ঢাকা, রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১

১০ বছর ধরে বিপিএলে ‘নিশ্চুপ’ সাকিব, আজ কি পারবেন গর্জে উঠবেন!

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৪ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১৫:৪৮:৪০
১০ বছর ধরে বিপিএলে ‘নিশ্চুপ’ সাকিব, আজ কি পারবেন গর্জে উঠবেন!

বিপিএলের ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের অবস্থান নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ৯ মৌসুমের মধ্যে ৪ টিতে একটি ভাল লিগ প্রিমিয়ার লিগে সাকিবের জন্য সবকিছুই বলে। এবারের বিপিএলে খারাপ শুরুর পর নিজের প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন তিনি। কিন্তু গল্পের মধ্যে গল্প আছে।

যদিও এটা সত্য যে সাকিব ৯ মৌসুমের মধ্যে ৪ টি আসরে সেরা হয়েছে, এটাও সত্য যে ২০১৩ সালের বিপিএল ফাইনালের পর থেকে সাকিব কখনোই বিপিএলে নকআউট পারফরম্যান্স করতে পারেননি। আজ বিপিএলের দ্বিতীয় বাছাইপর্বে নকআউট দিয়ে সাকিব কি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? অথবা "সত্য" আরও প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিপিএলের প্রথম আসরে নকআউট টুর্নামেন্টে খেলেছিলেন সাকিব। সেবার বিপিএল সেমিফাইনাল ফরম্যাটে খেলা হয়েছিল, প্লে অফ ফরম্যাটে নয়। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে খুলনার হয়ে ১৯২ রানের টার্গেটে ৪১ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাকিব।

তবে বল হাতে ৪ ওভারে ৪৫ রান খরচ করে ১ উইকেট নেন তিনি। সেই ম্যাচে খুলনা হেরে গেলেও সাকিবের নক সবার নজর কেড়েছিল। কারণ বোলিং শক্তিতে ঢাকা ছিল অনেক এগিয়ে। মোশাররফ বিন মুর্তজার সঙ্গে ছিলেন সেই সময়ের সেরা স্পিনার সাঈদ আজমল ও শহীদ আফ্রিদি।

সাকিব ২০১৩ সালে ঢাকার হয়ে খেলেন। ফাইনালে ব্যাট হাতে ২৯ বলে ৪১ রান করার পর বল হাতে ৩ ওভারে ২১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। সিলেটের বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে সাকিব ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন। যাইহোক, যেহেতু প্রথম কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়া দলগুলোকে ফাইনালে যাওয়ার আরেকটি সুযোগ দেয়, তাই এই ম্যাচটিকে নকআউট হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

২০১৩ মৌসুমের পর থেকেই নকআউট ম্যাচে সাকিব একেবারে নিষ্প্রভ। ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জেরে ২০১৪ সালে হয়নি বিপিএল। ২০১৫ সালে বিপিএল আবার ফেরার পর রংপুরের হয়ে খেলেন সাকিব। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ থাকা সাকিব দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে করেন ১০ বলে ১৩ রান। বল হাতে নেন ২৯ রানে ১ উইকেট। বরিশালের কাছে সেই ম্যাচে ৫ উইকেটে হেরে যায় রংপুর। ৯ বছর পর আবার আজ সেই বরিশালের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে রংপুর। পার্থক্য শুধু আগের বরিশালের নাম ছিল বরিশাল বুলস, এবার ফরচুন বরিশাল।

২০১৬ সালে সাকিব আবার ঢাকায় ফেরেন। চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁর দল। তবে ফাইনালে আবারও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন সাকিব, করেন ৭ বলে ১২। বল হাতে যদিও ৩০ রানে নেন ২ উইকেট।

২০১৭ বিপিএলেও ফাইনালে ওঠে সাকিবের ঢাকা। তবে রংপুরের বিপক্ষে সেই ফাইনালে সাকিব থাকেন দর্শক হয়ে। ক্রিস গেইলের সহজ ক্যাচ মিস করেন, পরে সেই গেইল অপরাজিত থাকেন ৬৯ বলে ১৪৬ রান নিয়ে। যেদিন গেইল খেলেন, সেদিন ম্যাচের ফল আর বলতে হয়! সেদিন ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব ব্যাট হাতে করেন ১৬ বলে ২৬।

২০১৮ সালেও সাকিব ছিলেন ঢাকার। সেবার এলিমিনেটরে সাকিব বল হাতে ৪ ওভার বল করে ১১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ব্যাট হাতে আউট হন প্রথম বলেই। সেই আসরে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বল হাতে ২৯ রানে ১ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে করেছিলেন ২০ বলে ২৩ রান। ফাইনালে তামিমের ৬১ বলে ১৪১ রানের ইনিংসের সামনে সাকিব আরও একবার নিষ্প্রভ। বল হাতে ৪৫ রানে ১ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে করেছিলেন মাত্র ৩।

২০২২ বিপিএলে আবারও ফাইনাল খেলেন সাকিব। সেবার ফরচুন বরিশালের হয়ে। সেই আসরে ব্যাট হাতে লিগ পর্বে টানা ৫ ফিফটি করা সাকিব ফাইনালে করেন ৭ বলে ৭ রান। বল হাতে ৩০ রানে নেন ১ উইকেট। হাতের মুঠো থেকে ম্যাচ বের হয়ে যায় বরিশালের। ২০২৩ সালে বরিশালের হয়ে এলিমিনেটরে সাকিব ব্যাটিংয়েই নামেননি। তবে বল হাতে ২৭ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট।

এবারের বিপিএলে কুমিল্লার বিপক্ষে প্রথম কোয়ালিফায়ারে সাকিব আউট হয়েছেন মাত্র ৫ রান করে। দল হিসেবেও রংপুর হেরেছে টানা দুই ম্যাচে। আজ বাঁচা–মরার লড়াই। সেটা বরিশালের বিপক্ষে। নানা ঘটনার পরিক্রমায় যে ম্যাচ তাঁর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন লড়াইয়েই নাকি সেরাদের সেরাটা বের হয়ে আসে। আজ কি সাকিবও তাঁর সেরাটা দেবেন? ফিরে আসবে ২০১২-১৩ বিপিএলের সাকিব? নাকি আরও একবার...

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে