ঢাকা, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১

২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের যে ভুল স্বীকার করে আক্ষেপ আম্পায়ার এরাসমাসের

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৪ এপ্রিল ০২ ১৫:১৬:২১
২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের যে ভুল স্বীকার করে আক্ষেপ আম্পায়ার এরাসমাসের

২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা ভক্ত সমর্থকদের অনেক দিন মনে থাকবে। নাঠকীয়ভাবে সেই বিশ্বকাপে জয় পায় ইংল্যান্ড। সেই ফাইনালে একটা বল রান নেয়ায়র বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে ফোর হয়ে যায়। পরে ভুল করে ৬ রান দিয়ে দেয় আম্পায়াররা। তবে সে ম্যাচের আরেকটি ‘ভুল’ নিয়ে আক্ষেপটা বেশি আম্পায়ার মারাই এরাসমাসের।

সদ্য সমাপ্ত অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট দিয়ে অবসরে গেছেন দক্ষিণ আফ্রিকান এ আম্পায়ার। এরপর এলিট প্যানেলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এসেছেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ।

২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আইসিসির এলিট প্যানেলে থাকা এরাসমাস তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মাঠে থেকে পরিচালনা করেছেন পুরুষদের ৮২টি টেস্ট, ১২৪টি ওয়ানডে ও ৪৩টি টি-টোয়েন্টি। পাশাপাশি ১৮টি নারী টি-টোয়েন্টির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনবারের বর্ষসেরা এ আম্পায়ার। বর্ণিল ক্যারিয়ারে বিতর্কিত ম্যাচও দেখেছেন বেশ কয়েকটি।

সর্বশেষ অ্যাশেজে জনি বেয়ারস্টোর সেই স্টাম্পিংয়ের ঘটনার সময় টেলিভিশন আম্পায়ার ছিলেন এরাসমাস। বিশ্বকাপে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইমড আউট হয়েছিলেন বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচে, সেবার মাঠেই ছিলেন এরাসমাস। ২০১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে লর্ডসে কুমার ধর্মসেনার সঙ্গে অন ফিল্ড দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তর্ক সাপেক্ষে ইতিহাসের সেরা ওই ওয়ানডেতে মনে রাখার মতো ঘটনা কম নেই। তবে মার্টিন গাপটিলের করা থ্রো ডাবলস নেওয়ার পথে ডাইভ দেওয়া স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার, সেটিও আবার যখন ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩ বলে ৯ রান—অদ্ভুত না বলে উপায় নেই। যদিও পরে জানা যায়, গাপটিল যখন থ্রো করেন, স্টোকস ও আদিল রশিদ সে মুহূর্তে ২ রান নেওয়ার পথে একে অন্যকে অতিক্রম করেননি বলে আদতে হওয়ার কথা ছিল ৫ রান। আম্পায়াররা ভুল করে দিয়েছিলেন ৬ রান। যে ম্যাচ টাই হয়েছিল, সুপার ওভার টাই হয়েছিল, সে ম্যাচে ভুল করে ১ রান বেশি দেওয়ার প্রভাবটা বেশ বড়ই।

পরদিন সকালে নাশতা করতে যাওয়ার আগে ধর্মসেনার মুখেই প্রথম ওই ভুলের কথা শোনেন এরাসমাস, তার আগপর্যন্ত মাথাতেই নাকি আসেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এরাসমাস বলেছেন, ‘মাঠে আমরা শুধু বলছিলাম ৬ রান। একে অন্যকে বলছিলাম, ‘৬, ৬, ৬’। তবে (থ্রো করার সময়) তারা যে একে অন্যকে অতিক্রম করেনি, সেটি ধরা পড়েনি।’

তবে ওই সিদ্ধান্তের চেয়েও এরাসমাসের আক্ষেপটা রস টেলরকে এলবিডব্লু দেওয়াতে। পরে বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গিয়েছিল, মার্ক উডের বলটি মিস করে যেত টেলরের স্টাম্প। তবে তার আগেই রিভিউ খরচ করে ফেলায় এরাসমাসের সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগ ছিল না। ওই সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে তাকিয়ে এরাসমাস বলেছেন, ‘পুরো সাত সপ্তাহে আমার একমাত্র ভুল ছিল সেটি। এরপর অনেক হতাশ হয়েছি। কারণ, ভুল না করেই বিশ্বকাপটা পার করে দিতে পারলে দারুণ হতো। অবশ্যই এটা ম্যাচেও প্রভাব ফেলেছিল, সে তাদের শীর্ষ সারির ব্যাটসম্যান ছিল।’

এ কারণে কোনো দল অযথা রিভিউ খরচ করে ফেললে তাতে হতাশ হন এরাসমাস। কারণ, ‘এরপর আর ভুল শোধরানোর সুযোগ থাকে না। আপনার ভুল ম্যাচে প্রভাব ফেলবে, তা তো জানা কথাই। হয়তো এটা আম্পায়ারিংয়ের প্রাচীন পন্থা। তবে আগে লেগ সাইডে কারও ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ হলো কি না, সেটি সব সময় প্রমাণ করার উপায় ছিল না। হয়তো আপনি সঠিক সিদ্ধান্তই দিয়েছেন, কিন্তু সেটিও তো প্রমাণ করার উপায় ছিল না।’

প্রযুক্তির ব্যবহারকে সব সময় স্বাগত জানালেও এর ওপর অতি নির্ভরশীলতাও পছন্দ নয় এরাসমাসের। কোনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ওয়াইড বা নো বলে রিভিউ রাখা নিয়ে এরাসমাসের মন্তব্য, ‘একটু দুঃখজনক। খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার জন্য তাদের একজন মানুষকে দরকার। তবে অনেক কিছুই আসলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় হক-আইয়ের ছেলেরাই।’

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে