Alamin Islam
Senior Reporter
সন্তান নিতে চান? গর্ভধারণের আগে যে ৫টি জরুরি বিষয় জানতেই হবে
সন্তান গ্রহণের সিদ্ধান্ত একটি দম্পতির জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তবে মাতৃত্বের এই সফর যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এটি নারীর শরীরের ওপর দিয়ে যাওয়া অন্যতম কঠিন একটি সময়। আবার বাবা হওয়ার অর্থ হলো পারিবারিক দায়িত্বের এক বিশাল ভার কাঁধে নেওয়া। তাই গর্ভধারণের চেষ্টা শুরুর আগেই হবু বাবা ও মায়ের শারীরিক প্রস্তুতি কতটুকু, তা যাচাই করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সন্তান ও নিরাপদ গর্ভাবস্থার জন্য নিচের পাঁচটি মৌলিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন:
১. শরীরের ডিম্বাণুর মজুদ বা 'ওভারিয়ান রিজার্ভ'
একজন নারীর ডিম্বাশয়ে ঠিক কতগুলো ডিম্বাণু অবশিষ্ট আছে, তাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে 'ওভারিয়ান রিজার্ভ' বলা হয়। এটি পরিমাপের জন্য ডাক্তাররা মূলত দুটি পথ বেছে নেন: অ্যান্টি-মুলেরিয়ান হরমোন (AMH) পরীক্ষা এবং আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে অ্যান্ট্রাল ফলিকল পর্যবেক্ষণ। যদিও এই পরীক্ষাটি কোনো নারী প্রাকৃতিকভাবে মা হতে পারবেন কি না তার শতভাগ নিশ্চয়তা দেয় না, তবে প্রজনন চিকিৎসার প্রয়োজন হলে শরীর তাতে কেমন সাড়া দেবে, তার একটি পূর্বাভাস দেয়। মনে রাখা প্রয়োজন, ৩০ বছরের পর থেকে নারীদের এই ডিম্বাণুর মজুদ কমতে থাকে এবং ৩৫-এর পর তা দ্রুত হ্রাস পায়।
২. ঋতুচক্রের ধারাবাহিকতা ও ওভুলেশন
সুস্থ প্রজনন ক্ষমতার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো নিয়মিত মাসিক হওয়া। যাদের মাসিক নিয়মিত হয়, তাদের ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশনও সাধারণত সঠিক সময়ে ঘটে। তবে দীর্ঘ মেয়াদী বা অনিয়মিত মাসিক চক্র পিসিওএস (PCOS) কিংবা থাইরয়েডের মতো হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ২৫ শতাংশ নারী ডিম্বস্ফোটন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গর্ভধারণে বাধার সম্মুখীন হন। তাই নিজের চক্রের প্যাটার্ন আগে থেকেই ট্র্যাক করা বুদ্ধিমত্তার কাজ।
৩. পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের গুরুত্ব
সন্তান ধারণে ব্যর্থতার দায়ভার কেবল নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সনাতনী ধারণা এখন অতীত। গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বন্ধ্যাত্বের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষদের শারীরিক কারণগুলো দায়ী থাকে। তাই বীর্য বিশ্লেষণের (Semen Analysis) মাধ্যমে শুক্রাণুর গুণগত মান পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শুধু শুক্রাণুর সংখ্যা দেখলেই চলে না, বরং সেগুলোর চলনক্ষমতা (Mobility) এবং গঠনগত আকৃতিও ঠিক থাকা জরুরি। কারণ, কেবল একটি সুস্থ ও গতিশীল শুক্রাণুই ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে সক্ষম।
৪. গর্ভাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সুস্থতা
একটি সফল গর্ভধারণের জন্য শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের পথটি বাধাহীন হওয়া চাই। ফ্যালোপিয়ান টিউব যদি ব্লক থাকে কিংবা জরায়ুতে ফাইব্রয়েড, পলিপ বা কোনো জন্মগত ত্রুটি থাকে, তবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া ভ্রূণ জরায়ুতে সঠিকভাবে থিতু বা ইমপ্লান্ট হওয়ার জন্য একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জরায়ুর পরিবেশ থাকা একান্ত আবশ্যক।
৫. বয়সের সঙ্গে জিনগত ঝুঁকির সম্পর্ক
বয়স বাড়ার প্রভাব কেবল ফার্টিলিটির ওপর পড়ে না, এটি ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর জিনগত মানের ওপরও প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রোমোজোমজনিত অস্বাভাবিকতা বা জেনেটিক ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে। বিভিন্ন আইভিএফ (IVF) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সের নারীদের ডিম্বাণুতে ক্রোমোজোমগত জটিলতা দেখা দেওয়ার হার বেশ উচ্চ। তাই বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সঠিক সময়ে পরিকল্পনা করা দম্পতিদের জন্য জরুরি।
একটি সুস্থ ও সুন্দর আগামীর জন্য সচেতন পরিকল্পনার বিকল্প নেই। আপনি যদি সন্তান নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তবে এই পাঁচটি বিষয় মাথায় রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক তথ্য এবং শারীরিক প্রস্তুতিই পারে আপনার মাতৃত্বের স্বপ্নকে সফল করতে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. গর্ভধারণের জন্য ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ বা AMH জানা কেন প্রয়োজন?
উত্তর: ডিম্বাশয়ের রিজার্ভ বা AMH মাত্রার মাধ্যমে জানা যায় একজন নারীর শরীরে কতটুকু ডিম্বাণু অবশিষ্ট আছে। বিশেষ করে বয়স ৩০ পার হলে বা যারা ফার্টিলিটি চিকিৎসার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এটি জানা জরুরি। কারণ এটি গর্ভধারণের সঠিক সময় নির্ধারণে এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় সাহায্য করে।
২. অনিয়মিত মাসিক কি গর্ভধারণে বাধা তৈরি করে?
উত্তর: হ্যাঁ, অনিয়মিত মাসিক অনেক সময় অনিয়মিত ডিম্বস্ফোটন বা ওভুলেশনের লক্ষণ। এটি পিসিওএস (PCOS) বা থাইরয়েড সমস্যার কারণে হতে পারে। যেহেতু সফল গর্ভধারণের জন্য সঠিক সময়ে ওভুলেশন হওয়া প্রয়োজন, তাই মাসিক নিয়মিত না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. গর্ভধারণের ব্যর্থতায় পুরুষের ভূমিকা কতটুকু?
উত্তর: গবেষণায় দেখা গেছে, বন্ধ্যাত্বের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ সঙ্গী দায়ী হতে পারেন। শুধুমাত্র শুক্রাণুর সংখ্যা যথেষ্ট হওয়াই বড় কথা নয়, শুক্রাণুর গতিশীলতা এবং সঠিক গঠনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই গর্ভধারণের পরিকল্পনায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই পরীক্ষা করানো উচিত।
৪. ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক থাকলে কি গর্ভবতী হওয়া সম্ভব?
উত্তর: ফ্যালোপিয়ান টিউব হলো শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের পথ। এই টিউব যদি ব্লক থাকে, তবে প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। জরায়ুর সুস্থতা এবং টিউবের পথ পরিষ্কার থাকা সফল ইমপ্লান্টেশনের জন্য অপরিহার্য।
৫. বয়স ৩৫ পার হয়ে গেলে গর্ভধারণে কী ধরনের ঝুঁকি থাকে?
উত্তর: বয়স ৩৫ পার হওয়ার পর ডিম্বাণুর সংখ্যা কমার পাশাপাশি এর গুণগত মানও কমতে থাকে। এর ফলে গর্ভপাত বা গর্ভস্থ শিশুর ক্রোমোজোমগত অস্বাভাবিকতা বা জেনেটিক ত্রুটির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই এ বয়সের পর গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও ডাক্তারি পরামর্শ প্রয়োজন।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- আজকের স্বর্ণের দাম: (শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬)
- শবে বরাতের রোজা কবে কখন? জানুন ২০২৬ সালের সঠিক তারিখ ও সময়সূচি
- সোনালী পেপার দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস ও ক্যাশফ্লোতে বড় পরিবর্তন
- মুনাফায় চমক দেখালো কপারটেক: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- মুনাফায় বড় উল্লম্ফন জিবিবি পাওয়ারের: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ওয়াটা কেমিক্যালস: মুনাফায় বিশাল লাফ, দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- কনফিডেন্স সিমেন্ট ও ইন্দো-বাংলাসহ ৫ কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- সায়হাম কটন মিলস: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- ওরিয়ন ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- আফতাব অটো: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের নতুন মিশন শুরু
- মতিন স্পিনিং: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- বড় প্রবৃদ্ধিতে স্কয়ার ফার্মা: দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
- গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস: দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক চিত্র প্রকাশ
- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ: ইপিএস শক্তিশালী