Md Razib Ali
Senior Reporter
রেশমি ও উজ্জ্বল চুল পেতে দাদি-নানিদের ৬টি গোপন উপায়
আধুনিক জীবনযাত্রায় ধুলোবালি আর অযত্নে চুলের স্বাভাবিক কোমলতা হারিয়ে যাওয়া এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নিষ্প্রাণ ও রুক্ষ চুল নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই অনেকেরই। স্যালনের দামী কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট তাৎক্ষণিক ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা চুলের ক্ষতি করতে পারে। অথচ আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে এমন কিছু প্রাচীন ও প্রাকৃতিক সমাধান, যা যুগ যুগ ধরে চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর প্রমাণিত। হাতের কাছের সহজলভ্য কিছু উপাদান ব্যবহার করে কীভাবে ঘরে বসেই চুলের রেশমি ভাব ফিরিয়ে আনবেন, দেখে নিন একনজরে।
১. নারিকেল তেলের ময়েশ্চারাইজিং গুণ
শুষ্ক চুলের জন্য সবচেয়ে আদি এবং অকৃত্রিম সমাধান হলো নারিকেল তেল। চুলের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দিতে কুসুম গরম নারিকেল তেল চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত হালকা হাতে মালিশ করুন। শ্যাম্পু করার অন্তত এক ঘণ্টা আগে এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন; তবে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে সারারাত তেল লাগিয়ে রাখতে পারেন। এটি চুলের আগা ফেটে যাওয়া রোধ করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে মাথার ত্বক সুরক্ষিত রাখে।
২. দই ও মধুর জাদুকরী প্যাক
চুলকে প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্র ও নরম রাখতে দই এবং মধুর মিশ্রণ অনন্য। দইয়ের প্রোটিন চুলের গঠন মজবুত করে এবং মধুর প্রাকৃতিক গুণাগুণ বাতাস থেকে আর্দ্রতা টেনে নিয়ে চুলে জমা রাখে। আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে দুই চামচ মধু মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করুন। ৩০ মিনিট পর চুল ধুয়ে ফেললে রুক্ষতা কমে আসবে এবং মাথার ত্বকের চুলকানি দূর হবে।
৩. অ্যালোভেরা ও নারিকেল তেলের হাইড্রেটিং থেরাপি
চুলের শুষ্কতা কাটাতে অ্যালোভেরা একটি শক্তিশালী উপাদান। যখন এর সঙ্গে নারিকেল তেল মেশানো হয়, তখন এটি একটি চমৎকার কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। সিল্কি ও উজ্জ্বল চুলের জন্য এই মিশ্রণটি ২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই ঘরোয়া মাস্কটি মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমায় এবং চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
৪. কলা ও অলিভ অয়েলের কন্ডিশনিং
ক্ষতিগ্রস্ত চুলের টিস্যু মেরামত করতে কলার বিকল্প নেই। কলায় থাকা পটাশিয়াম আর প্রাকৃতিক তেল চুলের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে। একটি পাকা কলার পেস্টের সঙ্গে এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে পুরো চুলে ২০ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন। এটি চুলের ভঙ্গুরতা কমিয়ে চুলে এনে দেয় বাড়তি স্থিতিস্থাপকতা ও পেলবতা।
৫. মেথির প্রোটিন ট্রিটমেন্ট
চুলের ঘনত্ব বাড়াতে এবং খুশকি মুক্ত রাখতে মেথির ব্যবহার বেশ প্রাচীন। এতে থাকা লেসিথিন ও প্রোটিন চুলের অভ্যন্তরীণ গঠন উন্নত করে। মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে তৈরি করা পেস্ট চুলে ৪০ মিনিট মেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের পাতলা ভাব দূর হবে এবং চুল হবে আরও ঘন ও প্রাণবন্ত।
৬. ডিম ও অলিভ অয়েলের প্রোটিন থেরাপি
যাদের চুলের গোড়া দুর্বল এবং সহজেই ভেঙে যায়, তাদের জন্য ডিম ও অলিভ অয়েলের মাস্কটি জাদুর মতো কাজ করে। ডিমের উচ্চমাত্রার প্রোটিন চুলকে পুনর্গঠন করে। একটি ডিম ফেটিয়ে তাতে অলিভ অয়েল মিশিয়ে ২০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখুন। তবে মনে রাখবেন, এই মাস্ক ধোয়ার সময় অবশ্যই ঠান্ডা পানি ও হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
প্রকৃতির এই সহজ সমাধানগুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার চুল হয়ে উঠবে ঝলমলে, নরম এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের সোনার দাম: (রবিবার, ২৪ মে ২০২৬)
- আজকের খেলার সময়সূচি:বায়ার্ন মিউনিখ বনাম স্টুটগার্ট
- সরাসরি চুক্তিতে জাফনা কিংসে সাকিব: লঙ্কান লিগে বড় চমক
- ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙছেন মেসি, স্কোয়াডে বড় চমক
- শেখ হাসিনাকে ফেরানোর তৎপরতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
- ১০ গোলের মহানাটকীয় ম্যাচ, বিশ্বকাপের আগে মেসির ইনজুরি