ঢাকা, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর–সুবিধা নিয়ে আসলো নতুন আইন

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৪ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৯:০০:৩৭
শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর–সুবিধা নিয়ে আসলো নতুন আইন

শিক্ষক ও এমপিও কর্মচারীদের বেতন ১০ শতাংশ কমানোর বিনিময়ে অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে আর্থিক সুবিধা ও পেনশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারক নাইমা হায়দার ও বিচারক কাজী জিনাত হকের প্যানেল আজ এ রুল জারি করেন।

এর আগে, প্রত্যেক শিক্ষক ও এমপিও কর্মচারীকে প্রতি মাসে তাদের মূল বেতন থেকে ৪% এবং তাদের সামাজিক পেনশন থেকে ২% কেটে নেওয়া হত। পরে, পেনশনের জন্য এটি ৬% এবং সামাজিক সুবিধার জন্য ৪% বৃদ্ধি করা হয়েছিল। ২০১৯ সালে, বিপ্লব কান্তি দাস সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৩১ জন শিক্ষক-কর্মচারী এই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা অবরুদ্ধ করার জন্য আবেদন করেছিলেন। একই বছরের ১৫ এপ্রিল প্রাথমিক শুনানিতে রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আপীলকারী ১০% ছাড়ের সুবিধা প্রদানের অনুমোদন চেয়ে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেছেন। ৩০ আগস্ট, ২০১৯-এ, সুপ্রিম কোর্ট শুনানির উপর একটি সম্পূরক রুল জারি করে। দিনের সমাপনী অধিবেশন শেষে রুলকে চূড়ান্ত (পরম) ঘোষণা করে রুল জারি করা হয়।

আদালতে রিট আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ মিয়া। একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসর সুবিধা বোর্ড এবং সমাজকল্যাণ তহবিলের পক্ষে আইনজীবী মামুন চৌধুরী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাস গুপ্তা।

রায়ের পর আবেদনকারীদের আইনজীবী মুহাম্মদ সিদ্দিকুল্লাহ বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ১০ শতাংশ কমানোর বিনিময়ে আনুপাতিক হারে আর্থিক সুবিধা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে কর্মরত শিক্ষকদের অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে আর্থিক অবসর সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরি করতেও বলা হয়।

২০১৯ সালের আগপর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে তাঁদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ (৪ শতাংশ অবসর ও কল্যাণ–সুবিধার জন্য ২ শতাংশ) কাটা হতো বলে জানান রিট আবেদনকারীদের এই আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ (অবসর সুবিধার জন্য ৬ শতাংশ ও কল্যাণ–সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ) করা হয়, যা ২০১৯ সালে কার্যকর হয়। অবসর ও কল্যাণ–সুবিধার টাকা পেতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু বেতন হতে অতিরিক্তি অর্থ কাটার বিপরীতে শিক্ষক–কর্মচারীদের জন্য বাড়তি কোনো আর্থিক সুবিধা রাখা হয়নি। এসব দিক তুলে ধরে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই রিট করা হয়।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী অবসর–সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের আইনজীবী মামুন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিক্ষক–কর্মচারীদের কাছ থেকে মূল বেতনের ১০ শতাংশ কাটার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে