ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চোখের ছানি কেন হয়? কোরআনের আয়াত ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেটনিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৪:২৫:৪১
চোখের ছানি কেন হয়? কোরআনের আয়াত ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া অনেকের কাছে শুধু চোখের একটি শারীরিক সমস্যা মনে হলেও এর প্রভাব মানুষের পুরো জীবনযাত্রায় পড়তে পারে। চোখের ছানি বা ক্যাটার্যাক্টের কারণে একজন মানুষ যেমন স্বাভাবিকভাবে দেখার ক্ষমতা হারাতে পারেন, তেমনি দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সঙ্গে মানসিক চাপ, একাকিত্ব ও বিষণ্নতার সম্পর্কও নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন তাদের দৈনন্দিন কাজ, সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

চোখের সমস্যা ও মানুষের শারীরিক-মানসিক অবস্থার এই সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা ইউসুফের ৮৪ নম্বর আয়াতের ঘটনাটিও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সেখানে নবী ইয়াকুব (আ.)-এর গভীর শোক এবং সেই শোকের প্রভাবে তাঁর চোখের পরিবর্তনের কথা বর্ণনা করা হয়েছে।

ছানি পড়লে চোখে কী ধরনের পরিবর্তন হয়

চোখের ভেতরে থাকা স্বচ্ছ লেন্স যখন ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক স্বচ্ছতা হারিয়ে ঘোলাটে হয়ে যায়, তখন এই অবস্থাকে ছানি বা ক্যাটার্যাক্ট বলা হয়।

এই সমস্যার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আলোতে অস্বস্তি, স্বাভাবিক কাজ করতে সমস্যা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নানা ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে।

সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের ছানির সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে এর প্রভাব কেবল দেখার ক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘ সময় দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগলে অনেক মানুষ অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে।

দৃষ্টিশক্তি কমার সঙ্গে মানসিক অবস্থার সম্পর্ক

দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় থাকা মানুষের জীবনে নানা পরিবর্তন আসে। নিজের কাজ নিজে করতে না পারা, চলাফেরায় সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাওয়ার কারণে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

গবেষণায় দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে চোখের সমস্যার কারণে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে, যা বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সূরা ইউসুফের ৮৪ নম্বর আয়াতে চোখের প্রসঙ্গ

পবিত্র কোরআনের সূরা ইউসুফের ৮৪ নম্বর আয়াতে নবী ইয়াকুব (আ.)-এর শোকের একটি হৃদয়স্পর্শী ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে।

নবী ইউসুফ (আ.)-কে হারানোর কষ্টে তিনি এত গভীরভাবে শোকাহত হয়েছিলেন যে, অতিরিক্ত কান্নার কারণে তাঁর চোখ সাদা হয়ে যাওয়ার কথা আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আয়াতের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনেকে দীর্ঘস্থায়ী শোক, কান্না এবং চোখের পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানেও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মানুষের শরীরের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

তবে সূরা ইউসুফের ওই আয়াতে উল্লেখ করা চোখের অবস্থাকে সরাসরি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘ক্যাটার্যাক্ট’ বা ছানি হিসেবে নিশ্চিত করার মতো নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে—এমন দাবি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন মানসিক যত্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্ক কোনো ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকলে বিষয়টিকে শুধু চোখের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তার মানসিক অবস্থা এবং সামাজিক জীবনের পরিবর্তনের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

সময়মতো চোখ পরীক্ষা করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা পাওয়া একজন দৃষ্টিশক্তি সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ ধরে রাখাও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সূরা ইউসুফের এই আয়াত মানুষের গভীর শোক ও তার শারীরিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা হিসেবে বিবেচিত হয়। আর চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ও মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক একটি আলাদা গবেষণার বিষয়।

তাই চোখের ছানি বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াকে শুধু চোখের একটি রোগ হিসেবে না দেখে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আল-মামুন/

পাঠকের মতামত:

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ