Md Razib Ali
Senior Reporter
হার্ট অ্যাটাক রুখতে দিনে কতক্ষণ হাঁটা জরুরি?
বিশ্বজুড়ে অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ। আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা আর সময়ের অভাবে আমরা অনেকেই শরীরচর্চার সুযোগ পাই না। তবে সুস্থ হার্ট বা হৃদযন্ত্রের জন্য কি জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম করা বাধ্যতামূলক? চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। সামান্য ৩০ মিনিটের হাঁটাই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন।
কেন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে?
অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা (ডেস্ক জব), অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অনীহার কারণে হার্টের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এই বিষয়গুলো মূলত উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি কেবল প্রবীণ নয়, তরুণদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।
হাঁটার প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
গবেষকদের মতে, অলস বসে থাকা মানুষের তুলনায় যারা নিয়মিত চলাফেরা করেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ কম। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা হলেও তা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
ইউরোপীয় জার্নাল অফ প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি-তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের আধঘণ্টার হাঁটা হৃদযন্ত্রের ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোটিক’ ঝুঁকি কমায়। এর ফলে—
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
দেহের ওজন ও অতিরিক্ত ট্রাইগ্লিসারাইড কমে।
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক হয়।
উপকারী ‘এইচডিএল’ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়।
হাঁটার গতি কি কোনো প্রভাব ফেলে?
২০২৪ সালের একটি নতুন মেটা-বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হাঁটার ক্ষেত্রে গতি একটি বড় ফ্যাক্টর। যারা খুব ধীরগতিতে হাঁটেন, তাদের তুলনায় যারা দ্রুত কদমে (Brisk Walking) হাঁটেন, তাদের করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অর্থাৎ, স্রেফ পথ চলা নয়, হাঁটার গতিই আপনার হার্টকে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি পরিশ্রমের শরীরচর্চা করার পরামর্শ দেয়। আপনি যদি সপ্তাহে পাঁচ দিন মাত্র ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটেন, তবেই এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও মনে করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং স্ট্রোক রুখতে হাঁটার কোনো বিকল্প নেই।
সময়ের অভাব? ছোট সেশনে হাঁটুন
অনেকেই একবারে ৩০ মিনিট সময় বের করতে পারেন না। তাদের জন্য সুখবর হলো, এই সময়কে ছোট ভাগে ভাগ করলেও সমান উপকার পাওয়া যায়। সারাদিনে যদি তিনটি আলাদা সময়ে ১০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটেন, তবে সেটিও আপনার হৃদপিণ্ডের জন্য একই রকম কার্যকর হবে। এখানে ব্যায়ামের তীব্রতার চেয়ে আপনার নিয়মিত অভ্যাস বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই বেশি জরুরি।
সাবধানতা যেখানে প্রয়োজন
হাঁটা অত্যন্ত নিরাপদ ব্যায়াম হলেও সবার জন্য একই নিয়ম খাটে না। যাদের হাঁটার সময় বুকে ব্যথা অনুভব হয়, শ্বাসকষ্ট হয় বা আগে থেকেই কোনো জটিল রোগ রয়েছে, তাদের নতুন কোনো রুটিন শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আজই নিজের জীবনযাত্রায় বদল আনুন। প্রতিদিনের এই ছোট পদক্ষেপটিই হতে পারে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
আল-মামুন/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- SSC Result 2026 প্রকাশে ২১ দিনের বিলম্ব, অবশেষে জানা গেল আসল কারণ
- ছয় বিমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, এগিয়ে পাঁচটি
- নতুন পে স্কেল কবে কার্যকর? সরকারি সূত্রে মিলল বড় আপডেট
- চার্টার্ড লাইফের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- নতুন পে স্কেল নিয়ে বড় আপডেট, যা জানালেন অর্থমন্ত্রী
- বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে ভারত
- ফান্ডের সম্পদ নিয়ে বিতর্কের অবসান, যা বলছে ব্র্যাক ব্যাংক
- সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে
- সৌদিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা কখন পাবেন প্রবাসীরা, জানুন
- ডিএসইর সাবেক সিআরও-কে শেয়ারবাজারে নিষিদ্ধ করল বিএসইসি
- সারজিসের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ, সামনে এলো নতুন দাবি
- SSC পাসের পর একাদশে ভর্তির নিয়ম ও তারিখ ২০২৬
- প্রবাসে থাকলে অবশ্যই জানুন, সরকারের নতুন ১০ নির্দেশনা
- SSC-র পর কি নিয়ে পড়ব? বিজ্ঞান নাকি মানবিক