ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

ঘুম কম হলে পুরুষের শরীরে যে ৭ ধরনের প্রভাব পড়ে

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ অক্টোবর ২৫ ১২:০৭:১৬
ঘুম কম হলে পুরুষের শরীরে যে ৭ ধরনের প্রভাব পড়ে

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের শুরু থেকেই ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ কিংবা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি থাকলে প্রভাব শুধু দৈনন্দিন জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না; শরীরের বিপাকক্রিয়া, রক্তচাপ, হৃদ্‌স্বাস্থ্য এবং হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমও প্রভাবিত হতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে যৌনইচ্ছা ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা রয়েছে। তাই কাজের ব্যস্ততা বা রাত জাগার অভ্যাসের কারণে নিয়মিত কম ঘুমানোকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং ঘুমবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; ঘুমের মান ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।

১. টেস্টোস্টেরন হরমোনে প্রভাব পড়তে পারে

পুরুষের যৌনস্বাস্থ্য, পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে টেস্টোস্টেরন হরমোনের সম্পর্ক রয়েছে। ঘুমের সময় শরীরে এই হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ ঘটে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং ঘুমের সমস্যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

২০১১ সালে JAMA সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি ছোট গবেষণায় দেখা যায়, ১০ জন সুস্থ তরুণ পুরুষ টানা এক সপ্তাহ রাতে প্রায় ৫ ঘণ্টা ঘুমানোর পর তাঁদের দিনের বেলার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পর্যাপ্ত ঘুমের সময়ের তুলনায় কম ছিল। তবে গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম ছিল। অন্যদিকে, পরবর্তী কিছু গবেষণায় স্বল্প সময়ের আংশিক ঘুমের ঘাটতির কারণে টেস্টোস্টেরন কমার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, কম ঘুম টেস্টোস্টেরনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু সব পুরুষের ক্ষেত্রে একই ফল হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। যৌনইচ্ছা কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলেই সেটিকে শুধু ঘুমের অভাব কিংবা টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি বলে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়।

২. যৌনইচ্ছা ও যৌনস্বাস্থ্যে পরিবর্তন আসতে পারে

ঘুমের ঘাটতি শরীরের শক্তি, মেজাজ ও হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে কারও কারও যৌনইচ্ছা কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মানসিক চাপও যৌনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে যৌনইচ্ছা কমে যাওয়া বা উত্থানজনিত সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ, মানসিক চাপ, নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব কিংবা হরমোনজনিত সমস্যাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই ঘুমের সময় বাড়ালেই সব ধরনের যৌন সমস্যা সেরে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়।

সমস্যা নিয়মিত হলে বা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

৩. ওজন বৃদ্ধি ও রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে

পর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা ও তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঘুম কম হলে ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে এবং খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে। এতে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ঘুমের ঘাটতি শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতাকেও প্রভাবিত করতে পারে। ইনসুলিন রক্তের গ্লুকোজ বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে ওজন বৃদ্ধি বা ডায়াবেটিসের একমাত্র কারণ কম ঘুম নয়। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম, বংশগত বৈশিষ্ট্যসহ আরও অনেক বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।

৪. হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে

ঘুমের সময় শরীর বিশ্রাম নেয় এবং হৃদ্‌যন্ত্র ও রক্তনালিসহ বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা পায়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক দেখা যায়।

ঘুমের ঘাটতি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া ও মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

তবে কম ঘুমালেই যে কারও হৃদ্‌রোগ হবে, তা নয়। বরং দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি সামগ্রিক ঝুঁকির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫. স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমতে পারে

ঘুম কম হওয়ার সবচেয়ে দ্রুত বোঝা যায় এমন প্রভাবগুলোর মধ্যে রয়েছে মনোযোগে ঘাটতি, সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা এবং প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়া। ঘুমের অভাব শেখা, স্মৃতি ধরে রাখা, সমস্যা সমাধান এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকেও ব্যাহত করতে পারে।

আরও পড়ুন:

হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে কেন? ৮টি সম্ভাব্য কারণ জেনে নিন

মুখে ব্রণ বাড়ছে? খাবারের তালিকায় আনুন এই পরিবর্তন

এর ফলে কর্মক্ষেত্রে ভুল হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত তন্দ্রা বিশেষভাবে বিপজ্জনক। ঘুমের ঘাটতি থাকলে কেউ নিজের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি সব সময় ঠিকভাবে বুঝতেও পারেন না।

তাই কাজের চাপ সামলাতে রাত জেগে থাকা সাময়িকভাবে সময় বাড়ালেও পরদিন মনোযোগ ও কাজের মান কমে যেতে পারে।

৬. মেজাজ, মানসিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধে প্রভাব পড়তে পারে

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে বিরক্তি, উদ্বেগ, মন খারাপ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা ও বিষণ্নতার মধ্যে সম্পর্কও পাওয়া গেছে। তবে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক দুই দিকেই কাজ করতে পারে—মানসিক সমস্যায় ঘুম ব্যাহত হতে পারে, আবার ঘুমের ঘাটতিও মানসিক সুস্থতাকে খারাপ করতে পারে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ঘাটতি রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে ঘুমকে শুধু বিশ্রামের বিষয় হিসেবে না দেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা দরকার।

৭. দিনের বেলা অতিরিক্ত তন্দ্রা হতে পারে অন্য সমস্যার সংকেত

নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় বিছানায় থাকার পরও যদি সকালে সতেজ না লাগে, দিনের বেলা বারবার ঘুম পায় কিংবা রাতে ঘুম বারবার ভেঙে যায়, তাহলে বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন।

কখনো কখনো এর পেছনে অনিদ্রা বা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের সমস্যা থাকতে পারে। স্লিপ অ্যাপনিয়ায় ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার মতো ঘটনা এবং দিনের বেলা অতিরিক্ত তন্দ্রা থাকলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

এ ধরনের লক্ষণ থাকলে শুধু ঘুমের সময় বাড়ানোর চেষ্টা না করে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

পুরুষের প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন?

সিডিসির সুপারিশ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। ৬১ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য সাধারণ সুপারিশ ৭–৯ ঘণ্টা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ৭–৮ ঘণ্টা।

ব্যক্তিভেদে ঘুমের প্রয়োজন কিছুটা আলাদা হতে পারে। তবে নিয়মিত ৭ ঘণ্টার কম ঘুম হলে এবং দিনের বেলা ক্লান্তি বা তন্দ্রা দেখা দিলে ঘুমের অভ্যাস পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ভালো ঘুমের জন্য কী করবেন?

ঘুমের সময় ও মান উন্নত করতে কিছু অভ্যাস সহায়ক হতে পারে।

প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ওঠার চেষ্টা করুন।

শোয়ার আগে মোবাইল বা অন্যান্য পর্দার ব্যবহার কমিয়ে আনুন।

বিকেল বা সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে এতে ঘুমের সমস্যা হলে।

শোবার ঘর শান্ত, আরামদায়ক ও ঘুমের উপযোগী রাখুন।

নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখুন।

ঘুমের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে নিয়মিত রাত জাগার অভ্যাস চালিয়ে যাবেন না।

দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত দিনের তন্দ্রা বা নাক ডাকার সঙ্গে শ্বাস আটকে আসার লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিজে থেকে টেস্টোস্টেরন বাড়ানোর ওষুধ বা হরমোন গ্রহণ করা উচিত নয়। যৌনস্বাস্থ্য বা হরমোন নিয়ে উদ্বেগ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষা ও মূল্যায়নের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে পারবেন।

পুরুষের শরীরে ঘুমের প্রভাব শুধু ক্লান্তি বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা এবং হরমোনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। আর ঘুমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা যৌনস্বাস্থ্যসহ অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাসঙ্গিক FAQ

১. পুরুষের প্রতিদিন কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত?

১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর সুপারিশ করা হয়। বয়স ও ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হতে পারে।

২. কম ঘুমালে কি পুরুষের টেস্টোস্টেরন কমে যায়?

ঘুমের ঘাটতি টেস্টোস্টেরনের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে গবেষণার ফল একরকম নয়; কম ঘুম হলেই প্রত্যেক পুরুষের টেস্টোস্টেরন কমবে, এমনটি নিশ্চিত নয়।

৩. ঘুম কম হলে কি যৌনক্ষমতা কমে যেতে পারে?

ঘুমের ঘাটতি ক্লান্তি, মেজাজ ও হরমোনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে, যা যৌনইচ্ছা বা যৌনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে যৌন সমস্যার অন্য কারণও থাকতে পারে।

৪. কম ঘুম কি ওজন ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়?

নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব সমস্যার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করে।

৫. পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও দিনের বেলা ঘুম পেলে কী করবেন?

নিয়মিত এমন হলে, বিশেষ করে জোরে নাক ডাকা বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস আটকে আসার লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর পেছনে ঘুমের কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত: