করে।
প্রশ্ন ৩: ওয়াশিং মেশিনের স্মার্ট ফিচার বা এআই (AI) প্রযুক্তি কী কাজে লাগে?
উত্তর: স্মার্ট ফিচারের মাধ্যমে আপনি স্মার্টফোন দিয়ে দূর থেকেও মেশিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এআই প্রযুক্তি কাপড়ের ওজন ও ধরন বুঝে কতটুকু পানি বা ডিটারজেন্ট লাগবে তা নিজেই নির্ধারণ করে দেয়, যা কাপড় কাচাকে আরও সহজ করে তোলে।
প্রশ্ন ৪: মেশিনের শব্দ বা কম্পন কমানোর উপায় কী?
উত্তর: মেশিন কেনার সময়ই 'Silent Operation' বা কম ডেসিবল (dB) রেটিং দেখে কেনা উচিত। এছাড়া ইনভার্টার প্রযুক্তির মেশিনগুলো সাধারণ মেশিনের তুলনায় অনেক বেশি শব্দহীনভাবে কাজ করে।
প্রশ্ন ৫: ২০২৬ সালে পুরনো মডেলের ওয়াশিং মেশিন কেনা কেন লস বা অপচয়?
উত্তর: প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে পুরনো মডেলগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফিচার বা স্মার্ট কন্ট্রোল থাকে না। এতে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল বেশি আসে এবং আধুনিক কাপড়ের সঠিক যত্ন নেওয়া সম্ভব হয় না। তাই নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক।
প্রশ্ন ৬: কাপড় ধোয়ার জন্য 'কুইক ওয়াশ' বা 'স্টিম ওয়াশ' কেন জরুরি?
উত্তর: ব্যস্ত সময়ে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে কাপড় পরিষ্কার করতে 'কুইক ওয়াশ' ফিচারটি দারুণ কার্যকর। অন্যদিকে, কাপড়ের জেদি দাগ দূর করতে এবং জীবাণু মুক্ত রাখতে 'স্টিম ওয়াশ' বা গরম পানির ভাপ দেওয়ার সুবিধাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬)
- শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ ও সময়সূচি
- সোনালী পেপার দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস ও ক্যাশফ্লোতে বড় পরিবর্তন
- মুনাফায় চমক দেখালো কপারটেক: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- মুনাফায় বড় উল্লম্ফন জিবিবি পাওয়ারের: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ওয়াটা কেমিক্যালস: মুনাফায় বিশাল লাফ, দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ইন্দো-বাংলাসহ ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সায়হাম কটন মিলস: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ওরিয়ন ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আফতাব অটো: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নতুন মিশন শুরু
- মতিন স্পিনিং: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- বড় প্রবৃদ্ধিতে স্কয়ার ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক চিত্র প্রকাশ
- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস শক্তিশালী