ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাঁপানো নেইমারের জন্ম যে অজানা কোণে

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ জুলাই ২৬ ০৩:৩৮:৪০
বিশ্বকাঁপানো নেইমারের জন্ম যে অজানা কোণে

বিশ্বজুড়ে যার নাম মানেই মাঠে জাদুকরী ড্রিবলিং আর তারকাখ্যাতির ঝলমলে জীবন, সেই ফুটবলারের শুরুটা কিন্তু একেবারেই সাদামাটা এক জায়গা থেকে। কোটি টাকার চুক্তি বা বড় বড় শহরের আলোকঝলমলে স্টেডিয়ামের অনেক আগে, ব্রাজিলের এক অখ্যাত শহরেই লুকিয়ে আছে নেইমারের প্রকৃত পরিচয়ের গল্প।

১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, প্যারিসের জাঁকজমক কিংবা সৌদি আরবের বিলাসবহুল স্টেডিয়াম থেকে বহু দূরে, ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যের মোগি দাস ক্রুজেস নামের এক শহরে জন্মগ্রহণ করেন নেইমার দা সিলভা সান্তোস জুনিয়র।

মোগি দাস ক্রুজেস: যাত্রার সূচনাবিন্দু

কোনো ভ্রমণ গাইডে নাম থাকা মহানগরী নয় এটি, বরং ব্রাজিলের এক প্রকৃত, সাদামাটা প্রান্ত, যেখানে ফুটবল বাঁচার মতোই এক ভিন্ন অনুভূতি। এই মোগি দাস ক্রুজেসেই এক কিশোর নেইমার প্রথম আঁকতে শুরু করেছিলেন সেই পথ, যা পরবর্তীতে তার গোটা জীবন বদলে দেয়।

আজ ৩১ বছর বয়সী এই তারকার খেলার ধরন বোঝা অসম্ভব যদি তার শৈশবের সেই মাঠগুলোর কথা বিবেচনায় না আনা হয়। মাঠে তিনি যে জাদু দেখান, তার শিকড় লুকিয়ে আছে সাও পাওলোর সেই পরিবেশে পাওয়া প্রশিক্ষণেই।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, ফুটবলের অনেক বড় বড় তারকাই সবসময় বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা একাডেমি থেকে উঠে আসেন না। কখনো কখনো সবচেয়ে খাঁটি প্রতিভা তৈরি হয় এমন শহরে, যেখানে ফুটবলই একমাত্র মুক্তির পথ আর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।

এই শিকড়ের গুরুত্ব কেন

তারকাদের উৎস জানা আমাদের বুঝতে সাহায্য করে তাদের জয়ের ক্ষুধা কোথা থেকে আসে। নেইমার শুধু একটা ব্র্যান্ড নন, তিনি এক দৃঢ় ফুটবল সংস্কৃতির ফসল, যার জন্ম মোগি দাস ক্রুজেসের মতো জায়গায়। এখানেই শাণিত হয়েছিল তার সহনশীলতা, চতুরতা আর সেই ইমপ্রোভাইজেশনের ক্ষমতা, যা আজ তাকে সংজ্ঞায়িত করে।

প্রায়ই গণমাধ্যম তার বর্তমান জীবন বা ব্যক্তিগত খবরাখবর নিয়েই বেশি মনোযোগী থাকে, ভুলে যায় কীভাবে সাও পাওলোর পরিবেশ ছোটবেলা থেকেই এক শিশুর মানসিকতা গড়ে তুলেছিল, যে জানত তার ভাগ্য একটা ফুটবলের সঙ্গেই বাঁধা।

শীর্ষে ওঠার এক অবিরাম যাত্রা

১৯৯২ সালের সেই জন্ম থেকে শুরু করে খেলাধুলার সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া এক আইকনে পরিণত হওয়া পর্যন্ত নেইমারের ক্যারিয়ার ছিল এক উল্কার মতো উত্থান। শৈশবে যা তিনি অনুভব করেছিলেন, সেটাই ছিল তার সেই ক্লাবগুলোতে পৌঁছানোর মূল চালিকাশক্তি, যেগুলো একসময় তিনি শুধু টেলিভিশনেই দেখতে পেতেন।

এটা সত্যিই বিস্ময়কর যে ব্রাজিলের একটা শহর কীভাবে এমন এক যাত্রার শুরুর বিন্দু হতে পারে, যা সারা বিশ্বে শত শত মিলিয়ন ইউরো ও কোটি মানুষের আবেগ নাড়া দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু গিয়ে মেশে সেই প্রাথমিক স্ফুলিঙ্গে, যা এক নিরহংকার জায়গায় জন্ম নিয়ে পরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামগুলো আলোকিত করে তোলে।

পরেরবার যখন নেইমারের অসম্ভব কোনো ড্রিবলিং দেখবেন, মনে রাখবেন—এই দক্ষতার জন্ম কোনো হাইটেক ল্যাবরেটরিতে হয়নি, হয়েছে মোগি দাস ক্রুজেসের রাস্তায়। একটা ছোট্ট জায়গা কীভাবে গোটা বিশ্বকে এত প্রতিভা উপহার দিতে পারে, তা কি অবিশ্বাস্য মনে হয় না?

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ