ঢাকা, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯

এখনও আদিম যুগে বিসিবি ডিআরএস নিয়ে চারেদিকে চলছে তুমুল সমালোচনা

২০২৩ জানুয়ারি ১৫ ২২:৫৫:৫৮
এখনও আদিম যুগে বিসিবি ডিআরএস নিয়ে চারেদিকে চলছে তুমুল সমালোচনা

গতকাল ১৪ জানুয়ারি, শনিবার সন্ধ্যায় বিপিএলের নবম আসরে এডিআরএস নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আসরের অন্যতম দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছিলেন, ‘হাত-পা বাঁধা আছে। আমরা মাঠে চিল্লাচিল্লি করি এটা কি চান? এমনিই সাসপেন্ড করে দেবে।’

নিজ দলের খেলোয়াড় জাকের আলীর ভুল আউটের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে সালাউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে এমনটা বলেছিলেন।

কুমিল্লার কোচের প্রতিক্রিয়া চোখে পড়তেই রাতে বিসিবি বিজ্ঞপ্তি পাঠায় এডিআরএস নিয়ে। যেখানে আয়োজকরা সাফ জানিয়ে দেয়, টুর্নামেন্টের প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, বলের যেকোনো হালকা অংশও পিচিং জোনে থাকলে তা পিচড ইন লাইন হিসেবে গণ্য করা হবে। অথচ আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, পিচিং জোন দেখার প্রযুক্তিতে বলের ৫০ শতাংশের বেশি লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচড করলে তা পিচড আউটসাইড লেগ হিসেবে গণ্য হয়।

জাকেরের আউটের বেলায় বলের ৯৯ শতাংশই লেগ স্টাম্পের বাইরে ছিল। খালি চোখেও যা স্পষ্ট ছিল। আইসিসির নিয়মে তাই কোনভাবেই আউট হন না জাকের। ডিআরএসের বিকল্প হিসেবে এডিআরএস ব্যবহার করলেও আইসিসির নিয়মটাই পাল্টে দিলো বিসিবি।

এতে খেলোয়াড়রাও বিস্মিত। তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সিলেট স্ট্রাইকার্সের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান আকবর আলী যেমন বলছিলেন, ‘দেখুন আমরা তো জানি আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী খেলা চলছে।’

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো ওয়াহাব রিয়াজ এমন আশ্চর্যজনক প্রযুক্তি, নিয়ম প্রথমবার দেখছেন। এডিআরএস সংশয় তৈরি করছে বলে দাবি তার। এজন্য মাঠের আম্পায়ারকে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা বললেন, ‘আমাদের এডিআরএস থাকা উচিত নয় এবং আম্পায়ারদেরই বিচার করতে দেওয়া উচিত। কারণ, আপনার যদি সঠিক ডিআরএস না থাকে তবে এটি ব্যাটসম্যান এবং বোলার উভয়ের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি করতে পারে। আম্পায়ারদেরই বিচার করতে দিন এবং তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দিন কোনটি সঠিক।’

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে আরেকবার এডিআরএসের নিয়ম নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হলেন না। মুঠোফোনের ওপার থেকে শোনা গেল, ‘আর না ভাই...মাফ করেন।’

বিপিএলে খেলোয়াড়দের রিভিউ নিয়ে আইসিসির নিয়মের বাইরে আলাদা আইন থাকবে এমনটা চিন্তাও করতে পারেন না ক্রিকেটাররা। নাম গোপন রাখার শর্তে এক ক্রিকেটার বলছিলেন, ‘এটা কোনো কথা হতে পারে না। সারাবছর খেলবো, চিন্তা করবো একভাবে। আর বিপিএলে এসে খেলবো আরেকভাবে? এটা কোন ধরণের কথা? সিদ্ধান্ত আমার পক্ষে আসুক আর বিপক্ষে যাক, এটা তো হতেই পারে না।’

বিপিএলের আয়োজকদের দাবি, টুর্নামেন্টের বাইলজে এডিআরএস নিয়ে পরিস্কার বার্তা দেয়া আছে। সঙ্গে বিপিএল শুরুর আগে অধিনায়ক ও ম্যানেজারদের মিটিংয়ে বিপিএলের নিয়ম-কানুন নিয়ে সব আলোচনা হয়েছে। সেসব ক্রিকেটাররা জানেনও না বোঝা গেল আকবরের কথায়, ‘মিটিংয়ে এটা নিয়ে (এডিআরএসের নিয়ম) কোনো কথা হচ্ছে কি না, এগুলো আসলে আমাদের জানার কথাও না। আমরা জানতাম যে বিপিএলে আন্তর্জাতিক নিয়মে খেলা হচ্ছে, আমাকে প্রশ্ন করলে মনে হয় না আমি উত্তর দিতে পারব।’

কুমিল্লার কোচ সালাউদ্দিন কোনো পরিবর্তন না আসার কথাও বলেছিলেন, ‘প্রতিবাদ করেও তো লাভ নেই। আমরা লিখিত দিব বা প্রতিবাদ করবো সেটা করেও তো লাভ নেই। কিছুই হবে না।’ আয়োজকরা সত্যিই বিতর্ক এড়াতে কিছু করতে পারছেন না। উল্টো নিত্য দিন নতুন বিতর্কের জন্ম হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

খেলা এর সর্বশেষ খবর

খেলা - এর সব খবর



রে