ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

শুধু অর্শ নয়, পায়খানায় রক্তের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে যা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৬:১২:০৩
শুধু অর্শ নয়, পায়খানায় রক্তের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে যা

মলত্যাগের পর টয়লেট পেপারে, কমোডে বা মলের সঙ্গে রক্ত দেখলে যে কেউ ঘাবড়ে যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, এ ধরনের রক্তপাতের নানা কারণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই কারণটা সামান্য, যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য বা অর্শ। আবার কখনো এটি বড় কোনো রোগের সংকেতও হতে পারে। তাই কোন রক্ত নিয়ে অপেক্ষা করা যায় আর কোনটির জন্য এখনই হাসপাতালে ছুটতে হবে, সেই পার্থক্য জানা জরুরি।

রক্ত আসে কেন

মলদ্বার থেকে বেরোনো যেকোনো রক্তকেই চিকিৎসার ভাষায় রেকটাল ব্লিডিং বলা হয়, যদিও সাধারণত বোঝানো হয় বৃহদন্ত্রের নিচের অংশ বা মলাশয় থেকে রক্তপাত। এই রক্ত সাধারণত টকটকে লাল হয়, তবে কখনো কখনো গাঢ় মেরুন রঙেরও হতে পারে।

তুলনামূলক সাধারণ কারণ

মায়ো ক্লিনিকের তালিকা অনুযায়ী সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে অ্যানাল ফিশার (মলদ্বারের ভেতরের আস্তরে ছোট ফাটল), কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল এবং হেমোরয়েড বা অর্শ (মলদ্বার বা মলাশয়ের শিরা ফুলে যাওয়া)।

কম সাধারণ, তবে গুরুতর হতে পারে এমন কারণ

কম দেখা যায় এমন কারণের তালিকায় রয়েছে মলদ্বারের ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, মলাশয়ের ক্যানসার, কোলনের পলিপ, ক্রোনস ডিজিজ, ডাইভার্টিকুলোসিস, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ায় কোলনের প্রদাহ (ইসকেমিক কোলাইটিস), মলাশয়ের আস্তরের প্রদাহ (প্রকটাইটিস) এবং সলিটারি রেকটাল আলসার সিন্ড্রোম। আলসারেটিভ কোলাইটিস নামের রোগেও, যেখানে বৃহদন্ত্রের ভেতরের আস্তরে ঘা ও ফোলা তৈরি হয়, এমন রক্তপাত দেখা যেতে পারে।

এই তালিকা দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করা ঠিক নয়। উল্লিখিত কারণগুলো এই উপসর্গের সঙ্গে সাধারণভাবে যুক্ত, তবে সঠিক রোগনির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তের রং কী ইঙ্গিত দেয়

একটি চিকিৎসা-সূত্র জানাচ্ছে, রক্তের রং দেখে সাধারণত বোঝা যায় রক্তপাত কোথা থেকে হচ্ছে। টকটকে লাল রক্ত সাধারণত মলদ্বার বা মলাশয়ের নিচের দিক থেকে আসে। অন্যদিকে কালো, আলকাতরার মতো মল পরিপাকতন্ত্রের ওপরের দিকের উৎস থেকে রক্তপাতের ইঙ্গিত হতে পারে।

কখন দেরি না করে হাসপাতালে যাবেন

চিকিৎসাবিষয়ক নির্দেশনায় যেসব লক্ষণকে জরুরি বলা হয়েছে, তার মধ্যে আছে:

রক্তপাত বেশি বা থামছেই না

মলের সঙ্গে বড় বড় জমাট রক্ত

মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়ে যাওয়া

তীব্র পেটব্যথা বা জ্বর

কালো আলকাতরার মতো মল

রক্তবমি, রক্তমিশ্রিত পাতলা পায়খানা বা তীব্র পেটব্যথা

মায়ো ক্লিনিকের নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রক্তপাতের সঙ্গে শক বা অবসাদের লক্ষণ থাকলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। পরিস্থিতি সংকটজনক মনে হলে অপেক্ষা না করে নিকটতম জরুরি বিভাগে যান, প্রয়োজনে অন্য কাউকে সঙ্গে নিন।

রক্ত অল্প হলেও কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

রক্তপাত সামান্য মনে হলেও অবহেলা করা ঠিক নয়:

রক্ত এক-দুই দিনের বেশি দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উদ্বেগ হলে তার আগেও যাওয়া যায়।

একটি গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি-সূত্রের মতে, রক্তপাত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে চলতে থাকলে চিকিৎসককে জানানো দরকার।

একই সূত্র আরও বলছে, অল্প রক্তপাত নিজে থেমে গেলেও ক্যানসার বা ক্যানসারের পূর্বাবস্থা বাদ দিতে কোলনোস্কোপি বা এন্ডোস্কোপির প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে সম্প্রতি এসব পরীক্ষা না করা থাকলে।

ঘরে কী করা যায়

হালকা রক্তপাতের ক্ষেত্রে আঁশযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও কুসুম গরম পানিতে বসা (সিটজ বাথ) কিছুটা উপকার দিতে পারে। তবে তা দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প হয় না। একটি সূত্রের ভাষ্য, নতুন, ব্যাখ্যাহীন বা বেশি পরিমাণ রক্তপাতে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।

ডাক্তারের কাছে গেলে যা জানানো ভালো

চিকিৎসক সঠিক উৎস বুঝতে পারেন কয়েকটি তথ্য থেকে। এগুলো আগে থেকে ভেবে রাখলে সুবিধা হয়:

রক্ত কখন থেকে দেখা যাচ্ছে এবং কতবার

রক্তের রং ও পরিমাণ (টয়লেট পেপারে, মলের ওপরে, নাকি কমোডের পানিতে)

ব্যথা, জ্বর, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য আছে কি না

মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব করছেন কি না

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. পায়খানায় রক্ত গেলেই কি ক্যানসার?

না। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে ফিশার, কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল ও অর্শ। তবে ক্যানসারসহ গুরুতর রোগও এর কারণ হতে পারে, তাই চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।

২. টকটকে লাল রক্ত আর কালো মলের মধ্যে পার্থক্য কী?

টকটকে লাল রক্ত সাধারণত মলদ্বার বা মলাশয়ের নিচের দিক থেকে আসে। কালো, আলকাতরার মতো মল পরিপাকতন্ত্রের ওপরের দিক থেকে রক্তপাতের ইঙ্গিত হতে পারে এবং তা জরুরি চিকিৎসার লক্ষণ।

৩. কখন সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে?

অতিরিক্ত বা থামছে না এমন রক্তপাত, বড় জমাট রক্ত, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর বা কালো আলকাতরার মতো মল দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া দরকার।

৪. অল্প রক্ত নিজে থেমে গেলে কি ডাক্তার দেখানো লাগবে?

রক্ত এক-দুই দিনের বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেমে গেলেও কারণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা লাগতে পারে।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে কি রক্ত পড়তে পারে?

হ্যাঁ। কোষ্ঠকাঠিন্য ও শক্ত মল রেকটাল ব্লিডিংয়ের সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে পড়ে।

তানভির ইসলাম/

পাঠকের মতামত: