ঢাকা, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০

পাকিস্তানের নির্বাচনে যত সিট পেলেন ইমরান খান!

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৪ ফেব্রুয়ারি ১০ ১৬:১৮:০৪
পাকিস্তানের নির্বাচনে যত সিট পেলেন ইমরান খান!

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেন। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, এসব নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসনে জয়ী হয়েছেন। তাদের প্রায় সবাই পিটিআই-এর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রায় ১০ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। নির্বাচনের কয়েকদিন আগে একের পর এক মামলার রায় দেওয়া হয়। দলীয় প্রতীক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও তার প্রচারণায় অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু পাকিস্তানের জনগণ এই প্রত্যাশার অভূতপূর্ব পুরস্কার দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পরিষদে, ইমরান খানের দল সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে। এর প্রার্থীরা তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান মুসলিম লীগ, নওয়াজ শরীফ এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে পরাজিত করে প্রথম আসনে জয়ী হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইমরানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি দল পিএমএল-এন এবং পিপিপির পিছু হটতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ দেশ পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর বড় প্রভাব রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী নওয়াজ শরিফ বলে বহুদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে ছিল গুঞ্জন। তবে সেই সেনাবাহিনীকেই টক্কর দিয়ে বেশি আসন জিতেছে ইমরান খান সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যা এবারের নির্বাচনে বড় চমক হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে, এ পথ এত সহজ ছিল না তাদের জন্য।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রতিটি নির্বাচনেই সেনাবাহিনীর পছন্দের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ইমরান খানের সামনেও অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। দলের অনেক নেতাও বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি। মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়িয়েছেন অনেক নেতা। বৈরী এই পরিস্থিতির মধ্যেও চমক জাগানো ফলের বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, কারাবন্দি ও আত্মগোপনে থেকেও ডিজিটাল মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন নেতারা।

পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে অনেকেই অজ্ঞাত স্থান থেকে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে জনসমর্থন আদায় করতে পেরেছেন ইমরান সমর্থকরা। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২৬৬টি আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এরমধ্যে পিটিআইয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৯৯টি আসন। আর নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ-এন (পিএমএলএন) জয় পেয়েছে ৭১টি আসনে। বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৫৩টি আসন।

এছাড়া অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ২৭টি আসন। একটি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার বাকি আরও ১৫ আসনের। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৫ আসনে (একটি স্থগিত) ভোটগ্রহণ হয় বৃহস্পতিবার। কোনো দলের সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪ আসন।

পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৩৩৬টি। এর মধ্যে ২৬৬ আসনে সরাসরি ভোট হয়। এ ছাড়া বাকি ৭০টি আসন সংরক্ষিত। এসব আসনের মধ্যে ৬০টি নারীদের ও ১০টি সংখ্যালঘুদের।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



রে