ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে, কারা যেতে পারবেন বিনা খরচে?

প্রবাসী ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২১ ২০:৫৮:০২
মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে, কারা যেতে পারবেন বিনা খরচে?

মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট করতে কত টাকা লাগে—এ প্রশ্নের উত্তর সবার জন্য এক নয়। বাংলাদেশ থেকে কোন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কর্মী যাচ্ছেন, নিয়োগকর্তা কী কী খরচ বহন করছেন এবং কর্মী সরকারি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত হয়েছেন কি না, তার ওপর মোট ব্যয় নির্ভর করে।

বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকারের সম্মতিতে বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মীকে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে বিমানভাড়াসহ সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন খরচে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত কর্মীদের জন্য; মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক প্রত্যেক কর্মীর জন্য এটি প্রযোজ্য নয়।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার বাগান খাতে নির্বাচিত কর্মীদের পাঠানোর জন্য সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৭৪০ টাকা। সেটি ছিল নির্দিষ্ট খাত ও নির্বাচিত কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ব্যয়, সবার জন্য বর্তমানে প্রযোজ্য সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটের মূল্য নয়।

মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট করতে কত টাকা লাগে?

মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে যেতে মোট কত টাকা খরচ হবে, তা নির্ভর করে চাকরির ধরন, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব, সরকারি বা বেসরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর। তাই নির্দিষ্ট চাকরির অফার ও নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই না করে কোনো একটি অঙ্ককে সবার জন্য চূড়ান্ত খরচ বলা সঠিক হবে না।

খরচ সম্পর্কে ধারণা পেতে তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি।

১. সরকারি বিশেষ কর্মসূচিতে নিয়োগ: বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বিনা অভিবাসন খরচে কর্মী পাঠানোর নির্দিষ্ট উদ্যোগ রয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির শর্ত অনুযায়ী খরচ ও প্রক্রিয়া যাচাই করতে হবে।

২. নির্দিষ্ট খাতে নির্বাচিত কর্মীদের অভিবাসন ব্যয়: ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার বাগান খাতে নির্বাচিত কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটি পুরোনো ও নির্দিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়ার অঙ্ক। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ব্যয় প্রযোজ্য ধরে নেওয়া যাবে না।

৩. অন্যান্য নিয়োগপ্রক্রিয়া: অন্য কোনো নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি, বিমানভাড়া, চিকিৎসা পরীক্ষা, কাগজপত্র এবং কে কোন খরচ বহন করবে—এসব বিষয় যাচাই করতে হবে। লিখিত হিসাব ছাড়া শুধু মৌখিক কথার ভিত্তিতে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিটের সরকারি ফি কত?

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার মাধ্যমে অনুমোদন, রেফারেন্সসহ ভিসা এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করে। সাধারণ বিদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ভিসা নিতে হয়। দেশটিতে পৌঁছানোর পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করে অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাস (Visit Pass—Temporary Employment বা VP(TE)) ইস্যু করা হয়।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের প্রকাশিত ফি-তালিকায় পাস নবায়নের ক্ষেত্রে খাতভেদে বিভিন্ন অঙ্ক উল্লেখ রয়েছে। যেমন, উপদ্বীপ মালয়েশিয়ায় উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতে নবায়নের লেভি ১ হাজার ৮৫০ রিঙ্গিত; বাগান খাতে ৬৪০ রিঙ্গিত এবং কৃষি খাতে ৬৪০ রিঙ্গিত। এর সঙ্গে পাস ও প্রসেসিং ফি এবং জাতীয়তাভেদে ভিসা ফি যুক্ত হতে পারে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওই তালিকায় ভিসা ফি ২০ রিঙ্গিত এবং নিরাপত্তা জামানতের হার ৫০০ রিঙ্গিত উল্লেখ আছে। তবে এই অঙ্কগুলোকে নতুন কর্মীর বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সম্পূর্ণ অভিবাসন ব্যয় হিসেবে ধরা যাবে না। তালিকাটি পাস নবায়নের ফি-সংক্রান্ত; নিরাপত্তা জামানতও মোট খরচের সঙ্গে সরাসরি এক করে দেখা ঠিক নয়।

সরকারি তথ্য: মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের বিদেশি কর্মীসংক্রান্ত নির্দেশনা

ওয়ার্ক পারমিটের খরচ কে বহন করবেন?

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের নির্দেশনায় বিদেশি কর্মীর নিয়োগ, অনুমোদন এবং পাসের প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। তবে কর্মীর কাছ থেকে বাংলাদেশে কী পরিমাণ নিয়োগ বা অভিবাসন ব্যয় নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট নিয়োগব্যবস্থা ও চুক্তির শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।

কোনো এজেন্সি টাকা চাইলে তার কাছে লিখিতভাবে জানতে চান—

মোট কত টাকা দিতে হবে এবং কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে;

বিমানভাড়া, মেডিকেল পরীক্ষা, ভিসা ও অন্যান্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় কে বহন করবে;

নিয়োগকর্তার নাম, চাকরির পদ, বেতন ও চুক্তির মেয়াদ কী;

ভিসা বা অনুমোদন না হলে টাকা ফেরতের শর্ত কী;

এজেন্সির বৈধ লাইসেন্স ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগের অনুমোদন রয়েছে কি না।

প্রতিটি অর্থ পরিশোধের বিপরীতে রসিদ এবং চুক্তির কপি সংরক্ষণ করুন। শুধু ‘ওয়ার্ক পারমিট করে দেব’—এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

মালয়েশিয়ায় যেতে ৭৮ হাজার ৭৪০ টাকা কি এখনো নির্ধারিত খরচ?

না, এই অঙ্ককে সব কর্মীর জন্য বর্তমান ও সর্বজনীন খরচ বলা যাবে না। বাসসের ২৮ জানুয়ারি ২০২৫-এর প্রতিবেদনে মালয়েশিয়ার বাগান খাতে নির্বাচিত কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় ৭৮ হাজার ৭৪০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছিল। সেটি ছিল নির্দিষ্ট সময়সীমা ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৬ সালের আগস্টে আবার ১০ হাজার কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা অভিবাসন খরচে পাঠানোর উদ্যোগের খবর প্রকাশিত হয়। এই দুটি তথ্য থেকে বোঝা যায়, নিয়োগের ধরন ও সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী খরচ আলাদা হতে পারে। তাই পুরোনো নির্ধারিত ব্যয় বা অন্য কোনো কর্মসূচির খরচকে নতুন নিয়োগের জন্য প্রযোজ্য ধরে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিটের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?

সাধারণ বিদেশি কর্মীর ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় নিয়োগের অনুমোদন ও ভিসার প্রক্রিয়া মূলত নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত পক্ষের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার আগে চাকরির প্রস্তাব ও নিয়োগকর্তার তথ্য যাচাই করে বৈধ প্রক্রিয়ায় এগোনো জরুরি।

প্রথমে বোয়েসেলের চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য দেখুন। অন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে গেলে তার বৈধতা ও নিয়োগের অনুমোদন যাচাই করুন। এরপর চাকরির চুক্তি, বেতন, কাজের ধরন, থাকার ব্যবস্থা এবং মোট খরচ লিখিতভাবে নিশ্চিত করুন। ভিসা বা অনুমোদনের তথ্য যাচাই না করে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধ করবেন না।

বোয়েসেলের চাকরির বিজ্ঞপ্তি: https://brms.boesl.gov.bd/jobs

টাকা দেওয়ার আগে যে সতর্কতাগুলো জরুরি

মালয়েশিয়ায় কাজের সুযোগের কথা বলে কেউ যদি নিশ্চিত ভিসা, দ্রুত পারমিট বা নির্দিষ্ট অঙ্কের বিনিময়ে চাকরির নিশ্চয়তা দেন, তাহলে আগে সব নথি যাচাই করুন। সরকারি বিশেষ কর্মসূচির নাম ব্যবহার করলেই কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি বৈধ হয়ে যায় না।

চাকরির অফার, নিয়োগকর্তার পরিচয়, ভিসা-সংক্রান্ত অনুমোদন, চুক্তি এবং অর্থের রসিদ যাচাই করা জরুরি। কোনো খরচ নিয়ে সন্দেহ হলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি বা বোয়েসেলের সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

সব মিলিয়ে, মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট করতে কত টাকা লাগবে—তার সঠিক উত্তর পেতে প্রথমে জানতে হবে কর্মী কোন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাচ্ছেন এবং কোন খরচ তাঁর নিজের বহন করার কথা। নির্দিষ্ট নিয়োগের সরকারি নির্দেশনা ও লিখিত খরচের হিসাব যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট করতে কত টাকা লাগে?

সবার জন্য এক অঙ্কের খরচ নেই। নিয়োগপ্রক্রিয়া, চাকরির ধরন এবং নিয়োগকর্তা কোন খরচ বহন করছেন—এসবের ওপর মোট ব্যয় নির্ভর করে।

২. মালয়েশিয়ায় কি বিনা খরচে কাজের ভিসায় যাওয়া যায়?

সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ হাজার কর্মীকে বোয়েসেলের মাধ্যমে বিমানভাড়াসহ বিনা অভিবাসন খরচে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সুবিধা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে নির্বাচিতদের জন্য; সবার জন্য নয়।

৩. মালয়েশিয়া যেতে ৭৮ হাজার ৭৪০ টাকা কি এখনকার নির্ধারিত খরচ?

না। এই অঙ্কটি ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার বাগান খাতে নির্বাচিত কর্মীদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় ছিল। নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান নির্দেশনা যাচাই করতে হবে।

৪. মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিটের টাকা কাকে দিতে হবে?

কোন খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবেন এবং কোন খরচ কর্মীর ওপর প্রযোজ্য, তা নিয়োগের শর্ত ও সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। অনুমোদিত প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা দালালকে টাকা দেওয়া উচিত নয়।

৫. মালয়েশিয়ার কাজের ভিসার জন্য কোথায় খোঁজ নেব?

সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির জন্য বোয়েসেলের ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের তথ্য দেখুন। অন্য কোনো এজেন্সির মাধ্যমে গেলে তার বৈধতা ও নিয়োগের অনুমোদন যাচাই করুন।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ