জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা, আবেদনের নিয়ম জানুন
জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্বাচিত উদ্যোক্তার ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ দেওয়া হবে। তবে এই অর্থ পুরোটা ঋণ নয়—অনুমোদিত অর্থের অর্ধেক ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান হিসেবে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে এমন তরুণদের খুঁজে বের করে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোই কর্মসূচিটির লক্ষ্য। এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৫ হাজার সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাকে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। দেশের অন্যান্য জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলার উদ্যোক্তাদের জন্য আবেদন নেওয়া হবে ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
অর্থায়নের পুরো ২০ লাখ পাওয়া যাবে না সবার
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির সর্বোচ্চ সীমা ২০ লাখ টাকা হলেও নির্বাচিত প্রত্যেক উদ্যোক্তাকে ওই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে না। একজন উদ্যোক্তার ব্যবসায় আসলে কত টাকা প্রয়োজন এবং তাঁর প্রস্তাব কতটা উপযোগী—এসব মূল্যায়নের পর অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
ধরা যাক, কোনো উদ্যোক্তার জন্য ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন অনুমোদন করা হলো। সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হতে পারে।
আবার ব্যবসা পরিচালনার জন্য যদি ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে ৬ লাখ টাকা ঋণ ও ৬ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে।
এ হিসাবের সময় উদ্যোক্তার নিজের বিনিয়োগকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অর্থ থাকলেও সেটি সামগ্রিক অর্থায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হবে।
আবেদন করার প্রক্রিয়া কী
আগ্রহী উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
ফরম পূরণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদন করার জন্য নিজের সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফশিলি ব্যাংকের শাখা বেছে নেওয়া যাবে।
এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—যে ব্যাংকের শাখায় আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
আবেদনের সঙ্গে যেসব নথি দিতে হবে
আবেদন জমা দেওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি দিতে হবে। এর সঙ্গে সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপিও প্রয়োজন হবে।
কেউ দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের সনদের কপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ অথবা প্রত্যয়নপত্রও আবেদনের অংশ হিসেবে দিতে হবে।
এই নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচনের পর ব্যাংক করবে আলাদা যাচাই
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্বাচিত হওয়া আর ঋণ অনুমোদন পাওয়া একই বিষয় নয়। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তার নিজস্ব ঋণনীতি এবং প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে করার কথা রয়েছে। এ সময় উদ্যোক্তার ব্যবসার ধরন, প্রস্তাবের সম্ভাব্যতা এবং ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ পর্যালোচনা করা হবে। এসব বিবেচনার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত কতটা অর্থায়ন করা হবে তা নির্ধারিত হবে।
কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে ব্যাংককে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে সেই কারণ বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।
টাকা পাওয়ার পাশাপাশি মিলবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ
তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসূচিটি শুধু অর্থ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আবেদনকারী প্রত্যেককেই আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তারা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতেও সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তদবির করলে কী হবে
কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো পর্যায়ে তদবির করা নিষিদ্ধ। কোনো আবেদনকারীর পক্ষে তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।
ব্যাংকগুলোকেও ঋণ ও অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে গ্রাহকের পরিচিতি যাচাই, সিআইবি এবং লেনদেন তদারকির বিষয় রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যে উদ্যোগের অংশ এটি
‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট। গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি-উদ্যোগ’-এর নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। পরে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের শনাক্ত করে তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করা, স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই কর্মসূচিটি নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- ডিএসইতে স্বস্তি, কোন খাতে কত রিটার্ন মিলল?
- নতুন পে স্কেলে বকেয়া পাবেন যেভাবে, কার্যকর ১ জুলাই
- শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শেখাতে বিএসইসির বড় পরিকল্পনা
- শেয়ারবাজারে এখন বিনিয়োগের সময়? সুযোগ-ঝুঁকির হিসাব
- শেয়ার কিনবেন? আগে এই ৭ ভুল থেকে দূরে থাকুন
- নতুন পে স্কেলে আপনার বেতন কত, জানুন হিসাবের নিয়ম
- আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ কবে, কোথায় ও কার বিপক্ষে
- ২০২৬ সালের সেরা ৫ বাইক, দাম ও মাইলেজ জানুন
- আর্জেন্টিনার পরবর্তী ৩ ম্যাচ কবে, কার বিপক্ষে? জানুন সময়সূচি
- বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়ার সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- ২০২৬ সালে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ৫ স্মার্টফোন
- একাদশ শ্রেণির মাইগ্রেশন ফল প্রকাশ, দেখবেন যেভাবে
- পে স্কেল: নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি, কে কত পাবেন
- নতুন পে-স্কেলের বেতন পেতে লাগবে যেসব তথ্য
- বার্সেলোনার ম্যাচসহ টিভিতে আজকের সকল খেলার সময়সূচি