Alamin Islam
Senior Reporter
মেসি-ইয়ামাল লড়াই কি কাতার থেকে সরছে? ফিনালিসিমা নিয়ে নতুন নাটক
ফুটবল বিশ্বের দুই শ্রেষ্ঠ শক্তি—ইউরোপ সেরা স্পেন এবং লাতিন আমেরিকার সম্রাট আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের অধীর প্রতীক্ষা এখন এই দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের লড়াই ‘ফিনালিসিমা’ দেখার। তবে আন্তর্জাতিক সূচির ব্যস্ততা আর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বারবার হোঁচট খাচ্ছে এই মহোৎসব। বিশেষ করে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের দুই প্রজন্মের আইকন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালকে একই পিচে দেখার রোমাঞ্চ আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
কাতার কেন ঝুঁকিপূর্ণ?
পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২৭ মার্চ কাতারের নান্দনিক লুসাইল স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল এই মহারণ। কিন্তু ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান সংঘাতের ছায়া পড়েছে ফুটবল মাঠেও। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আপাতত সব ধরনের ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট স্থগিত ঘোষণা করেছে। ফলে দোহার মাঠে ফিনালিসিমা আয়োজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঘরের মাঠ না কি নিরপেক্ষ ভেন্যু?
ম্যাচটি কাতার থেকে সরিয়ে নেওয়ার আলোচনা শুরু হতেই ভেন্যু নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন দরকষাকষি। স্প্যানিশদের পক্ষ থেকে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিপরীতে নিজেদের মাঠে ম্যাচটি আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাও। তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (কনমেবল) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো দলের মাঠেই খেলতে রাজি নয়। স্কালোনির শিষ্যদের যেন প্রতিপক্ষের সমর্থকদের চাপে পড়তে না হয়, তাই একটি ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’ খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছে তারা।
ইতালির মিলান না কি পর্তুগালের লিসবন?
ইতালিয়ান ক্রীড়া দৈনিক ‘লা গ্যাজেটা দেলো স্পোর্ট’-এর দাবি অনুযায়ী, ফুটবল ভক্তদের জন্য নতুন গন্তব্য হতে পারে ইউরোপের দুই শহর—মিলান অথবা লিসবন। পর্তুগালের রাজধানী লিসবন লজিস্টিক সাপোর্টের দিক থেকে বেশ শক্তিশালী, যা ২০২০ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল আয়োজনের সময় প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, ইতালির মিলানে অবস্থিত সান সিরো স্টেডিয়ামের গাম্ভীর্য এবং সেখানে শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
নেপথ্যে জটিল চুক্তির সমীকরণ
ভেন্যু বদলানো কেবল মাঠের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে বাণিজ্যিক নানা দিকও। স্প্যানিশ ফুটবল প্রধান রাফায়েল লুজান জানিয়েছেন, উয়েফা ও কনমেবলের সাথে একটি কোম্পানির ছয়টি ম্যাচের প্যাকেজ চুক্তি রয়েছে। দোহায় আর্জেন্টিনা বনাম স্পেন ছাড়াও মিশর, সৌদি আরব ও সার্বিয়ার মতো দলগুলোর ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। লুজানের মতে, "এটি একটি বিশাল প্যাকেজের অংশ। কাতার ও সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি আমাদের পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে, তবে এই সমস্যাটি আমাদের সবার।"
উয়েফার সবুজ সংকেতের অপেক্ষা
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, তারা নিয়মিত স্থানীয় আয়োজকদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। দোহা যদি শেষ পর্যন্ত ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবেই বিবেচিত হয়, তবে পুরো আয়োজনটি ইউরোপের কোনো একটি নিরাপদ শহরে সরিয়ে নেওয়া হবে, যাতে দুই দলের ফুটবলাররা কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি ছাড়াই মাঠের লড়াইয়ে মনোযোগ দিতে পারেন।
এখন ফুটবল বিশ্বের নজর উয়েফা ও কনমেবলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে— শেষ পর্যন্ত কোথায় বসবে মেসি-ইয়ামালদের এই মহাযুদ্ধের আসর?
তানভির ইসলাম/
পাঠকের মতামত:
আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ
- শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মধ্যেই সাকিবের বাড়িতে আগুন
- দুই মিনিটের রাস্তা পেরোতেই লাগল ১৫ মিনিট, বাঁচানো গেল না সেই নবজাতককে
- সৌদিতে ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তরের আসল নিয়ম
- আজ দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম
- বিল নিয়ে ফেসবুকে ঝড় তুললেন আজহারি, জবাব দিল বিদ্যুৎ বিভাগ
- লিটনকে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের নতুন পরিকল্পনা
- আগামী ৪ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় সতর্কবার্তা
- ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি
- Diego Simeone নতুন চ্যালেঞ্জ প্রস্তুতিতে অ্যাটলেটিকো
- ভবন নির্মাণে নতুন নিয়ম: বাংলাদেশ building code যা মানতে হবে
- আগামীকালই স্পষ্ট হবে এসএসসি ফল প্রকাশের তারিখ
- শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা
- লাফিয়ে বাড়ল স্বর্ণের দাম, এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড
- বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন সজীব ওয়াজেদ জয়
- ২ লাখ মানুষ অপেক্ষায়, কিন্তু দেখা গেল না শেখ হাসিনাকে! এরপর যা ঘটল...