ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

ফর্মহীন লিটন ক্যাপ্টেন্সি ছাড়ছেন, সিলেটে সুখে নেই শান্ত!

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৪ ফেব্রুয়ারি ০৫ ১৫:২৬:৫৩
ফর্মহীন লিটন ক্যাপ্টেন্সি ছাড়ছেন, সিলেটে সুখে নেই শান্ত!

এবারের বিপিএলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত দুই ক্রিকেটার। এই ধরনের আলোচনা সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়, একটি সুপার পারফরম্যান্স এবং অন্যটি সুপার ফ্লপ। ক্রিকেটারের চাহিদা অনেক কিন্তু তার পারফরম্যান্স মাটিতে নেমে, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন কুমার দাসের এই অবস্থা।

চলতি বিপিএলে অনেকে বলার চেষ্টা করছেন যে আসলে ডোমেস্টিক টুর্নামেন্টে ক্রিকেটাররা খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। এখানে ক্রিকেটাররা রিল্যাক্স হয়ে খেলে এটা পারফরম্যান্সে প্রভাব থাকে। এই ধরনের কথাবার্তা যাই বলা হোক না কেন সেটা খুব বেশি গ্রহনযোগ্যতা নেই। একজনকে প্রত্যেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজি অন্তত ১ কোটি থেকে ৮০ লাখ টাকা দিয়ে দলে নিয়েছেন বসিয়ে রাখার জন্য না বরং পারফর্ম করার জন্য। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এতটা পেশাদার যে ইমরুল কায়েসকে যদি কোনও কারণে ড্রপ করতে হয় যেহেতু আগের মৌসুমটা তাদের ভালো যায়নি, সে কারণে তারা ক্যাপ্টেন্সিতে পরিবর্তন এনেছে। ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হয়েছে এমন একজনের উপর যাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁরা খুব বেশি আশাবাদী ছিল। কনফিডেন্ট ছিলো যে ইমরুল পারফর্ম করতে না পারলে তাকে আমরা হয়তো বসিয়ে রাখতে পারব। কিন্তু এমন একজন রয়েছেন যিনি আসলে খারাপ পারফরম্যান্স করবেন, পারফর্ম করতে পারবেন না।এই কনফিউশানই নেই তিনি হলেন লিটন কুমার দাস।

এই দুজন ক্রিকেটারের উপরে সবচেয়ে বড় যে প্রভাবটা তৈরি হয়েছে সেটা ক্যাপ্টেন্সি কেন্দ্রিক। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এমনও সিদান্ত নিতে পারেন যে লিটনকে ক্যাপ্টেন্সি থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। এই পারফরম্যান্স যদি অব্যাহত থাকে লিটনকে কি ড্রপ করতে হতে পারে?এরকম চিন্তাও রয়েছে। দরকার যারা ম্যানেজমেন্টের সাথে জড়িত কেউ তা প্রকাশ করেননি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে এই আলোচনাগুলো রয়েছে।

লিটন কুমার দাসকে অধিনায়কত্ব দেওয়ার পর এবারের বিপিএল তিনি কুমিল্লার হয়ে ৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩৭। তিনি করেছেন এক ম্যাচে ১৩, তার পর ১৪। তারপরে ৮ তারপরে শূন্য এবং তারপরে হচ্ছে দুই রান। তার এভারেজ রান ৮ এর নিচে এবং স্ট্রাইক রেট ৭৫ এর নিচে। বাজে ভাবনাগুলো সবচেয়ে বেশি এই মুহূর্তে আলোচনা আছে, সেটা হচ্ছে লিটন কুমার দাস পারফরম্যান্স করতে পারছেন না। কারণ তিনি ক্যাপ্টেন্সির পেশাটাকে হ্যান্ডেল করতে পারছেন না।

কুমিল্লা চার বারের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নস একটি দল সেই দলকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে লিটন তার সহজাত পারফরম্যান্সে যে জায়গাটা যে ভাবে লিটনকে বিপিএলে চাই, আমরা যেভাবে লিটনকে কুমিল্লার জার্সিতে চায় স্পনসররা যে ভাবে লিটনকে তাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি চায়, সেই ভাবে পারফর্ম করতে পারছে না।

এখন লিটনকে যদি সরিয়ে দেওয়া আর যদি দুই-তিনটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে যদি কোন পরিবর্তন না হয় তাহলে তার জায়গাটায় রিপ্লেস কারা হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে এটা বলা যায় সেটা লিটন এবং সেই ক্রিকেটারের জন্য নতুন প্রেসার ক্রিয়েট করবে।

নাজমুল হোসেন শান্তর ক্ষেত্রে ঘটনাটা ভিন্ন।এটা মোটামুটি ওপেন সিক্রেট হয়ে গেছে। নাজমুল শান্ত সিলেট স্ট্রাইকার্স হয়ে খুব একটা সুখী নয় পরবর্তি বিপিএলে তিনি সিলেটের হয়ে খেলবেন না। এটা মোটামুটি চূড়ান্ত। কেন? সবচেয়ে বড় আলোচনা যেটা বাংলাদেশ জাতীয় দল ভবিষ্যৎ ক্যাপ্টেন যাঁকে ধরা হচ্ছেন তিনি নাজমুল শান্ত।

যিনি এবারের বিপিএলে খেলছেন এবং শুরুর দিকটা আমরা দেখেছি মাশরাফি বিন মুর্তজা তিনিই ছিলেন। তিনি ক্যাপ্টেন্সি করবেন। এটা আসলে বড় ধরণের কোন ইস্যু নেই। কিন্তু মাশরাফি চলে যাওয়ার পরেও যখন নাজমুল শান্তকে ক্যাপ্টেন্সির ম্যাটেরিয়াল বা ক্যাপ্টেন হিসেবে ওই পার্টিকুলার ফ্র্যাঞ্চাইজ বিবেচনা করে না, মিঠুনকে সেই দায়িত্বটা দেওয়া হয়। মিঠুন হচ্ছে মাশরাফি চলে যাওয়ার পর দলে সুযোগ পেলেন ক্যাপ্টেন ছিলেন পারফর্ম করলেন দল জিতল ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছেন। সম্ভবত এই ঘটনা যখন ঘটল, ঠিক তখন সেটা কোনও ভাল বার্তা দেয়নি।

মাশরাফি পর কেন শান্তকে কেন ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হল না? এখানে একটি দারুণ উদাহরণ টানা হয়েছে, সাকিব আল হাসান ক্যাপ্টেন্সি করছেন না। তিনি বলেছেন, তিনি প্রেশার নিতে চান না। তিনি তো মাঠে রয়েছেন, অন্য জন করুক। সোহান সেখানে ক্যাপ্টেন্সি করছেন। আবার একই সাথে তামিম ইকবাল ক্যাপ্টেন্সি করলেও তিনি মেহেদী হাসান মিরাজকে প্রমোট করার চেষ্টা করছেন।

দিন শেষে ফ্র্যাঞ্চাইজের চাপাচাপিতে তামিম ইকবালকে ক্যাপ্টেন হতে হয়েছে এবং এটা প্রকাশ্য প্রেস মিটে এসে স্বীকারও করেছেন তিনি ক্যাপ্টেন্সি করার থেকে দলে থাকাটা বেশ উপভোগ করেন ৷ ভবিষ্যৎ ক্যাপ্টেন হিসেবে যেহেতু মিরাজের মধ্যে সেই গুণাবলী রয়েছে তিনি চান যে মিরাজ ক্যাপ্টেন্সি করুন।

যখন সাকিব, তামিম দু জন দুই মেরুর ক্রিকেটার দুজনের মধ্যে এত বৈরী সম্পর্ক। এরকম আলোচনাগুলো সব সময় হয়। শীতলতার একটা অবস্থা। অনেকটা হচ্ছে রাশিয়া ইউক্রেনের মতো। কিন্তু নীতিগত জায়গায় গিয়ে এখন তাদের চান্স দেওয়া উচিত তারা তা বিশ্বাস করে।

নাজমুল হোসেন শান্ত তো সাকিবের রিপ্লেসমেন্টের ন্যাশনাল টিমের ভবিষ্যৎ ক্যাপ্টেন এবং এটা নিয়ে খুব বেশি ডাউট নেই৷ তো তাঁকে কেন ক্যাপ্টেন্সি দেওয়া হল না এটা নিয়ে শুধু বাইরে আলোচনা না, নাজমুল শান্ত অনেক অসুখী এবং লিটনের ক্ষেত্রে ক্যাপ্টেন্সি করতে গিয়ে ক্যাপ্টেন্সি প্রেসারের জন্য তাঁর পারফরম্যান্সে যে প্রেসারটা পড়েছে, চাপ পড়েছে পাঁচ ম্যাচ খেলে তিনি মাত্র ৩৭ রান করেছেন। কিন্তু নাজমুল শান্ত ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঘটেছে নাকি ডিফারেন্ট। ক্যাপ্টেন্সি করতে না পারার কারণে এবং সেখানে তিনি খুব বেশি সুখী না হওয়ার কারণেই নাকি তাঁর পারফরম্যান্স খারাপ হচ্ছে। একজন ক্যাপ্টেন্সি করার কারণে চাপে ভাল করতে পারছে না। আরেকজন নাকি ক্যাপ্টেন্সি না করতে পারার কারণে তিনি আসলে তাঁর সেরাটা দিতে পারছেন না।

যে ক্রিকেটার পারফর্ম করতে পারছেন না সেই ক্রিকেটারকে কি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্যাপ্টেন্সি দেওয়ার পরিকল্পনা ওই পার্টিকুলার ফ্রান্সিস করবে কি না?এটা তো মনে হয় না। মানে তারা কাকে ক্যাপ্টেন্স দেবেন? যিনি আসলে পারফরমার কিন্তু যিনি আসলে পারফরমার না তাকে তো দিবেন না।

নাজমুল শান্ত এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলেছে। সাত ম্যাচে করেছেন ৭৩ রান। তাঁর গড় হচ্ছে ওই লিটন কুমার দাসের মতোই ৷ কিন্তু তার থেকে একটু বেটার লিটন ৮ এর নীচে আর নাজমুল শান্ত ১০ এর নীচে। আমার যদি স্ট্রাইক রেট দেখি সেটাই কিন্তু শান্ত এগিয়ে, লিটন হচ্ছে ৭৫ এবং নাজমুল শান্ত ৮২।

আউট অব ফর্ম কোনও পার্টিকুলার ফ্র্যাঞ্চাইজি কি তিনি যতই জাতীয় দলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ক্যাপ্টেন হোক না কেন ক্যাপ্টেন্সি দিবে কি না সেটা একটা বড় প্রশ্ন। অদ্ভুত এক সমীকরণ এর মধ্য দিয়ে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট চলছে। কেউ ক্যাপ্টেন্সির প্রেসারে আউট অফ ফর্ম আবার কেউ ক্যাপ্টেন্সি না পাওয়ার হতাশায় আউট ফর্ম। তাদের দুজনই আবার এক জায়গায় মিলে গেছেন সেটা হলো দুজনই আউট অফ ফর্ম। এবং যেটা বাংলাদেশের আসছে শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং ওয়ার্ল্ড কাপ এর জন্য অবশ্যই অ্যালার্মিং। আমরা এক্সপেক্ট করি লিটন শান্তর তাদের পারফরম্যান্স এবং তাঁদের ফর্মে ফিরবে।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে